জমি চাই শহর-সংলগ্ন এলাকায়। অথচ সরকার জমি অধিগ্রহণ করবে না। অগত্যা বেসরকারি উদ্যোগীদের কাছে শিল্প পার্ক গড়ার প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্যের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর। সেই প্রস্তাবে সাড়া দিয়েছে ২০টি সংস্থা। এর মধ্যে প্রথম দফায় ন’টি সংস্থাকে পার্ক তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য মন্ত্রিসভার শিল্প বিষয়ক স্থায়ী কমিটি।
এ রাজ্যে বড় শিল্পের খরা সত্ত্বেও শিল্প পার্ক তৈরির জন্য বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার ঘটনায় খানিক উচ্ছ্বসিত নবান্নের কর্তারা। এক কর্তার কথায়, ‘‘বড় শিল্প তৈরির জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শিল্পতালুক তৈরি করেছে রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগম। অথচ বছরের পর বছর সেখানে জমি ফাঁকা পড়ে রয়েছে। বার বার বিজ্ঞাপন দিয়েও বিনিয়োগকারী পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ ছোট ছোট বিনিয়োগের জন্য শিল্পপার্ক গড়তে বেসরকারি সংস্থাই এগিয়ে এসেছে— এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক।’’
ঘটনা হল, বড় শিল্প তৈরি করতে হাজারো সমস্যা বুঝে সরকার গড়ার পর থেকেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে রাজ্য সরকার। তাতে ফলও মিলেছে। দফতর সূত্রের খবর, তাদের হাতে থাকা অধিকাংশ শিল্পতালুকেই ‘ঠাঁই নাই’ অবস্থা। আবার সরকারি উদ্যোগে নতুন তালুক যে গড়ে উঠবে, সে সুযোগও নেই। কারণ, সরকার জমি অধিগ্রহণ করবে না। যেটুকু খাস জমির সন্ধান রয়েছে, জমি মিলছে, সেগুলি প্রান্তিক এলাকায় বলে সেখানে শিল্প পার্ক গড়তে আগ্রহী নন শিল্পোদ্যোগীরা। তাই পার্ক গড়তে বেসরকারি উদ্যোগকেই আহ্বান জানিয়ে ছিল সরকার। এবং প্রথম পর্বে তারা সফল।
দফতরের সচিব রাজীব সিংহ বলেন, ‘‘কলকাতার আশপাশে শিল্প গড়ার মতো খাস জমি নেই। অথচ কেউ দূরবর্তী জেলায় যেতে চাইছেন না। সেখান থেকেই ভাবনাটা এসেছিল, যদি নিজেরা জমি জোগাড় করে শিল্প পার্ক করতে পারে, তা হলে সরকার প্রয়োজনীয় সাহায্য করবে।’’
ছোট পার্ক
• চণ্ডীতলা ২০ একর
• ডোমজুড় ২২ একর
• লিলুয়া ২৪ একর
• ফুলবাড়ি ৩২ একর
• উলুবেড়িয়া ৫৬ একর
• অন্ডাল ৬৬ একর
• বিন্নাগুড়ি ১০৬ একর
• বৈকুণ্ঠপুর ১০৮ একর
• আমতলা ১১৬ একর
ছাড়পত্র দেওয়ার শর্ত কী? দফতর সূত্রের খবর, শিল্প পার্ক করতে কমপক্ষে ২০ একর জমি ব্যক্তি মালিকানা বা সংস্থার নামে থাকতে হবে। সেই জমির উন্নয়ন থেকে নিকাশি, সমস্ত প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে বেসরকারি উদ্যোগীকেই। কোনও আবেদনকারী সব শর্ত পূরণ করলেই তাঁকে পার্কের জমি আগ্রহী শিল্প সংস্থা বা ব্যক্তিকে বিক্রি করার অনুমতি দেবে সরকার।
শর্তে অবশ্য এ-ও বলা আছে, জমির দাম নির্ধারণে সরকার নাক গলাবে না। শিল্পের স্বার্থে সরকার নিজের খরচে পার্কে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করে দেবে। পার্ক থেকে দু’কিলোমিটার পর্যন্ত রাস্তাও বানিয়ে দেবে। এমনকী, ছাড় মিলবে শুল্কেও। দফতর সূত্রের খবর, অনুমতি পাওয়া ন’টি সংস্থাই জমি কিনে ফেলেছে।
এমনই এক শিল্পোদ্যোগী হাওড়ায় পার্ক গড়ছেন। তাঁর কথায়, ‘‘জমি কেনাই ছিল মূল বাধা। সব মিটেছে। এ বার তা শিল্পের উপযুক্ত করে তুলতে হবে। পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেলে অনেকে ‘শেড’ করবে বলে যোগাযোগ করেছেন।’’ উত্তরবঙ্গের এক শিল্পোদ্যোগীর বক্তব্য, ‘‘চাষের জমি শিল্পের উপযোগী করতে হবে। সে জন্য ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে হবে। তাই একটু দেরি হচ্ছে।’’
দফতরের এক কর্তা জানান— সরকারও জানে, এ সব ক্ষেত্রে মাছের তেলে মাছ ভাজার পথেই হাঁটবেন বিনিয়োগকারীরা। তাই প্রকল্পের কাজে গতি বজায় রাখতে অনুদানের বন্দোবস্ত রেখেছে ক্ষুদ্র শিল্প দফতর। যেমন, ২০ একর জমির জন্য মিলবে দু’কোটি, তার বেশি হলে ৪ কোটি এবং ৬০ একরের উপরে ছ’কোটি টাকা। এ ভাবেই ১০০ একর বা তার বেশি জমির জন্য সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা অনুদান দেবে সরকার।
অনুদান পেতে হলে পার্কের ৮০% জমিতে শিল্প করতেই হবে এবং সেখানে ন্যূনতম ২০টি শিল্প সংস্থাকে ‘শেড’ দিতে হবে। এর বাইরে পড়ে থাকা জমিতে হস্টেল, আবাসন, অফিস ও ক্যান্টিনের মতো সাধারণ পরিষেবা ও সবুজায়নের বন্দোবস্ত করতে হবে।