সব ঠিক থাকলে জানুয়ারি মাসের শেষ সপ্তাহে বীরভূমে যেতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছরের ১১ অগস্ট এই বীরভূমেরই তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলকে গ্রেফতার করে সিবিআই। তার তিন দিন পর অর্থাৎ ১৪ অগস্ট কলকাতার বেহালায় জনসভা করতে গিয়ে অনুব্রতকে ‘বীরের সম্মান’ দেওয়ার কথা বলেছিলেন মমতা। তবে বীরভূমে আর পা রাখেননি। ৩০ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠক রয়েছে। প্রশাসনিক মহলে খবর, তার পরের দিনই বীরভূমে যেতে পারেন মমতা।
অনুব্রতের জেলায় গিয়ে প্রশাসনিক সভার পাশাপাশি, রাজনৈতিক বৈঠকও করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও সফরসূচি তৈরি না হলেও, দু’দিনের সফর ধরে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে প্রশাসন। কিন্তু এখনই এ বিষয়ে কিছু বলতে নারাজ নবান্নের শীর্ষ কর্তারা। কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর সফরের পূর্ণাঙ্গ সূচি তৈরি না হলে প্রকাশ্যে কিছু জানানোর রেওয়াজ নেই। তাই আপাতত প্রশাসনিক কর্তারা ব্যস্ত সেই সফরের প্রস্তুতি নিয়ে। এ বিষয়ে বীরভূম জেলা প্রশাসনকেও প্রাথমিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী শেষ বার বীরভূম সফরে গিয়েছিলেন বগটুইকাণ্ডের পর। সেই সময় বহাল তবিয়তে শাসকদলের জেলা সংগঠন সামলাতেন অনুব্রত। সেই সফরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই ছিলেন তিনি। বগটুয়ের ঘটনার পর আর বীরভূম যাননি মমতা। ৩১ জানুয়ারি যদি তিনি যান, তবে প্রায় ১০ মাস পর ওই জেলায় পা রাখবেন।
আরও পড়ুন:
তবে বাংলার রাজনীতির বৃত্তে থাকাদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর যত না বেশি প্রশাসনিক, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক। কারণ পঞ্চায়েত ভোটের আগে বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দলীয় নেতৃত্বকে বেশ কিছু নির্দেশ দিতে পারেন তিনি। জেলা তৃণমূলের সভাপতি বর্তমানে জেলবন্দি। রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ, ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিকাশ রায়চৌধুরী ও লাভপুরের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহ এখন সমন্বয় করে এখন বীরভূম জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক কাজকর্ম দেখছেন। তাই পঞ্চায়েত ভোটের প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কী কী করণীয় সে বিষয়ে ওই চার নেতার সঙ্গে এই সফরে বৈঠক করতে পারেন মমতা।