পাখির চোখ পঞ্চায়েত ভোট। আগামী ১১ জানুয়ারি থেকে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ প্রকল্প নিয়ে মাঠে নামছে তৃণমূল। সোমবার নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচির অন্তর্গত তৃণমূলের সাড়ে তিন লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক রাজ্যের প্রতিটি মানুষের বাড়িতে যাবেন। কথা বলবেন মানুষের সঙ্গে। জানাবেন সরকারি প্রকল্পের খুঁটিনাটি। এই কর্মসূচি চলবে দু’মাস। এ ভাবেই পঞ্চায়েতের আগে পুরোদমে জনসংযোগে নেমে পড়তে চলেছে রাজ্যের শাসকদল।
তৃণমূলের বিশেষ কর্মী সম্মেলনের মঞ্চেই ঘোষণা হল ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ কর্মসূচির। সেই প্রকল্পের মধ্যে দিয়ে পঞ্চায়েত ভোটের আগে বড় মাত্রায় জনসংযোগে নেমে পড়ছে তৃণমূল। এই কর্মসূচিতে তৃণমূলের সাড়ে ৩ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক ‘দিদির দূত’ হয়ে রাজ্যের ১০ কোটি মানুষের বাড়িতে পৌঁছবেন। মানুষকে জানাবেন মমতা সরকারের ১৫টি ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্পের খুঁটিনাটি। কোনও প্রকল্প পেতে অসুবিধা হচ্ছে কি না, তা-ও জানতে চাইবেন দিদির দূতেরা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনও পরামর্শ থাকলেও তা নথিভুক্ত করে নেবেন দিদির দূতেরা। তার পর অ্যাপের মাধ্যমে তা চলে আসবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ‘জয় বাংলা’, ‘ঐক্যশ্রী’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘যুবশ্রী’, ‘নিজ গৃহ নিজ ভূমি’, ‘খাদ্যসাথী’, ‘কন্যাশ্রী’-র মতো রাজ্য সরকারের ১৫টি ‘ফ্ল্যাগশিপ’ প্রকল্প নিয়ে মানুষের কাছে পৌঁছবেন। তার আগে ৩০০ জন রাজ্যস্তরের তৃণমূল নেতা ১০ দিন করে গ্রামে রাত্রিযাপন করবেন। চলবে জনসংযোগের পর্ব। রাত্রিবাস শেষে সেই বাড়িতেই পৌঁছবে দিদির দূতেরা। কথা বলবেন রাজ্য সরকারি প্রকল্প পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে।
পঞ্চায়েত ভোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি। কিন্তু প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজের নিজের মতো করে প্রচার কর্মসূচিতে নেমে পড়েছে। পিছিয়ে নেই রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলও। সাড়ে তিন লক্ষ দিদির দূত সরাসরি পৌঁছে যাবেন ১০ কোটি রাজ্যবাসীর দুয়ারে দুয়ারে। শুনবেন সুবিধা-অসুবিধার কথা। জানাবেন, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে কী কী করতে হবে। প্রসঙ্গত, ২০২১-এর বিধানসভা ভোটের আগেও একই ভাবে ‘দিদিকে বলো’র মতো প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার পঞ্চায়েতকে পাখির চোখ করে একই রকম ভাবে ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ চালু করছে তৃণমূল।