Advertisement
E-Paper

গাঁধী-সুভাষকে পাশে রেখেই চটুল নাচাগানা

পাশে তোলা হয়েছে জাতীয় পতাকা। সেই পতাকাতলে হাজির মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী, সুভাষচন্দ্র বসুও। এবং তাঁদের পাশেই মঞ্চ বেঁধে চটুল হিন্দি গানের সঙ্গে সুন্দরীদের তুমুল নৃত্য।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:২৭
সেই চটুল নাচ। মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসে মতি শীল স্ট্রিটের অনুষ্ঠানে। — নিজস্ব চিত্র

সেই চটুল নাচ। মঙ্গলবার প্রজাতন্ত্র দিবসে মতি শীল স্ট্রিটের অনুষ্ঠানে। — নিজস্ব চিত্র

পাশে তোলা হয়েছে জাতীয় পতাকা। সেই পতাকাতলে হাজির মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধী, সুভাষচন্দ্র বসুও। এবং তাঁদের পাশেই মঞ্চ বেঁধে চটুল হিন্দি গানের সঙ্গে সুন্দরীদের তুমুল নৃত্য।

মঙ্গলবার, প্রজাতন্ত্র দিবসের দুপুরে ধর্মতলায় লেনিন সরণি ও সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি রোড সংলগ্ন মতি শীল স্ট্রিটে এমনই দৃশ্যের সাক্ষী হলেন পথচলতি মানুষজন। উদ্যোক্তাদের দাবি, আমজনতার দাবি মেনে তাঁদের আনন্দ দিতেই তাঁরা এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন!

পুলিশ বলছে, মতি শীল স্ট্রিটে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানিয়ে উদ্যোক্তারা সংশ্লিষ্ট নিউ মার্কেট থানায় চিঠি দিয়েছিলেন। তার সত্ত্বেও কোনও রকম পুলিশি নজরদারি ছিল না বলে অভিযোগ। এই অভিযোগের ব্যাপারে পুলিশের তরফে কেউ কোনও মন্তব্য করতে চাননি। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালীন প্রথমে দু’-একটা দেশাত্মবোধক গান হয়। তার পরে হঠাৎই শুরু হয় চটুল হিন্দি গান। সঙ্গে সঙ্গে কোমর দোলাতে থাকেন মঞ্চের নর্তকীরা। বিপুল হাততালির সঙ্গে নাচতে নাচতে নর্তকীদের দিকে টাকা ছুড়তেও দেখা যায় কিছু দর্শককে। মঞ্চের পাশে ছিলেন তৃণমূলের ব্যাজ লাগানো বহু স্বেচ্ছাসেবী।

প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে এমন চটুল হিন্দি গান ও নাচ কেন?

নিজেকে তৃণমূলকর্মী হিসেবে দাবি করে মহম্মদ রিয়াজ খান নামে এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘‘আজকের দিনেই তো দেশ স্বাধীন (?) হয়েছিল। তাই এই অনুষ্ঠানের আয়োজন।’’ সাহেব রেহমান খান নামে অন্য এক উদ্যোক্তা বলেন, ‘‘জনগণকে আনন্দ দিতেই এই নাচগান। এর সঙ্গে দেশাত্মবোধক গানও তো চলছে।’’

এই ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। স্থানীয় সিপিএম নেতা অনাদি সাহু বলেন, ‘‘এই উচ্ছৃঙ্খলতা খুবই দুঃখের। আজকের প্রজন্মকে আমরা কোথায় নিয়ে চলেছি!’’ ওই অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেই চলে গিয়েছিলেন ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর গোপালচন্দ্র সাহা। চটুল নাচগানের ব্যাপারে পরে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। একটা সংগঠনে সব রকম লোক থাকে। এমন কিছু হয়ে থাকলে ভুল হয়েছে। খোঁজ নিচ্ছি।’’

এ দিনই বিকেলে কিছু দুষ্কৃতী অটোয় চড়ে এসে কাশীপুর রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে বোমা ছুড়ে পালায় বলে পুলিশ জানায়। অনুষ্ঠানে শিশু, মহিলারাও ছিলেন। ছিলেন তৃণমূলের ওয়ার্ড প্রেসিডেন্ট নন্দলাল সাউ। তাঁকে তাক করেই বোমা ছোড়া হয়েছে বলে কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই নেতা। তবে কারও আঘাত লাগেনি। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে কাশীপুরে বেশ কিছু ক্ষণ ঝিল রোড অবরোধ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ আশ্বাস দেওয়ার পরে অবরোধ উঠে যায়।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy