ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন না! সেই কথা উল্লেখ করে এ বার পদত্যাগ করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। মঙ্গলবার মার্কিন প্রশাসনের সন্ত্রাসদমন কেন্দ্রের অধিকর্তা জো কেন্ট জানান তিনি আর তাঁর ওই পদে কাজ করবেন না। ‘বিবেকের তাড়না’ থেকে এই সিদ্ধান্ত বলেও জানিয়েছেন তিনি। এ-ও দাবি করেন, ‘‘আমেরিকার এই যুদ্ধের কোনও প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু ইজ়রায়েলের চাপেই এই পদক্ষেপ।’’
কেন্ট স্পষ্ট করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযানকে তিনি কোনও ভাবেই সমর্থন করেন না। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি ইরান যুদ্ধের নেপথ্যের কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘ইরান আমাদের জন্য আসন্ন হুমকি ছিল না। এটা স্পষ্ট যে ইজ়রায়েলের চাপে আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি।’’
ট্রাম্পকে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন কেন্ট। সেখানে তিনি ট্রাম্পের উদ্দেশে লেখেন, ‘‘আপনি যে মূল্যবোধ এবং বিদেশনীতির ভিত্তিতে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন, সেগুলি সমর্থন করতাম। কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্তে সহমত হতে পারলাম না।’’ তার পরেই তিনি লেখেন, ‘‘আশা করি, আমরা ইরানে যা করেছি এবং যাদের জন্য করেছি, তা ভেবে দেখবেন। সাহসী পদক্ষেপ করার সময় এখনই।’’
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, সন্ত্রাসদমন কেন্দ্রটি তথ্য সমন্বয়ে একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থা, পেন্টাগন এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা-সহ মার্কিন প্রশাসনের আরও কয়েকটি সংস্থার মধ্যে সন্ত্রাসদমন তথ্য আদানপ্রদান করে সমন্বয়ের কাজ করে থাকে। সেই সংস্থার অধিকর্তা ইস্তফা দিলেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
সংঘর্ষবিরতি, ৩০ হাজার কোটির বিনিয়োগ পরিকল্পনা! আমেরিকা এবং ইরানের সংঘাতের অবসানে খসড়া চুক্তিতে আর কী রয়েছে?
-
‘চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত, ঘোষণার অপেক্ষা’! সমঝোতা প্রসঙ্গে দাবি ট্রাম্পের, জানান, খুলবে হরমুজ়! কী মত ইরানের
-
সুযোগ পেলেই চোরাগোপ্তা হামলা! সাবেক পারস্যের হাতে মার খাওয়ার প্রতিশোধ নিচ্ছে ‘নিরীহ’ আরব রাষ্ট্র
-
হরমুজ় প্রণালীতে চলল গুলি! ইরান-আমেরিকার মধ্যে বাড়ল উত্তেজনা, সংঘর্ষবিরতিতে কি ইতি? কী বললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
-
আমেরিকার হৃৎস্পন্দন বন্ধের হুঙ্কার, হরমুজ়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ধ্বংসে ‘আত্মঘাতী তিমি’দের নামাচ্ছে ইরান!