তাঁর দলনেত্রী ভালবাসেন নীল-সাদা রং। আবার জাতীয় পতাকায় নীল-সাদা ডোরা পাশাপাশি বসলে ফুটবলের গন্ধ পাওয়া যায়। নেত্রীরও ফুটবল প্রিয়। তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য শুধু আর্জেন্টিনা ফুটবল টিমের একটি নীল-সাদা জার্সিই উপহার পাননি, তাতে জ্বলজ্বল করছে কখনও দিয়েগো মারাদোনা, কখনও লিয়োনেল মেসির বুকের ঘামে ভেজা‘১০’ নম্বরটিও।
অসুস্থতা অনেকটা সময় কেড়ে নিলেও পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের মুখে ফের মাঠে নেমে পড়েছেন সুদীপ। চিকিৎসকের অনুমতি মিলতেই প্রায় এক বছর পরে, সংসদের আসন্ন বাজেট অধিবেশনে আবার লোকসভায় ফিরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের এই বর্ষীয়ান নেতা। তার আগে নিজের নির্বাচনী এলাকার জনসভায় যাওয়া শুরু করেছেন সুদীপ। ইচ্ছে আছেআগামী মাস থেকে আরও বেশিকরে প্রচারে সক্রিয় হওয়ার।আর এই আবহেই দলীয় কর্মীদের থেকে উপহার পেয়েছেন ফ্রেমে বাঁধানো, আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের একটি ১০ নম্বর জার্সি।
কেন ১০? কারণ পশ্চিমবঙ্গ থেকে লোকসভায় এই মুহূর্তে সুদীপ ছাড়া এমন আর এক জনও সাংসদনেই, যিনি লোকসভা ও বিধানসভা মিলিয়ে মোট ১০ বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন। ৬ বার লোকসভায় এবং ৪ বার বিধানসভায় জিতেছেন সুদীপ। তিনি বলছেন, “সম্প্রতি কাশীপুর বেলগাছিয়া কেন্দ্রের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিরাট জনসভার মধ্যে মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেওয়া হল। সাংসদ-বিধায়ক হিসেবে দশ বারজেতার স্মারক।”
প্রায় এক বছর বাদে সংসদের অধিবেশন উপলক্ষে রাজধানীতে আসছেন সুদীপ। নিজেই জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট পেশের দিন লোকসভায় উপস্থিত থাকবেন তিনি। ওই সপ্তাহটা দিল্লিতেথেকে আবার কলকাতা ফিরবেন রাজ্যে নির্বাচনের কাজে যোগ দিতে। শেষ বার যখন সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন, তখন সুদীপ ছিলেন লোকসভার নেতা। পরবর্তী সময়ে অসুস্থতার কারণেঅনিয়মিত হয়ে পড়েছিলেন।মমতা গত অগস্টে সংসদীয় দলের সঙ্গে বৈঠক করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লোকসভার দায়িত্ব নিতে বলেন। সুদীপের প্রতি তাঁর নির্দেশ রয়েছে, সাবধানে থেকে, চিকিৎসকের পরামর্শ মাফিক চলতে হবে। চিকিৎসকেরা অনুমতি না দিলে সফর নয়।
এত দিনে সেই অনুমতি মিলেছে, জানাচ্ছেন সুদীপ। কিন্তু দীর্ঘ পনেরো বছর লোকসভায় দলের যে গুরুদায়িত্ব সামলেছিলেন, এখন তো সেইপদ আর নেই। নতুন ভাবে ফেরার অনুভূতি কেমন? সুদীপ বললেন, “মন থেকে বিষয়টি মেনে নিয়েছি। অসুস্থতার কারণে যখন দিল্লি যেতে পারছি না, কাউকে দায়িত্ব তো নিতেই হত। আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানটা পেয়েই গিয়েছেন। তাঁর জেলা সফর ঘিরে উন্মাদনা তৈরি হচ্ছে। তাঁকে সামনে রেখে দল চলবে। পরামর্শ প্রয়োজন হলে অবশ্যই দেব।”
গত শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূলের লোকসভার টিমকে দেখিয়েছে অসুখী সংসারের মতো। দলের ভিতরের বিবাদ অনেকক্ষেত্রেই প্রকাশ্যে চলে এসেছে। সে ক্ষেত্রে অনেকেই সুদীপের অভিভাবকত্বের অভাব অনুভব করেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে কোনও বিতর্কের মধ্যে যেতে চাননি সুদীপ। বলেছেন, “শারীরিক কারণে গত তিনটে অধিবেশনে একেবারেই যুক্ত ছিলাম না। থাকলে সাংসদদের নিজেদের মধ্যে মতবিরোধ দেখলে খারাপই লাগত। অভিষেক নতুন দায়িত্ব নিলেও ওর উপরেওবিরাট চাপ।”
জার্সির ওজন বিলক্ষণ জানেন সুদীপ। রংটা নীল-সাদা হোক বা না-হোক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)