E-Paper

চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পথে এখনও নানা জটিলতা

৩৩ জন পর্যবেক্ষক প্রায় সাত হাজার মাইক্রো অবজার্ভারকে সঙ্গে নিয়ে আপলোড হওয়া প্রতিটি ভোটার-তথ‍্য খতিয়ে দেখছেন। বিধিসম্মত নথির অভাব বা গরমিল দেখলেই সেই নামের পাশে পড়ছে লাল নিশান। তা ফেরত চলে যাচ্ছে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে।

চন্দ্রপ্রভ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:৪৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাবে তো— এই প্রশ্নেই এখন সরগরম ভোটের বাজার। তা না করা গেলে দায় বর্তাবে জেলা প্রশাসনগুলির উপর। তখন কমিশন কী পদক্ষেপ করবে, মূল চর্চারবিষয় সেটাই।

৩৩ জন পর্যবেক্ষক প্রায় সাত হাজার মাইক্রো অবজার্ভারকে সঙ্গে নিয়ে আপলোড হওয়া প্রতিটি ভোটার-তথ‍্য খতিয়ে দেখছেন। বিধিসম্মত নথির অভাব বা গরমিল দেখলেই সেই নামের পাশে পড়ছে লাল নিশান। তা ফেরত চলে যাচ্ছে ইআরও এবং এইআরও-দের কাছে। কিন্তু সমস্যা বেড়েছে সেগুলির বেশির ভাগই নিষ্পত্তি করছেন না ইআরও-এইআরওদের একাংশ। অথচ সব আবেদনের নিষ্পত্তি না হলে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা তৈরির কাজ অসমাপ্ত থাকবে। হাতে আর মেরেকেটে ১০ দিন। কারণ, ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কমিশনের অন্দরের বক্তব্য, যে গতিতে ‘সুপার চেকিং’ চলছে, তাতে ওই সময়ের মধ্যে যাচাইয়ের কাজ শেষ করা সম্ভব। কিন্তু ইআরও-এইআরওরা ভোটার আবেদনগুলি নিষ্পত্তি না করলে জটিল এক পরিস্থিতি তৈরিহতে পারে।

কমিশন এবং জেলা প্রশাসনগুলির একাংশের দাবি, প্রশাসনিক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের একাংশ থেকে এবং রাজনৈতিক ভাবে ইআরও-এইআরওদের বলে দেওয়া হচ্ছে, কোনও পরিস্থিতিতে কোনও আবেদন খারিজ করা যাবে না। উল্টো দিকে কমিশনের অবস্থান— বিধিবদ্ধ নথির বাইরে গ্রাহ্য হবে না অন্য কিছুই। এই জাঁতাকলের মধ্যে পড়ে রয়েছে গুচ্ছ গুচ্ছ ভোটার-আবেদন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, কমিশনের অবস্থান লিখিত এবং তাদের সুনির্দিষ্ট আইনে আবদ্ধ। মামলা থাকার কারণে এসআইআরের উপর রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিও। ফলে ইআরও-এইআরওদের নিষ্পত্তিতে বাধা কোথায়! অন‍্যায‍্য ভাবে কোনও ভোটারকে বাদ দিলে তো আইনি পথে কমিশনকে চেপে ধরার রাস্তা খোলা রয়েছে। আবার কোনও ভোটারকে বাদ দিতে হলে কমিশনকেও উপযুক্ত কারণ দর্শাতে হবে। যা আইনের নজর এড়িয়ে যাওয়াও সম্ভব নয়।

এখনকার বিধি অনুযায়ী, জেলা থেকে প্রস্তুত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নিয়ে শংসাপত্র দিতে হবে সেই জেলাশাসককে। জানাতে হবে, তালিকাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত এবং বিধিসম্মত ভাবে তৈরি। একই শংসাপত্র দিতে হবে রোল-পর্যবেক্ষক, বিশেষ পর্যবেক্ষক, এমনকি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও (সিইও)। তা দেখে রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশে ছাড়পত্র দেবে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। ফলে প্রতিটি স্তরে দায় নির্দিষ্ট ভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও গোড়ায় গড়িমসি থেকে যাওয়ার নেপথ্যের উদ্দেশ্য এবং কারণ বিরোধী-শাসকের রাজনৈতিক তরজার উপকরণ হয়ে উঠেছে।অন‍্য দিকে, এরই সমান্তরালে বুথ বা ভোটকেন্দ্রের পুনর্বিন‍্যাস নিয়ে ফের একবার জেলাগুলির থেকে প্রস্তাব চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। তাতে ১৫০০-র বদলে একটি বুথে এখন সর্বাধিক ১২০০ জন ভোটার থাকবেন। ফলে এখনকার প্রায় ৮১ হাজার বুথ সংখ্যা বেড়ে হতে পারে কমবেশি ৯৫ হাজার। কমিশন জেলাগুলিকে মনে করিয়ে দিয়েছে, ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই কাজ শেষ করতে হবে।

জানা গিয়েছে, যবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ পাক, পরবর্তী ১০ দিন নতুন নাম তোলার আবেদনের সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি, আপাতত প্রায় ৩০ হাজার বুথ স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথ হিসেবে চিহ্নিত হয়েই রয়েছে। এই সংখ‍্যা পরে আরও বাড়তে পারে। আপাতত স্থির রয়েছে, স্পর্শকাতর এবং অতি স্পর্শকাতর বুথের ভিতরে এবার দু’টি এবং বুথের বাইরে একটি করে ক্যামেরা বসানো হতে পারে। এছাড়া বাকি বুথ গুলির ভিতরে ও বাইরে বসানো হতে পারে একটি করে ক্যামেরা লাগানো হবে। যা ভোট প্রক্রিয়ার সরাসরি সম্প্রচার করবে কমিশনের কন্ট্রোল রুমে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision Voter Lists West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy