পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সময় নির্বাচন কমিশনের তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র তালিকায় (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) নাম ছিল এক কোটি ৩৬ লক্ষের। তবে শুক্রবার কমিশন জানাল সেই সংখ্যা কমেছে। এক কোটি ৩৬ লক্ষ নয়, তথ্যগত ‘অসঙ্গতি’র সংখ্যা কমে দাঁড়াল ৯৪ লক্ষ ৪৯ হাজার। অর্থাৎ, ৪১ লক্ষ ৫১ হাজার কমল!
তথ্যগত অসঙ্গতি অর্থাৎ কারও নাম মেলেনি, তো কোনও ভোটারের বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম। আবার কোনও কোনও ভোটারের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি। কারও কারও ক্ষেত্রে তাঁদের ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে পার্থক্যে অসঙ্গতি দেখা গিয়েছিল। প্রথমে কমিশন জানিয়েছিল, তথ্যগত অসঙ্গতি ধরা পড়েছে ১.৬৭ কোটি। পরে সেটা কমে দাঁড়িয়েছিল ১.৩৬ কোটিতে। তবে শুক্রবার কমিশন জানায়, সেই সংখ্যা আরও কমল। শুনানিপর্বে সেই সংখ্যা আরও কমতে পারে বলে খবর কমিশন সূত্রে।
কমিশন জানিয়েছে, এক ব্যক্তির সঙ্গে ছ’জনের লিঙ্ক করানো হয়েছে এমন সংখ্যা ২৩ লক্ষ। নাম মিলছে না ৫১ লক্ষ। বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ১৫ বছরের কম, এমন সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৪ হাজার। বাবার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের পার্থক্য ৫০ বছরের বেশি, এমন সংখ্যা ৮ লক্ষ ৪১ হাজার। ঠাকুরদার বয়সের সঙ্গে ভোটারের বয়সের অসঙ্গতি ৩ লক্ষ।
সম্প্রতি লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি বা তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতী সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, কমিশন একই দিনে কী ভাবে খসড়া তালিকা আর তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা প্রকাশ করল? তিনি বলেন, ‘‘লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বলে একটা লিস্ট হাওয়ায় ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনও অফিসিয়াল প্রেস রিলিজ নেই। হোয়াট্সঅ্যাপে সকলের সঙ্গে শেয়ার করেছে। সব স্ক্রিনশট রয়েছে। লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সিতে বলা হচ্ছে, ১ কোটি ৩৬ লক্ষ লোক এমন রয়েছেন যাঁদের নামের বানানে ভুল হয়েছে, বাবার সঙ্গে বয়সের পার্থক্য রয়েছে। একই দিনে কোন জাদুকাঠির ছোঁয়ায় কী ভাবে খসড়া তালিকা আর লজিক্যাল ডিসক্রিমেন্সি বার করল কমিশন?’’ পরে বিষয়টি নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) সঙ্গে দেখা করে পূর্ণাঙ্গ ওই তালিকা প্রকাশের দাবি জানায় তারা। এমনকি, দিল্লিতে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেও একই দাবি জানান অভিষেকেরা।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, ‘নো ম্যাপিং’-এর পরে এ বার ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ ভোটারদের শুনানির জন্য ডাকার তোড়জোড় শুরু করল কমিশন। ‘প্রজেনি ম্যাপিং’ হল ছয়ের বেশি ভোটারের বাবার নাম একই রয়েছে। অর্থাৎ, অভিভাবক এক জন এবং সন্তান হিসাবে ছ’জন তাঁর নামে ছ’টি এনুমারেশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। সূত্রের খবর, ১০০ জন ভোটারের বাবার নাম একই রয়েছে, এমন ঘটনাও আছে। ‘প্রজেনি ম্যাপিং’-এর তালিকায় রয়েছে প্রায় ২৪ লক্ষ ভোটার। তাঁদের শুনানিতে ডাকার জন্য নোটিস তৈরি হয়ে গিয়েছে। শুরু হবে নোটিস বিলি।