মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বার বার সতর্ক করছেন ইজ়রায়েলকে। লেবাননে হামলা বন্ধ রাখার কথা বলছেন। কিন্তু বাস্তবে লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইজ়রায়েলি সেনা। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থার জানিয়েছে, তাদের দেশের দক্ষিণ প্রান্তে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইজ়রায়েল। দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে প্রদেশে ইজ়রায়েলি হামলায় অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
লেবাননের সংবাদসংস্থার খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার নাবাতিয়ে প্রদেশের মায়ফাজুনে একাধিক জায়গায় ড্রোন হামলা চালায় ইজ়রায়েল। পৃথক ড্রোন হামলায় দু’টি গাড়ি ধ্বংস হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে দুই গাড়িতে থাকা মোট চার জনের। ইজ়রায়েলের পর পর হামলার ঘটনায় ইরানের সঙ্গে আমেরিকার শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। জি৭ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে এখন ফ্রান্সে রয়েছেন ট্রাম্প। তবে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগেই ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির কথা ঘোষণা করেন তিনি। সূত্রের খবর, আগামী শুক্রবার সুইৎজ়ারল্যান্ডে চুক্তি সইসাবুদ হওয়ার কথা। কিন্তু তার মধ্যে লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা আবার এক বার শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।
আমেরিকা-ইরানের শান্তিচুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার পথে আপাতত ‘কাঁটা’ লেবানন, তা এক কথায় মানছেন অনেকেই। শান্তিচুক্তিতে কী কী শর্ত রয়েছে, তা এখনও বিস্তারিত জানা না-গেলেও লেবানন নিয়ে ইরানের দাবি স্পষ্ট। ইরান স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে, লেবানন থেকে ইজ়রায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার না-করে, তবে চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। কিন্তু বেঁকে বসেছেন ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। লেবানন থেকে সেনা এখনই প্রত্যাহার করবেন না তিনি। লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লাকে ‘শেষ’ করতে চান নেতানিয়াহু।
যদিও ট্রাম্প বার বার ইজ়রায়েলকে লেবাননে হামলা করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। জি৭ সম্মেলনের ফাঁকেও ট্রাম্পের মুখে শোনা গিয়েছে লেবানন প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সিরিয়া আরও ভাল কাজ করবে। লেবাননের সকলকে হত্যা না-করলে ইজ়রায়েল কখনওই হিজ়বুল্লার বিরুদ্ধে সাফল্য পাবে না। সেই পরিস্থিতিতে ইজ়রায়েলের উচিত, পুরো বিষয়টা সিরিয়ার উপর ছেড়ে দেওয়া। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ইজ়রায়েলের কারণে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি ভেস্তে যেতে বসেছিল।’’ আপাতত শুক্রবার চুক্তি সইসাবুদের কথা থাকলেও লেবাননে ইজ়রায়েলি হামলা বন্ধ না-হলে ইরান কী করবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইতিমধ্যেই মঙ্গলবারের হামলা নিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে রেখেছে তেহরান। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট বলেছেন, ‘‘ইজ়রায়েলি বাহিনীর দখল করা অঞ্চল মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়নি।’’ তাঁর হুঁশিয়ারি, লেবাননে এ ভাবে পর পর ইজ়রায়েল হামলা চালাতে থাকলে, সেটা চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করবে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, লেবাননে যদি ইজ়রায়েল হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
শুরুতেই ভিন্ন সুর ইজ়রায়েলের, পরমাণু প্রকল্প, হরমুজ় ঘিরেও ধোঁয়াশা! স্বস্তির চেয়ে চ্যালেঞ্জই বেশি ট্রাম্প-ইরান শান্তিচুক্তিতে
-
সুবিধাবাদী নীতিতে সাপ-ব্যাঙ দু’পক্ষকেই ‘চুমু’ খেয়ে আঙুল ফুলে কলাগাছ! ‘আম-ছালা’ দুই-ই হারিয়ে এখন কাঁদছে ধনকুবের আরব রাষ্ট্র
-
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত হবে শান্তিচুক্তি! শাহবাজ় শরিফের দাবির মাঝেই আবার লেবাননে বিমানহানা চালাল ইজ়রায়েল
-
ইরানকে সমঝোতার জন্য পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, রাজি মোজতবাও? হরমুজ়, পরমাণু চুক্তি-সহ তালিকায় আর কী
-
‘ইঞ্জিনরুম লক্ষ্য করে পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি’! ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে তৃতীয় হামলার পর বিবৃতি আমেরিকার