E-Paper

ভোট-‘হিংসা’ নিয়ে তৃণমূলের অনুসন্ধান, পাল্টা সরব বিজেপি

একটি সূত্রের খবর, বিকেলে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ মে ২০২৬ ০৮:৩২
তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। কালীঘাটে।

তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়। কালীঘাটে। নিজস্ব চিত্র।

ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে সামনে রেখে বিজেপির বিরুদ্ধে আরও সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। এই বিষয়ে তৃণমূলের তথ্যানুসন্ধানী দল রবিবার হুগলি ও পূর্ব মেদিনীপুরে তাদের হিংসা-তথ্য সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালীঘাটে দলের জেলা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রতিবাদে রাস্তায় নামার বার্তাও দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে, তৃণমূলের অভিযোগে মানুষের আগ্রহ নেই বলে পাল্টা সরব হয়েছে বিজেপি।

কালীঘাটে এ দিন বিকেলে জেলা পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের খবর, বৈঠকে মমতা, অভিষেক বলেছেন, জেলা পরিষদের উন্নয়নের কাজ চালানোর সঙ্গেই বিজেপির ‘অত্যাচারে’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ মিছিল করতে হবে। সেই মিছিলের রূপরেখাও ঠিক করে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। সূত্রের খবর, আগামী তিন-চার দিনের মধ্যে মমতা নিজে দলীয় কার্যালয় রং করতে রাস্তায় নামতে পারেন। পাশাপাশি, জেলাগুলিতেও তৃণমূলের দলীয় দফতরে নতুন করে রং করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি সূত্রের খবর, বিকেলে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়।

দলের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকারের কটাক্ষ, “তৃণমূলের তো কয়লা, গরু, বালি সংক্রান্ত দল ছিল। ওইগুলো চলে যাওয়াতেই এখন কি তথ্যের দিকে নজর? মানুষ এই সব নিয়ে ভাবিত নন। তাঁরা এখন নতুন পশ্চিমবঙ্গ গড়ার দিকে তাকিয়ে।”

এরই মধ্যে এ দিন তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের নেতৃত্বে তথ্য অনুসন্ধানী দল হুগলির খানাকুল ও চুঁচুড়ায় গিয়েছিল। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলে ছিলেন সাংসদ সামিরুল ইসলাম, প্রাক্তন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা, অধ্যাপক সৈয়দ তানভীর নাসরীন প্রমুখ। খানাকুলের কৃষ্ণনগরে দলের কর্মী অর্ণব সরকারের বাড়িতে যান প্রতিমারা। ভোটের ফল ঘোষণার দিন অর্ণবের বাড়িতে বোমা মারা এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। প্রতিমাদের কাছে দুই তৃণমূল কর্মী জানান, তাঁদের ধান কাটতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিমার অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় এক রকম বলছেন। কিন্তু বাস্তব চিত্র আলাদা। নির্বাচনের পরে দিকে দিকে ভাঙচুর, ঘরছাড়া করা, হামলা চলছে।” মুখ্যমন্ত্রীর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলের খেজুরি ১ ব্লক সভাপতি শঙ্করলাল মান্নার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি পরিদর্শন করেছেন দলের অন্য প্রতিনিধিরা। পরে নন্দীগ্রামে শেখ সুফিয়ানের বাড়িতে গিয়ে বৈঠক করার পাশাপাশি পটাশপুরেও গিয়েছিলেন ওই প্রতিনিধিরা। এরই মধ্যে পুলিশ-প্রশাসনকেও দলীয় ভাবে ফের নিশানা করেছে তৃণমূল। একটি ছবি (সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার) সমাজমাধ্যমে দিয়ে তৃণমূল বলেছে, ‘কোনও উর্দি নেই। তা-ও মাথায় হেলমেট আর হাতে লাঠি? কবে থেকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাধারণ মানুষের উপরে অত্যাচার করার অধিকার পেল এই সব অপরিচিতেরা?’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee Abhishek Banerjee TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy