Advertisement
E-Paper

দেশে বিজেপি-কে মোকাবিলা করার একমাত্র নেত্রী মমতাই! বঙ্গে পদ্মের লড়াই ‘সম্মানজনক হারের’, বলে দিলেন অখিলেশ

পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন অখিলেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এ বারেও বিধানসভা নির্বাচনে মমতার কাছে থমকে যেতে হবে বিজেপি-কে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৯
WB CM Mamata Banerjee held a meeting with SP chief Akhilesh Yadav at Nabanna

মঙ্গলবার নবান্নে অখিলেশ যাদবকে (ডান দিকে) স্বাগত জানাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (বাঁ দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

সোমবার রাতে কলকাতায় পৌঁছেই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘দম’ সম্পর্কে প্রশংসা শোনা গিয়েছিল অখিলেশ যাদবের কথায়। মঙ্গলবার নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকের পরে আরও বড় মন্তব্য করলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন অখিলেশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এসপি নেতা তথা বাম আমলের প্রাক্তন মৎস্যমন্ত্রী কিরণময় নন্দ। মমতাকে পাশে নিয়েই অখিলেশ বলেন, ‘‘গোটা দেশে কেউ যদি বিজেপি-কে মোকাবিলা করে থাকেন, তা হলে সেটা করছেন এখানকার (পশ্চিমবঙ্গের) মুখ্যমন্ত্রী।’’ অখিলেশের এই মন্তব্য সর্বভারতীয় স্তরে বিজেপি-বিরোধী পরিসরের জন্য ‘তাৎপর্যপূর্ণ’। কারণ, অখিলেশ কেবল মমতাকে বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ে ‘শ্রেষ্ঠ’ আখ্যা দিয়েছেন তা-ই নয়। ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দেশের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসও মমতার মতো লড়াই করতে পারছে না কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে। কোন কংগ্রেস? যে কংগ্রেস সম্পর্কে আঞ্চলিক দলগুলি প্রায়ই ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ তোলে। বিহারের নির্বাচনেও আসন সমঝোতার পর্বে সেই অভিযোগ বারংবার উঠেছিল। এ হেন দলগুলির নেতাদের বক্তব্য, কংগ্রেস মুখে বলে দেশের ২৫০টির বেশি আসনে তাদের সঙ্গে বিজেপির মুখোমুখি লড়াই। কিন্তু ফলিত স্তরে তার ছিটেফোঁটাও দেখা যায় না। অখিলেশের কথায় পরোক্ষে হলেও সেই ইঙ্গিত ধরা পড়েছে।

ঘটনাচক্রে, এ কথা প্রায়শই বলছেন তৃণমূলের নেতারাও। বিশেষত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বারংবার বলছেন, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র, বিহারে ভোটার তালিকায় কারচুপি ধরতে পারলে বিজেপি কখনওই জিতত না। অভিষেক নাম করেননি। কিন্তু ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর নিশানা কোন দিকে।

পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসেছেন অখিলেশ। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, এ বারও বিধানসভা নির্বাচনে মমতার কাছে থমকে যেতে হবে বিজেপি-কে। প্রয়াত মুলায়ম সিংহ যাদবের পুত্রের এ-ও ভবিষ্যদ্বাণী, ‘‘বিজেপি এখানে লড়াই করছে সম্মানজনক হারের জন্য।’’

১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া (এসআইআর) চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে অখিলেশের রাজ্য উত্তরপ্রদেশও। যেখানে প্রায় তিন কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তবে সমাজবাদী পার্টির প্রধানের দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে নিশানা করেই এসআইআর করা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘এত দিন কমিশন কাজ করত বেশি সংখ্যক মানুষ যাতে ভোটার হতে পারেন সেই লক্ষ্যে। এই প্রথম সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি ভোটারদের নাম কেটে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে।’’

তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সংস্থার দফতরে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) হানা দিয়েছিল গত ৮ জানুয়ারি। সে দিনই দু’জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চলাকালীনই একটি সবুজ ফাইল-সহ একাধিক ডিভাইস তিনি নিয়ে বেরিয়ে এসেছিলেন। দাবি করেছিলেন, ইডি তাঁর দলের তথ্য চুরি করতে এসেছিল। তিনি তা রুখে দিয়েছেন। সোমবার শহরে পৌঁছেই অখিলেশ মমতার সেই ভূমিকার প্রশংসা করেছিলেন। বিজেপি-কে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন, ‘‘দিদি ইডি-র থেকে পেনড্রাইভ নিয়ে নিয়েছেন। সেই ‘পেন’ (যন্ত্রণা) বিজেপি ভুলতে পারছে না।’’ মঙ্গলবার আবার সে কথা উল্লেখ করে অখিলেশের সংযোজন, ‘‘কমিশন যখন ভোটচুরি করছে, তখন দিদি ডিজিটাল ডাকাতি রুখে দিয়েছেন। দিদির সাহসকে কুর্নিশ জানাই।’’

নবান্নে যাওয়ার আগে অখিলেশ গিয়েছিলেন কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী তথা লোকসভার সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং সমাজবাদী পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ তথা অভিনেত্রী জয়া বচ্চন। জয়া অবশ্য নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকে যাননি। যাননি ডিম্পলও।

CM Mamata Banerjee Nabanna Akhilesh Yadav sp TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy