Advertisement
E-Paper

সাজা ঘোষণার আগে আবার শুনানি আজ

কামদুনি-কাণ্ডের রায় ঘোষণা করে কলকাতার নগর দায়রা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সঞ্চিতা সরকার কাঠগড়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হল তাদের শাস্তির মেয়াদ কী হবে তা জানানো হবে শুক্রবার।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০১৬ ০৩:২৬

কামদুনি-কাণ্ডের রায় ঘোষণা করে কলকাতার নগর দায়রা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক সঞ্চিতা সরকার কাঠগড়ার দিকে তাকিয়ে বললেন, যাদের দোষী সাব্যস্ত করা হল তাদের শাস্তির মেয়াদ কী হবে তা জানানো হবে শুক্রবার। তার আগে দোষীরা আদালতে নিজেদের বক্তব্য জানানোর সুযোগ পাবে। এটাই দস্তুর।

বিচারকের কথা শুনেই অভিযুক্তদের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি, রাজদীপ বিশ্বাস ও সঞ্জীব দাঁ একসঙ্গে উঠে দাঁড়ালেন। আদালতকে জানালেন, শাস্তির মেয়াদ নির্ধারণের আগে সেই বিষয়ের উপর আলাদা করে শুনানি চান তাঁরা। ফিরোজ জানান, এর জন্য কমপক্ষে সাত দিনের প্রস্তুতি দরকার। প্রতিবাদ করেন সরকারি কৌঁসুলি দীপক ঘোষ ও অনিন্দ্য রাউত। তাঁরা আদালতকে জানান, শাস্তির মেয়াদের উপর শুনানির জন্য এত দিন ধার্য করা ঠিক হবে না। বিচারকের কাছে অনিন্দ্য রাউতের অনুরোধ, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেই শুনানি শুরুর নির্দেশ দিন।

বিচারক জানিয়ে দিলেন তিনি শুক্রবারই অভিযুক্তদের আইনজীবীর বক্তব্য শুনবেন। তারপরে সরকারি আইনজীবীর কোনও বক্তব্য থাকলে তা-ও শোনা হবে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে তারপরেই সাজা ঘোষণা করবেন তিনি। হয় শুক্রবার, না হলে শনিবার। বিচারকের এ হেন নির্দেশে কামদুনির মানুষ এবং আদালতের সামনে ‘অভিযুক্তদের ফাঁসি চাই’ বলে যাঁরা স্লোগান দিচ্ছিলেন তাঁরা খুশি হতে পারেননি। এক বিক্ষোভকারীর বক্তব্য, ‘‘আমরা সবাই অভিযুক্ত আট জনেরই ফাঁসি চাইছিলাম।

Advertisement

কিন্তু তা হল না। এখন আবার দোষীদের শাস্তি ঘোষণার সময়ও পিছিয়ে দেওয়া হল!’’

আদালত চত্বরে আসা এক বিক্ষোভকারীর মন্তব্য, ‘‘এই মামলায় আগাগোড়াই প্রশাসন অভিযুক্তদের পিছনে দাঁড়িয়েছে। তাদের পরিবারের লোকেদের সরকারি গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নবান্নে। অথচ আমরা যাঁরা দ্রুত তদন্ত শেষ করার দাবি নিয়ে নবান্ন অভিযান করেছিলাম, তাদের পুলিশ নামিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। আদালতও অভিযুক্তদের আইনজীবীর কথা মেনে নিল!’’

কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবীরা জানাচ্ছেন, এ দিন নগর দায়রা আদালতের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক অভিযুক্ত পক্ষকে কোনও বাড়তি সুযোগ দেননি। আইনের মধ্যে থেকেই তিনি এই পদক্ষেপ করেছেন। সাধারণত দোষী সাব্যস্ত করার দিন বা তার পরের দিন সাজা ঘোষণা হয়ে থাকে। কিন্তু তার ব্যতিক্রমও আইনসিদ্ধ। কামদুনির ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী অরুণাভ

ঘোষ বলেন, ‘‘এটা কোনও নজিরবিহীন ঘটনা নয়। শাস্তির মেয়াদ কমানোর জন্য শুনানির আবেদন করা যেতেই পারে। ভারতীয় ফৌজদারি দণ্ডবিধির ২৩৫ (২) ধারায় এটা করাই যায়।’’ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের কাছেও এই ঘটনা খুবই স্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘অপরাধ স্বীকার করার পরেও শাস্তির মেয়াদ কমানোর জন্য আবেদন করা যেতে পারে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy