E-Paper

মানচিত্রে নেই সীমান্তের ৫ গ্রাম, কাঁটাতার বসাতে উদ্যোগী প্রশাসন

২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পরে, গ্রামগুলি সরকারি ভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেও, জমির নথি তৈরি হয়নি। সীমান্তও উন্মুক্ত রয়েছে।

অনির্বাণ রায়

শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ০৭:৩৮

—প্রতীকী চিত্র।

মানচিত্র নেই, জমির নথি নেই, কাঁটাতারের বেড়া বসবে কোথায়!

বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া বসাতে গিয়ে জলপাইগুড়িতে এমনই সমস্যায় পড়েছে প্রশাসন। কারণ, জেলার দক্ষিণ বেরুবাড়ি পঞ্চায়েতের পাঁচটি গ্রামের জমির কোনও নথি নেই৷

দেশ ভাগের সময় বড়শশী, কাজলদীঘি, চিলাহাটি, নাওতরী দেবোত্তর, নাওতরী নবাবগঞ্জ গ্রামের নথি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে তথা অধুনা বাংলাদেশেই থেকে যায়। স্বাধীনতার পরে, গ্রামগুলি ভারতের মূল ভূখণ্ডে থাকলেও সরকারি রেকর্ডে ছিল না।

২০১৫ সালে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পরে, গ্রামগুলি সরকারি ভাবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হলেও, জমির নথি তৈরি হয়নি। সীমান্তও উন্মুক্ত রয়েছে। রাজ্যে পালাবদলের পরে, উন্মুক্ত সীমান্তে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া বসাতে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে (বিএসএফ) জমি হস্তান্তর করা হচ্ছে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, জমির নথি না থাকায়, জলপাইগুড়ির ওই পাঁচটি গ্রামে কাঁটাতারের বেড়া বসানোর জন্য জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব নয়। সে কারণেই এখন দক্ষিণ বেরুবাড়ির ওই গ্রামগুলির মানচিত্র তৈরি করার কাজ চলছে।

রাজ্যের ভূমি দফতর প্রথমে সমীক্ষা করেছে। ভূমি সংস্কার এবং সমীক্ষা অধিকর্তা দফতর উপগ্রহ ছবি দেখে তৈরি করেছে জমির নকশা। জলপাইগুড়ির অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি) হ্যারিস রশিদ বলেন, “ছিটমহল বিনিময় চুক্তিতে যে এলাকাগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, সেখানে জমির রেকর্ড নতুন করে তৈরি করতে হচ্ছে।’’ তিনি জানান, ভূমি সমীক্ষা অধিকর্তার দফতর থেকে রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। কিছু এলাকায় ছোট ছোট জায়গায় সীমান্ত নির্ধারণ করা হবে। বাংলাদেশের সঙ্গেও কথা হবে। তার পরে, জেলায় বিস্তারিত রেকর্ড আসবে। সে তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি জমি অধিগ্রহণ হবে।

প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আন্তর্জাতিক সীমান্ত নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট দুই দেশের সম্মতিতে। যেহেতু পাঁচটি গ্রামের রেকর্ড বিনিময় আগে হয়নি, সে কারণে এত দিন ওই এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তও পূর্ণাঙ্গ রূপে নির্ধারিত হয়নি। তড়িঘড়ি জমি হস্তান্তর করা হলে, বহু এলাকায় সমস্যা জিইয়ে থাকতে পারে। অতিরিক্ত জেলাশাসকের কথায়, “এমন ভাবে পদক্ষেপ করা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কোনও বিবাদ না থাকে।”

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আপাতত এলাকার উন্মুক্ত সীমান্তে বিএসএফ জওয়ানদের বেশি সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলায় প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সেখানে ২৫ কিলোমিটার জুড়ে জমি-সমস্যা রয়েছে। তবে বাকি সীমান্তে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

India Bangladeh Border

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy