এক দল মদ্যপ যুবকের গালির প্রতিবাদ করায় খুন হলেন বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্র। মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জের শ্রীপৎ সিংহ কলেজের মাইক্রো বায়োলজির তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রিজুয়ানুর রহম (২২) নামে ওই ছাত্রের বাড়ি জেলারই ডোমকলে। মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর দেহ মিলেছে জিয়াগঞ্জের একটি মেসবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে পরিত্যক্ত একটি বাড়ির বারান্দায়।
রিজুয়ানুর থাকতেন একটি জিয়াগঞ্জের তিলিপাড়ার একটি মেসে। সোমবার রাত ১১টা নাগাদ মেসের দুই ছাত্র ছাদে বসে পড়াশোনা করছিলেন। তখন একটি পাথরের টুকরো ছাদ থেকে রাস্তায় পড়ে। ছাত্রদের দাবি, তাতে কেউ আহত হননি। কিন্তু তারপরেই এলাকার কয়েকজন যুবক মদ্যপ অবস্থায় মেসের ছাত্রদের গালিগালাজ করতে থাকেন। রিজুয়ানুর তখন তার প্রতিবাদ করেন। ওই মেসের আবাসিক এক ছাত্র সঈদ আফ্রিদি জানান, এর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ২০-২৫ জন যুবক মেসে চড়াও হয়। তারা লাথি মেরে বাড়ির প্রধান দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে। ভয়ে ছাত্রদের কেউ দোতলা থেকে লাফ দেন। কেউ অন্য বাড়ির ছাদে ছাদে পালিয়ে যান। আফ্রিদি বলেন, ‘‘আমার পিছনেই ছিল রিজুয়ানুরদা। তাঁকে ওই মদ্যপরা ধরে মারতে থাকে। আমি প্রাণ ভয়ে পালিয়ে যাই।’’ সিভিক পুলিশের একটি দল সে সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাদের এক জনও প্রহৃত হয়েছেন বলে দাবি। পুলিশ সে সময় তিন যুবককে গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপ যুবকদের গালির প্রতিবাদ করাতেই ওই ছাত্রকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। কে বা কারা তাঁকে খুন করেছে, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। ডোমকলের সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান রিজুয়ানুরের বাবা রহমতুল্লা বিশ্বাস প্রতিষ্ঠিত বস্ত্র ব্যবসায়ী ও একটি মাদ্রাসার পার্শ্ব-শিক্ষক। রহমতুল্লা বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে জিয়াগঞ্জে গিয়ে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে মেসবাড়ি থেকে কয়েকটা বাড়ি পরে ছেলের দেহ পাওয়া যায়।’’ রিজুয়ানুরের ডান হাত ভাঙা ছিল। তার নাক, মুখ ও মাথা দিয়ে রক্ত বেরিয়ে ছড়িয়ে ছিল ঘরে। ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি সুমন দাস বলেন, ‘‘রিজুয়ানুর আমাদের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। মদ্যপদের মাতলামির প্রতিবাদ করায় তার প্রাণ গেল।’’