হরমুজ় প্রণালীতে ‘অবরোধ’ তোলার জন্য আমেরিকার কাউকে প্রয়োজন নেই। এ বার এমনটাই দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ় প্রণালীর ‘অবরোধ’ তোলার জন্য চিন, ফ্রান্স এবং ব্রিটেনকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরামর্শ দেন ট্রাম্প। তবে খুব একটা সন্তোষজনক সাড়া পাননি। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
আমেরিকা-ইরান সংঘর্ষের জেরে এখনও অস্থির পশ্চিম এশিয়া। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ় প্রণালী অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। হরমুজ় প্রণালীর অবরোধ তুলতে ইতিমধ্যেই সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। এই জলপথটি বন্ধ থাকায় যে দেশগুলির সমস্যা হচ্ছে, তাদেরও এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন তিনি।
হরমুজ় প্রণালী ভারতের কাছেও বাণিজ্যিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সোমবার নয়াদিল্লিও জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের কোনও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা চলছে না। চিন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রিটেনের মতো দেশগুলি থেকেও ইতিবাচক জবাব পাননি ট্রাম্প। এ অবস্থায় সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই। আমরাই বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। আমাদের সামরিক বাহিনী নিঃসন্দেহে বিশ্বের এক নম্বর।”
আরও পড়ুন:
হরমুজ় প্রণালীতে সামরিক অভিযানের বিষয়ে মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ‘নেটো’-কেও হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন ট্রাম্প। সদস্য রাষ্ট্রগুলি তাঁর আহ্বানে সাড়া না-দিলে সামরিক জোটটির ভবিষ্যৎ খারাপ হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ‘বন্ধু’ দেশগুলির কাছ থেকে, বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তিনি কোনও উত্তর পেয়েছেন কি না, তা নিয়ে সোমবার প্রশ্ন করা হয় ট্রাম্পকে। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় তারা অবশ্যই সাহায্য করবে।” তবে এর পরেই তিনি এ-ও জানান, এই অভিযানে কারও সাহায্যের প্রয়োজন নেই আমেরিকার।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কথায়, “আমি তাদের কাছে খুব জোর দিয়ে কোনও অনুরোধ করিনি। কারণ, আমার মতে, আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই। আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ। আমাদের সামরিক বাহিনীই বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনী। আমাদের কাউকে প্রয়োজন নেই। তবে বিষয়টি বেশ মজার।” ট্রাম্পের দাবি, তাঁর মূল উদ্দেশ্য অন্যদের কাছে সাহায্য চাওয়া নয়। আমেরিকার প্রয়োজনের সময়ে ‘বন্ধু’ দেশগুলি সাহায্য করার বিষয়ে কতটা সদিচ্ছা দেখায়, সেটিই পরখ করা তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
০৭:৫৫
লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইজ়রায়েল, মৃত অন্তত চার! ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিই কি সার? শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন -
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে
-
সুবিধাবাদী নীতিতে সাপ-ব্যাঙ দু’পক্ষকেই ‘চুমু’ খেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ! ‘আম-ছালা’ দুই-ই হারিয়ে এখন কাঁদছে ধনকুবের আরব রাষ্ট্র
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হবে শান্তিচুক্তি! শাহবাজ় শরিফের দাবির মাঝেই আবার লেবাননে বিমানহানা চালাল ইজ়রায়েল
-
ইরানকে সমঝোতার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, রাজি মোজতবাও? হরমুজ়, পরমাণু চুক্তি-সহ তালিকায় আর কী