Advertisement
E-Paper

বেলডাঙাকাণ্ড: দীর্ঘ টানাপড়েনের পর কেস ডায়েরি হস্তান্তরের নির্দেশ, সাত অভিযুক্তকে হেফাজতে পেল এনআইএ

ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৬
State police agrees to hand over case diary to NIA on Beldanga case

বেলডাঙার অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্তদের ৭ দিনের এনআইএ হেফাজত মঞ্জুর করল আদালত। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

দীর্ঘ টানাপড়েনের পর অবশেষে নগদ ও দায়রা আদালতের নির্দেশে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (এনআইএ) বেলডাঙাকাণ্ডের কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে রাজি হল রাজ্য পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, এই মামলায় সাত অভিযুক্তকে ৭ দিনের এনআইএ হেফাজত মঞ্জুর করল আদালত।

শুক্রবার এনআইএ-কে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার জন্য রাজ্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশ পেয়ে আদালতেই নথি হস্তান্তর করতে চায় রাজ্য পুলিশ। কিন্তু এনআইএর তরফে দাবি জানানো হয়, তাদের দফতরে গিয়ে খাতায়কলমে সেই নথি হস্তান্তর করতে হবে।

এনআইএর আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানান, এর আগেও আবেদন করা হয়েছিল কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হোক। এমনকি অভিযুক্তদের জেরার জন্য অনুমতি দেওয়া হোক। তবে হাই কোর্ট বৃহস্পতিবার নির্দেশ দেয় কেস ডায়েরি হস্তান্তর করার জন্য। তার পরই কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে রাজি হয়। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ৩১ জনকে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে সাত জনকে হেফাজতে নিতে চেয়ে আবেদন করেছিল এনআইএ। কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই ঘটনার তদন্ত করতে পারে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাজ্যের আইনজীবী। আবারও এনআইএ অভিযোগ করে, রাজ্য পুলিশ কেস ডায়েরি হস্তান্তর করছে না। কেন কেস ডায়েরি হস্তান্তর করা হচ্ছে না, তা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত।

আদালতের নির্দেশে অবশেষে কেস ডায়েরি হস্তান্তর করতে রাজি হল রাজ্য পুলিশ। সাত জনকে হেফাজতে পেয়েছে এনআইএ। বাকি অভিযুক্তদের ১৩ মার্চ পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকতে হবে। আদালতে অভিযুক্তদের হাজিরা নিয়েও টানাপড়েন চলছিল। জেল কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা না-থাকায় অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করানো যাচ্ছে না। তখন এনআইএর তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনে তাঁরা নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে। এ নিয়েও একটা টানাপড়েন চলে। এই মামলা আদালত পর্যন্ত গ়ড়ালে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের সুপারের রিপোর্ট চাওয়া হয়, কেন অভিযুক্তদের যাচ্ছে না। শুধু তা-ই তদন্তকারী অফিসারকে তলব করা হয়েছিল কেস ডায়েরির হস্তান্তরের বিষয় নিয়ে। পরবর্তী কালে আদালতে রিপোর্ট পাঠান পুলিশ সুপার। হাজিরা দেন তদন্তকারী অফিসারও।

ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুর খবরে অশান্ত হয়ে উঠেছিল বেলডাঙা। গত ১৬ জানুয়ারি আলাউদ্দিনের দেহ সেখানে পৌঁছোতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামেন। ভিন্‌রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের শ্রমিকদের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ, বাঙালি হওয়ায় বাংলাদেশি সন্দেহে হত্যা করা হয়েছে আলাউদ্দিনকে। যদিও ঝাড়খণ্ডের পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে। প্রাথমিক ভাবে ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন বলেই দাবি করা হয়। তাঁর মৃত্যুর প্রতিবাদে ১৬ জানুয়ারি জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। এমনকি, বিক্ষোভে ব্যাহত হয় শিয়ালদহ-লালগোলা ট্রেন চলাচলও। বেলডাঙায় সে দিন আক্রান্ত হয়েছিলেন এক মহিলা সাংবাদিক। প্রথম দিন পুলিশ বিক্ষোভ সরালেও পরের দিন সকাল থেকে বেলডাঙা ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ পরে আদালতে দাবি করেছে, বেলডাঙার প্রথম দিনের বিক্ষোভ কিছুটা হলেও ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। কিন্তু দ্বিতীয় দিন পরিকল্পিত ভাবে সেখানে অশান্তি করা হয়। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার যদি চায়, এনআইএ-কে দিয়ে বেলডাঙার ঘটনার তদন্ত করাতে পারে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনে কেন্দ্রের কাছ থেকে আরও বাহিনী চাইতে পারবে রাজ্য। তার পরেই তদন্তভার কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে তুলে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

Beldanga Unrest NIA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy