আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা হয়নি। তবে ভোটে বিপর্যয়ের পরে দল পরিচালনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমতা খর্ব করল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রের খবর, নতুন করে রাজ্যব্যাপী সংগঠন সাজিয়ে তুলতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের খুব বেশি ভূমিকা থাকছে না। জেলায় জেলায় কমিটি পুনর্গঠনে সেই বার্তাই গিয়েছে কালীঘাট থেকে। আগামী বছর রাজ্য জুড়ে পুরভোটের আগে প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে এই কাজ শুরু করে দিতে চাইছেন দলীয় নেতৃত্ব।
সংসদ থেকে পঞ্চায়েত, সব স্তরে তৃণমূলের সংগঠন পরিচালনায় অভিষেকের একচ্ছত্র ক্ষমতা অনেকটাই ছেঁটে দেওয়া হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত। তৃণমূল নেত্রীর ছাড়পত্র-সহ ইতিমধ্যেই নতুন করে দলের জেলা সভাপতি মনোনয়নের কাজ শুরু করেছে তৃণমূল। নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য কালীঘাটের সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট নেতাদের জানাতে শুরু করেছেন। সেই সঙ্গেই নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মতো জেলা সভাপতিদেরই জেলা ও ব্লক স্তরে কমিটি গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। একই ভাবে জেলা দলের সভাপতিদেরই সকলের সঙ্গে আলোচনা করে শাখা সংগঠনের সভাপতি বেছে নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক অতীতের নিরিখে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির এই সিদ্ধান্ত এক কথায় বিরল।
গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই সংগঠন পরিচালনার নিয়ন্ত্রণ নিতে থাকেন অভিষেক। রাজ্য স্তরে তো বটেই, মমতার সম্মতিতেই জেলা, ব্লক ও বুথ স্তরেও দলের কমিটি তৈরি ও তা পরিচালনা নিয়ে সমস্ত সিদ্ধান্ত হত অভিষেকের মতেই। কালীঘাটের পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দফতরই এই কমিটিগুলি বাছাই করত। এবং সব স্তরেই দলীয় কাজকর্ম পরিচালনা হতো সেই পথেই। দলের পরামর্শদাতা সংস্থা ‘আই-প্যাক’-এর মত নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে যে কোনও কর্মসূচি রূপায়ণেও এই ব্যবস্থাই চালু হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, গত পাঁচ বছরের সেই ব্যবস্থায় এখন বদল আসছে।
দলের অন্দরে জেলা ও নীচের তলায় সাংগঠনিক দায়িত্ব বন্টন নিয়ে ‘ক্যামাক স্ট্রিট’ ও ‘আই-প্যাক’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল বহু দিন থেকেই। এ বারের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পরে অনেকেই অভিষেক-কেন্দ্রিক সংগঠনের দিকে আঙুল তুলেছেন। সেই সঙ্গেই নেতাদের একাংশ মনে করছেন, দলের মূল শক্তি মমতার সঙ্গে নীচের তলার দায়িত্বে থাকা নেতাদের সম্পর্কও ছিন্ন হয়ে গিয়েছে এই প্রক্রিয়ায়। এ বার যে পদ্ধতিতে প্রার্থী বাছাই হয়েছে, একই যুক্তিতে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তৃণমূলে অভিষেক- বিরোধী হয়ে ওঠা অংশ। তাঁদের মতে, ভোটের ফলে তাঁর প্রতিফলন ঘটেছে।
ভোটের পরে দলের সব কমিটি ভেঙে দিলেও চেয়ারপার্সন মমতা ও সাধারণ সম্পাদক পদে অভিষেকই রয়েছেন। অন্যান্য সব কমিটি নতুন করে তৈরি শুরু হলেও সরাসরি অভিযেকের দায়িত্বে হাত পড়েছে, এমন বার্তা এখনও যেতে দেননি তৃণমূল নেত্রী। অনেকের ধারণা, নতুন সরকার আসার পরে অভিষেক-সহ অন্যেরা যে ভাবে আইনি প্রক্রিয়ায় জড়িয়ে গিয়েছেন, তাতে আপাতত তাঁরা এ কাজে বেশি সময় পাবেন না। তাই জেলায় জেলায় পুরনো নেতাদের উপরে ভরসা রাখছেন তৃণমূল নেত্রী। সে ক্ষেত্রে সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক অভিমুখ মমতাই ঠিক করে দিতে চলেছেন আগামী ২১ জুলাইয়ের কর্মসূচি থেকে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)