E-Paper

খালের জলে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণের গন্ধে অস্থির বাসিন্দারা, নেই ছাড়পত্র

সেচ দফতর সূত্রের খবর, দু’-তিন মাস আগে নয়াবাদ এলাকা থেকে স্থানীয় মানুষ সেচ দফতরের কাছে এই মর্মে অভিযোগ করেন যে, কারখানা থেকে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণের জল খাল এবং স্থানীয় জলাজমিতে ফেলা হচ্ছে বহু দিন ধরে।

প্রবাল গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১০:৫৪

—প্রতীকী চিত্র।

চিংড়ির প্রক্রিয়াকরণের পরে খালে জল ফেলতে হলে সেচ দফতরের ছাড়পত্র নিতে হবে একাধিক সংস্থাকে। কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াবাদ এলাকায় রয়েছে সরকারি সংস্থা-সহ একাধিক সংস্থার চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণেরকারখানা। সেই সব কারখানা থেকে খাল এবং আশপাশের জলাভূমিতে পড়ে প্রক্রিয়াকরণে ব্যবহৃত জল। সেই জলের গুণগত মান যাচাই না করা পর্যন্ত কারখানার উল্টো দিক দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে ওই সবসংস্থাকে জল ফেলতে নিষেধ করেছে সেচ দফতর। চলতি মাসে ওই সব জায়গা সেচ দফতর ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের পরিদর্শন করার কথাও রয়েছে।

সেচ দফতর সূত্রের খবর, দু’-তিন মাস আগে নয়াবাদ এলাকা থেকে স্থানীয় মানুষ সেচ দফতরের কাছে এই মর্মে অভিযোগ করেন যে, কারখানা থেকে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণের জল খাল এবং স্থানীয় জলাজমিতে ফেলা হচ্ছে বহু দিন ধরে। দুর্গন্ধে তাঁদের বসবাস করাই দায় হয়ে উঠেছে। অভিযোগ পেয়ে সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া-সহ সেচ দফতরের একাধিক আধিকারিক নয়াবাদে যান।সেখানে এলাকার মানুষ মন্ত্রীর কাছে সরাসরি খাল থেকে মাছের দুর্গন্ধ ছড়ানো নিয়ে অভিযোগ জানান। এর পরে নড়ে বসে সেচ দফতরও। তার পরেই খালে জল ফেলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

কারখানা, আবাসন কিংবা যে কোনও প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য জল সরাসরি খালে ফেলতে হলে সেচ দফতরের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।কারণ, বর্জ্য জলের দূষণ থেকে খালের জীববৈচিত্রের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণের ওই কারখানাগুলি খালে জল ফেলার জন্য তাদের থেকে কোনও অনুমতি নেয়নি বলে অভিযোগসেচ দফতরের। যে কারণে সেচ দফতরকে পরিবেশ দফতরের সঙ্গে যৌথ ভাবে নয়াবাদের ওই সমস্যার সমাধানসূত্র বার করতে নির্দেশ দিয়েছেন সেচমন্ত্রী।

আধিকারিকেরা জানান, চলতি মাসেই নয়াবাদে কারখানাগুলি পরিদর্শন করে সেগুলিরদূষণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। পরিবেশ দফতর সন্তুষ্ট হলে তবেই খালে জল ফেলার অনুমতি দেওয়া হবে।

মানস বলেন, ‘‘এ ভাবে খালে জল ফেলায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারি কারখানা থেকে সমস্যা কম হচ্ছে। বেসরকারি কারখানাগুলির সমস্যা বেশি। আমি আমার দফতরকে বলেছি, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করতে।’’

যদিও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা গেল, স্থানীয় সুতি খালে চিংড়ির কারখানার দিক থেকে জল এসে পড়ছেই। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই খালে এবং কারখানার পিছনে থাকা একটি বড় জলাজমিতে চিংড়ির কারখানা থেকে জল পড়ে। গরমকালে দুর্গন্ধ বেশি ছড়ায়। কোনও কারণে হাওয়া দিলে মাছের গন্ধ ঘরেও ঢুকে আসে। বিশেষত, মার্চ মাস থেকে যখন চিংড়ির প্রক্রিয়াকরণের মরসুম শুরু হয়, তখন দুর্গন্ধে রাস্তায় দাঁড়ানো যায় না।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, কারখানা কর্তৃপক্ষকে এ নিয়ে একাধিক বার বলা সত্ত্বেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। সেচ দফতরেরআধিকারিকেরা জানিয়েছেন, কারখানাগুলির ভিতরে জল পরিশোধন ব্যবস্থার বেশ কিছু ত্রুটি রয়েছে। যেগুলি অবিলম্বে ঠিক করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, জল নিকাশি ব্যবস্থা উন্নত করার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এক আধিকারিক জানান, কারখানার ভিতরে চিংড়ি প্রক্রিয়াকরণের জল পরিশোধিত হয়ে এসে খালেই পড়বে। অন্যত্র কোথাও তা ফেলা যাবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে জলের গুণগত মান পরীক্ষা করে ছাড়পত্র দিতে হবে। তার পরে সেচ দফতর কারখানাগুলিকে জল ফেলার ছাড়পত্র দেবে।

ওই চত্বরে একটি সংস্থার দশটি কারখানা রয়েছে। তার মধ্যে একটি কারখানার তরফে জানানো হয়েছে, দুর্গন্ধ ছড়ানোর অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে সেচ দফতর যে তাদের জল শোধন ব্যবস্থা উন্নত করতে পরামর্শ দিয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন কারখানা কর্তৃপক্ষ।

ওই কারখানায় গিয়ে জানা গেল, দূষিত জলের ট্রিটমেন্ট প্লান্ট উন্নত করা হয়েছে। একটি কারখানার মালিক বলেন, ‘‘চলতি মাসে পরিদর্শন করবে সেচ দফতর। আমরা ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ করছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Canal KMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy