মুকুল রায় তৃণমূলে ফিরে যাওয়ায় ন্যাড়া হতে চেয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হল না। সংবাদমাধ্যমে সৌমিত্রের ওই ‘দাবি’ জানার পরেই রাজ্যের এক শীর্ষ নেতা তাঁকে ফোন করে এমনটা করতে বারণ করেন। রাজ্য বিজেপি-র এক নেতা জানিয়েছেন, ‘‘অতীতে এক বার একই কাণ্ড ঘটিয়ে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন সৌমিত্র। এ বার আর যাতে সেটা না হয় সেই বিষয়ে সতর্ক ছিল দল। তাই নেতৃত্বের পক্ষ থেকেই তাঁকে ফোনে বারণ করা হয়।’’ যদিও সৌমিত্রর বক্তব্য, ‘‘দলের নির্দেশ নয়, আমার বাবা-মা এখনও জীবিত। সেই অবস্থায় ন্যাড়া হওয়া ঠিক নয় বলে বাবা আপত্তি করেন। তাই ঘোষণা করলেও আমি ন্যাড়া হইনি।’’
গত শুক্রবার তৃণমূলে ফেরেন মুকুল। তার পরেই সৌমিত্র বলেন, ‘‘মোদীজিকে সঙ্গে নিয়ে সোনার বাংলা তৈরির অঙ্গীকার নিচ্ছি। বাংলার রাজনীতিতে তিনি মীরজাফর। আমি মনে করি উনি মৃত। আগামিকাল সকালে আমি মস্তক মুণ্ডন করব।’’ সৌমিত্রের শুক্রবারের ঘোষণা মতো শনিবারই মাথা কামিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু সোমবার পর্যন্ত তিনি ন্যাড়া হননি। গত বুধবার থেকেই দিল্লিতে রয়েছেন সৌমিত্র। আনন্দবাজার ডিজিটালকে সোমবার তিনি টেলিফোনে বলেন, ‘‘বলেছিলাম ঠিকই। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঠিক করেছি ন্যাড়া হব না।’’
২০২০ সালে ঠিক একই রকম প্রতিশ্রুতি দিয়ে কথাও রেখেছিলেন সৌমিত্র। সে বার শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার মাথা মুণ্ডন করে বিষ্ণুপুরে ষাঁড়েশ্বর মহাদেবের পুজো ও যজ্ঞ করেছিলেন সৌমিত্র। যুবমোর্চার কর্মীদের হাতে হাতে ত্রিশূল তুলে দেওয়াও শুরু করেন। তিনি জানিয়েলেন, ৯০ হাজার ত্রিশূল বিলি করবেন। তবে বিজেপি সৌমিত্রকে সমর্থন করেনি। পরে সেই কর্মসূচি বাতিল হয়ে যায়।