সর্বভারতীয় স্তরে স্নাতক স্তরের শিক্ষকদের যে-বেতনকাঠামো রয়েছে, সেই হারে বেতনের দাবিতে কলকাতার ধর্মতলার শহিদ মিনার ময়দানে অবস্থানে বসেছেন সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকার পোষিত স্কুলের স্নাতক (পাশ গ্র্যাজুয়েট) শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বৃহত্তর গ্র্যাজুয়েট টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিটিএ) নামে একটি সংগঠনের তরফে জানানো হয়, রবিবার থেকে এই ধর্না চলবে কাল, মঙ্গলবার পর্যন্ত। সরকার তাদের দাবি না-মানলে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের রাস্তা নেবে।
ওই সংগঠনের প্রেসিডেন্ট ধ্রুবপদ ঘোষাল জানান, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় এক লক্ষ গ্র্যাজুয়েট শিক্ষক তিন দশক ধরে বঞ্চনার শিকার। সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পোস্ট গ্র্যাজুয়েট বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী স্কুলশিক্ষকদের গ্রেড পে ছিল ৪৮০০ টাকা। পশ্চিমবঙ্গেও ওই শিক্ষকদের গ্রেড পে একই ছিল। সেখানে কোনও বৈষম্য নেই। অথচ সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে গ্র্যাজুয়েট বা সাধারণ স্নাতক ডিগ্রিধারী স্কুলশিক্ষকদের গ্রেড পে যখন ৪৬০০ টাকা, পশ্চিমবঙ্গে তা ৪১০০ টাকা। ধ্রুববাবুর প্রশ্ন, ‘‘গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য থাকবে কেন?’’
ওই সংগঠনের নেতাদের আরও অভিযোগ, সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা তিন বার ‘ক্যাশ বেনিফিট’ পান। কিন্তু সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বা সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ‘ক্যাশ বেনিফিট’ পান না। ধ্রুববাবু জানান, তাঁরা বেশ কয়েক বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে বৈষম্য দূর করার দাবি জানিয়েছেন। কিন্তু কোনও ফল হয়নি।
আরও পড়ুন: নিষেধ উড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়েই কাল হল, ঝাড়গ্রামের জঙ্গলে যুবককে মারল দাঁতাল
ছটপুজো উপলক্ষে দু’দিনের ছুটির পরে কাল, মঙ্গলবার স্কুল খুলছে। মঙ্গলবারেও ধর্না চলবে বলে জানান ওই শিক্ষকেরা। ধর্না চললে স্কুলে ক্লাস হবে কী ভাবে? আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বক্তব্য, ক্লাস বন্ধ করে তাঁরা ধর্নায় বসছেন না। ওই দিন বিভিন্ন স্কুল থেকে এক জন করে শিক্ষক-প্রতিনিধি ধর্নায় বসবেন।