এসএসসি মামলায় ‘দাগি’ হিসেবে চিহ্নিত না-হলে চাকরিহারাদের পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনেই একটি প্রথম সারির রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের চাকরিতে ফেরার আর্জি জানিয়েছিলেন দুই চাকরিহারা শিক্ষক সম্রাট গোস্বামী ও শুভ বিশ্বাস। কিন্তু ব্যাঙ্ক সেইআর্জি মানেনি। শেষমেশ আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা। মামলাকারী ও ব্যাঙ্কের বক্তব্য শুনে কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহ জানান, ‘দাগি’ না-হলে ব্যাঙ্ক চাকরিতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানিয়েছিল ব্যাঙ্ক। সম্প্রতি শীর্ষ আদালত সেই আর্জি খারিজ করে জানিয়েছে, বিচারপতি সিংহের নির্দেশে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নেই।
২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগে শিক্ষকের চাকরি পাওয়ার আগে ব্যাঙ্কের কর্মী ছিলেন সম্রাট ও শুভ। শিক্ষকের চাকরিতে যোগ দেবেন বলে ব্যাঙ্কের চাকরি ছাড়েন। কিন্তু নিয়োগ দুর্নীতির জেরে ২০২৪ সালে রাজ্যের প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে ‘দাগি’ না-হলে পুরনো চাকরিতে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা হাই কোর্টে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে মামলায় সম্রাট এবং শুভর আইনজীবী সুদীপ্ত দাশগুপ্ত, সুতীর্থ নায়ক এবং সূর্যতপা দাস জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ছিল যে রাজ্য সরকার বা অন্য কোনও স্বশাসিত সংস্থায় চাকরি ফিরে পাওয়া যাবে। তার পরেও মামলায় যুক্ত ব্যাঙ্ক চাকরি ফেরত দেয়নি। অথচ, অন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক অন্য কয়েক জন শিক্ষকের চাকরি ফেরত দিয়েছেন।
ব্যাঙ্কের আইনজীবী দেবাশিস সাহা পাল্টা যুক্তি দেন যে সুপ্রিম কোর্ট যে স্বশাসিত সংস্থার কথা বলেছে তার মধ্যে ওই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পড়ে না। অন্য কোনও ব্যাঙ্ক কী করেছে, তার ভিত্তিতে মামলায় যুক্ত ব্যাঙ্ক সিদ্ধান্ত নেবে না।
সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি সিংহের পর্যবেক্ষণ, ‘দাগি’ তালিকায় না-থাকা এবং অন্য চাকরি ছেড়ে শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মীর চাকরিতে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের জন্য শীর্ষ আদালত এই নির্দেশ দিয়েছিল। কারণ, অন্য চাকরি ছেড়ে আসার সময়ে তাঁরা জানতেন না যে দুর্নীতির দায়ে পুরো নিয়োগই বাতিল হবে। তাই ‘দাগি’ নয়, এমন ব্যক্তিদের জীবন-জীবিকার স্বার্থেই পুরনো চাকরিতে ফেরার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে উল্লিখিত স্বশাসিত সংস্থার বন্ধনীতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক পড়বে না, এই যুক্তিও খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট। বিচারপতির বক্তব্য, ‘‘মামলাকারীদের পুরনো চাকরি ফিরিয়ে না দেওয়া কোর্টের নির্দেশের বিপরীত সিদ্ধান্ত।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)