তখনও বাজি ফাটছে। ব্যান্ডও বাজছে। ছ’টি এসইউভি পৌঁছে গেল মিরিকের ছয় প্রান্তে। মোবাইলে নেতারা নির্দেশ দিয়েছেন। সেই মতো গাড়িতে উঠে বসলেন তৃণমূলের জয়ী প্রার্থীরা। পুলিশি পাহারায় গাড়ি রওনা দিল সমতলের দিকে। পুরসভা গঠনের আগে দলের ছয় জয়ী প্রার্থীকে পাহাড়েই রাখতে চাননি তৃণমূল নেতৃত্ব।
উত্তরে এই প্রবণতা নতুন নয়। দলবদলের আগে কলকাতার বড় দলগুলোও তাদের ফুটবলারদের গোপন আস্তানায় নিয়ে গিয়ে রাখত। সই হয়ে গেলে তাঁরা বাড়ি ফিরতেন। বছর দু’য়েক আগে শিলিগুড়ি পুরসভা নির্বাচনের পরে যেন সেই দৃশ্যই আবার দেখা গিয়েছিল। জয়ী বাম প্রার্থীদের নিয়ে পাহাড়ে চলে গিয়েছিলেন অশোক ভট্টাচার্য। গাড়ি নিয়ে ডুয়ার্সে চলে যান নির্দল প্রার্থী অরবিন্দ ঘোষও। শপথের দিনই তাঁরা শহরে ফেরেন।
মিরিকের ক্ষেত্রে তৃণমূলের জয়ী ছয় প্রার্থীকে পাহাড় থেকে নামিয়ে আনা হয়েছে সমতলে। সঙ্গে রয়েছেন কার্শিয়াঙের ৩ জন ও দার্জিলিঙের ১ জয়ী প্রার্থীও। এ দিন সন্ধ্যায় প্রথমে তাঁদের শিলিগুড়ির সেবক রোডের একটি হোটেলে নিয়ে আসা হয়। সেই হোটেলেই ছিলেন পাহাড়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা তথা রাজ্যের পূর্তমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। অরূপবাবু সকলের সঙ্গে বেশ কিছু ক্ষণ আলোচনা করেন। সন্ধের পরে তাঁদের সকলকে নিয়ে ডুয়ার্সে চলে যান মিরিকের তৃণমূলের পর্যবেক্ষক তথা এসজেডিএ-র চেয়ারম্যান সৌরভ চক্রবর্তী।
তৃণমূলের অন্দরের খবর, মিরিকে ঘাসফুলের জয় সুনিশ্চিত হতেই সৌরভকে লক্ষ করে নানা কথা ভেসে আসতে থাকে। হুমকিও শুরু হয়ে যায়। কয়েকজন জয়ী কাউন্সিলরকে বলা হয়, ‘নেতারা চলে যাক। তার পরে দেখছি।’ সঙ্গে সঙ্গে চুপচাপ টাকার ‘প্রলোভন’ দেওয়ারও অভিযোগ ওঠে।
তাই জয়ী প্রার্থীদের শিলিগুড়ি আনা হয়। তবে সৌরভের কথায়, ‘‘জয়ী প্রার্থীরা অরূপদার সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন।’’
দলীয় সূত্রের খবর, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে মিরিকের নতুন চেয়ারম্যান হবেন লালবাহাদুর রাই। তিনি জিএনএলএফের আমলে তিন দফায় পুরপ্রধান ছিলেন। পরে মোর্চায় যোগ দেন। সম্প্রতি মোর্চা ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়ে ৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে জিতেছেন। গাড়িতে ওঠার আগে লালবাহাদুর রাই বলেন, ‘‘দলের নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে এসেছি। সময় মতো মিরিকে যাব।’’