নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করল স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি)। ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি) প্রার্থীদের জন্য সেখানে আলাদা করে কোনও ব্যবস্থা রাখা হয়নি। জেনারেল প্রার্থীদের মতোই এখন তাঁদের চাকরির জন্য আবেদন করতে হবে। এসএসসির তরফে জানানো হয়েছে, আদালতে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলে তখনই আবেদনপত্রে ওবিসি তালিকভুক্ত প্রার্থীরা ‘জাতি’ জানিয়ে আবেদন করতে পারবেন।
তফসিলি জাতি ও জনজাতিদের জন্য এসএসসির চাকরির পরীক্ষার আবেদনপত্রের দাম ২০০ টাকা। জেনারেল প্রার্থীদের পোর্টালে গিয়ে আবেদনপত্র পূরণ করতে হলে দিতে হবে ৫০০ টাকা। এখন ওবিসিদেরও ওই একই টাকা দিতে হবে। এসএসসি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁদের আবেদনপত্রের মূল্যে ছাড় দেওয়া হয়নি। ওবিসি মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার পর এসএসসি ফের আবেদনপত্রের নতুন ‘উইন্ডো’ চালু করবে। সেখানে গিয়ে ওবিসি প্রার্থীদের নিজেদের জাতির ক্যাটেগরি পূরণ করতে হবে। যাঁরা ইতিমধ্যে জাতি উল্লেখ করে আবেদন করে ফেলেছেন, পরবর্তী কালে হাই কোর্ট বা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বার হলে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে। মঙ্গলবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়েছে এসএসসি।
এসএসসির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এখন সকলেই আবেদন পূরণ করুন। বিষয়টি কোর্টে বিচারাধীন। আদালতে যা সিদ্ধান্ত হবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। নয়তো ওবিসিদের জন্য সাত শতাংশ সংরক্ষণই থাকবে। এখন ওবিসিদের জন্য আবেদনপত্রের মূল্যে ছাড় নেই। অনেকেরই প্রশ্ন, ওবিসি হয়ে যে সুযোগ পেতেন, সেটা পাবেন কি না। কোর্টের সিদ্ধান্ত এলে সেটা নিয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হবে। সোমবার এসএসসির আবেদনের পোর্টাল বন্ধ ছিল। এসএসসির তরফে জানানো হয়েছে, এই আপগ্রেডেশনের কারণেই বন্ধ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার পোর্টাল আবার চালু হয়েছে।
২০১০ সালের আগে মোট ৬৬টি জনগোষ্ঠীকে ওবিসি বলে ঘোষণা করা হয়। অমুসলিম জনগোষ্ঠী ছিল ৫৪টি এবং মুসলিম ১২টি। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ২০১০ সালের পর থেকে যাদের ওবিসি-তে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তাদের শংসাপত্র বাতিল হয়েছে। তবে শংসাপত্র বাতিল মামলার শুনানিতে রাজ্যের বক্তব্য ছিল, ওবিসি মামলার জন্য কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে নিয়োগপ্রক্রিয়া, সব আটকে রয়েছে। আদালত জানায়, এমন সমস্যা হওয়ার কথা নয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ২০১৬ সালের এসএসসিতে নিয়োগের পুরো প্যানেল বাতিল করল সুপ্রিম কোর্ট। বলল, পুরো প্রক্রিয়ায় কারচুপি করা হয়েছে। ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।
- এসএসসি-র শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কলকাতা হাই কোর্ট এই সংক্রান্ত শুনানির পর ২০১৬ সালের সম্পূর্ণ নিয়োগপ্রক্রিয়াই বাতিল করে দিয়েছিল।
- রাজ্যের ২৬ হাজার চাকরি (আদতে ২৫,৭৫২) বাতিল করে প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে নতুন নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।
-
৭,২৯৩ জন দাগিরই পুরো তালিকা প্রকাশ করতে হবে! গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি মামলায় এসএসসি-কে নির্দেশ হাই কোর্টের
-
নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে ‘দাগিদের’ বাদ দেওয়ার রায়কে চ্যালেঞ্জ, ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য এবং এসএসসি
-
আদালত অবমাননার আশঙ্কা, তাই নির্দেশ মতো পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি আইনি লড়াই চলবে, বললেন মমতা
-
উত্তরপত্রে কারচুপি থাকলে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না, ‘অযোগ্য’দের আর্জি খারিজ করে জানাল সুপ্রিম কোর্ট
-
থানায় হাজিরা দিতেই হবে দুই চাকরিহারা শিক্ষককে! বিকাশ ভবনের সামনে লোকসংখ্যাও কমাতে হবে, বলল হাই কোর্ট