বিধানসভায় স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর ঘরের বাইরে ধর্না অবস্থান করলেন তৃণমূল বিধায়কেরা। শুক্রবার দুপুরে বিধানসভার স্পিকারের ঘরের বাইরে আচমকাই বিরোধী দলের বিধায়কেরা ধর্নায় বসেন। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া সত্ত্বেও বিধানসভার সচিবালয়ের তরফে তাদের সেই মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি, বিধানসভায় বসার জন্য বিরোধী দলনেতা এবং বিরোধী বিধায়কদের জন্য যে ঘরগুলি বরাদ্দ করা হয়েছে তাতেও এখনও তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সম্প্রতি তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে একপ্রস্ত ‘নাটক’ হয়েছে বিধানসভায়। বিধানসভার সচিবালয়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর করা একটি চিঠি জমা পড়ে। যেখানে বিধানসভার সচিবালয়কে জানানো হয়, বালিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে তৃণমূল পরিষদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। চিঠি পাওয়া মাত্রই বিধানসভার সচিবালয় থেকে স্পিকারের নজরে আনা হয় বিষয়টি। বিধানসভা সূত্রে খবর, স্পিকার জানান, তৃণমূলের এই চিঠিতে পরিষদীয় দলের স্বাক্ষর নেই। বিধানসভার রীতি অনুযায়ী বিধায়কদের স্বাক্ষর করা প্রস্তাবপত্রটি চিঠি আকারে বিধানসভার সচিবালয়ে জমা দিলেই তৃণমূলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়া হবে।
সেইমতো বৃহস্পতিবার শোভনদেবের তরফে বিধানসভার সচিবালয়ে ওই চিঠিটি জমা দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, শুক্রবারেও বিরোধী দলের জন্য বরাদ্দ ঘরগুলিতে তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। তাই বিরোধী দলের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে অভিযোগ এনে তৃণমূলের একগুচ্ছ বিধায়ক স্পিকারের ঘরের সামনেই ধর্নায় বসেন। ধর্নায় নেতৃত্ব দেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব। এ ছাড়াও ছিলেন প্রাক্তন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রাক্তন মন্ত্রী পুলক রায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি, জয়নগরের বিধায়ক বিশ্বনাথ দাস প্রমুখ।