Advertisement
E-Paper

সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্মার্ট মিটার নির্দেশিকা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সমস্ত সরকারি বিভাগ ও প্রশাসনিক প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছে যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন এবং সরকারি অনুদান বা বেতনপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ‘স্মার্ট মিটার’ বসানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৩:৩৬
State Government Employees Coordination Committee files a case in the Calcutta High Court regarding the directive on smart meters for government employees’

—প্রতীকী ছবি।

রাজ্যে স্মার্ট বিদ্যুৎ মিটার বসানোকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এ বার গড়াল আদালতে। সিপিএম সমর্থিত সরকারি কর্মচারীদের সংগঠন কো- অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে কলকাতা হাই কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২৩ জুন, ২০২৬ তারিখে হাইকোর্টের একক বেঞ্চে এই মামলার প্রথম শুনানি হতে চলেছে। সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার সমস্ত সরকারি বিভাগ ও প্রশাসনিক প্রধানদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, কর্পোরেশন এবং সরকারি অনুদান বা বেতনপ্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের আবাসে বিদ্যুৎ ব্যবহারের জন্য ‘স্মার্ট মিটার’ বসানোর প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

হাই কোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার কো- অর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে এই রিট পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে। মামলাটি শুনানির জন্য নথিভুক্ত হয়েছে বিচারপতি অমৃতা সিন্‌‌হার এজলাসে। মামলাকারী সংগঠনের পক্ষে সওয়াল করবেন আইনজীবী সাগরিকা গোস্বামী। এই মামলায় রাজ্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পার্টি করা হয়েছে। আদালতের কার্যতালিকায় মামলাটিকে ‘নিউ মোশন’ বা নতুন আবেদন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

আইনি পরিভাষায় মামলাটি ‘ম্যান্ডামাস’ বা পরমাদেশ সেকশনের অধীনে দায়ের করা হয়েছে। এর অর্থ, সরকারি কর্তৃপক্ষ যাতে আইন মেনে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত করে কাজ করেন, আদালতের কাছে সেই নির্দেশ জারির আবেদন জানানো হয়েছে। আদালতের স্ক্রুটিনি বা প্রাথমিক পরীক্ষাপর্বে মামলার সমস্ত আপত্তি ইতিমধ্যেই নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

২৩ জুন বিচারপতি অমৃতা সিন্‌‌হার এজলাসে এই মামলার শুনানির দিকে এখন তাকিয়ে রয়েছে সব পক্ষ। স্মার্ট মিটার নিয়ে রাজ্য সরকারের নীতি বা মিটার বসানোর প্রক্রিয়ায় আদালত কোনও হস্তক্ষেপ করে কি না, কিংবা বিদ্যুৎ গ্রাহকদের স্বস্তি দিতে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় কি না—তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কো- অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী বলেন, ‘‘রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যখন বিরোধী দলনেতা ছিলেন, তখন তিনিই এই স্মার্ট মিটার বসানোর বিরোধিতা করেছিলেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কেন নির্দেশিকা জারি করে সরকারি কর্মচারীদের ওপর স্মার্ট মিটার বসানোর জন্য জোর দেওয়া হচ্ছে? আইনত কি কোনও রাজ্য সরকার এই ধরনের নির্দেশ দিতে পারে? সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে মহার্ঘ ভাতা থেকে বঞ্চিত। আরও অনেক বিষয় আছে যেগুলো রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত থেকেছে। তাই আমরা বলপূর্বক এই নির্দেশিকার বিরুদ্ধে বিচার পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।’’ আরও এক বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘আমরা মনে করি জোর করে শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের উপর স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। স্মার্ট মিটার যদি সত্যি ভাল হত, তাহলে মানুষ এমনিতেই সাদরে গ্রহণ করত। এর ভাল দিকের চেয়ে খারাপ দিক বেশি। তাই আমরা চাপিয়ে দেওয়া পছন্দ করছি না।’’

Smart Meter State Government Employees Calcutta High Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy