E-Paper

সংগঠিত অপরাধ দমনে এসওপি জারি পুলিশের

পুলিশের একাংশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে সংগঠিত অপরাধ। এই অপরাধচক্র, তাদের সদস্য এবং এই চক্রের অর্থের মোকাবিলার জন্য বিএনএস-এর ১১ নম্বর ধারা তৈরি করা হয়েছে।

শিবাজী দে সরকার

শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৪

—প্রতীকী চিত্র।

সংগঠিত অপরাধের যথাযথ তদন্তের জন্য আদর্শ কার্যপদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিয়োর বা এসওপি) তৈরি করেছে রাজ্য পুলিশ। প্রশাসনের খবর, ওই এসওপি ইতিমধ্যেই প্রত্যেকটি জেলা এবং রেল পুলিশকে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১১১ ধারায় যে ভাবে সংগঠিত অপরাধের তদন্তের কথা বলা হয়েছে, তা সামনে রেখেই ওই এসওপি তৈরি করা হয়েছে। এ বার থেকে ওই এসওপি মেনেই সংগঠিত অপরাধের তদন্ত করতে হবে।

পুলিশের একাংশের দাবি, আইনশৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে সংগঠিত অপরাধ। এই অপরাধচক্র, তাদের সদস্য এবং এই চক্রের অর্থের মোকাবিলার জন্য বিএনএস-এর ১১ নম্বর ধারা তৈরি করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ওই আইন মেনে কী ভাবে তদন্ত করা হবে, তার দিগনির্দেশের পাশাপাশি এসওপি-তে তদন্তের মান জোরদার করতে এবং অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার বৃদ্ধি করতে পদস্থ পুলিশকর্তাদের নজরদারি করতেও বলা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, কোনও ঘটনার সঙ্গে সংগঠিত অপরাধচক্রের যোগ আছে—তদন্তকারী অফিসার যদি এমন কোনও সূত্র পান তা হলে ওই ধারা প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে তদন্তকারী অফিসারকে তাঁর উপরওয়ালার অনুমতি নিতে হবে এবং আদালতে আর্জি জানাতে হবে।

কোনও অভিযুক্ত গত দশ বছরের মধ্যে একাধিক অপরাধ করে এবং তাতে যদি চার্জশিট জমা পড়ে তা হলেও এই প্রয়োগ করা যাবে। এ ছাড়া, মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণ, তোলাবাজি, গাড়ি চুরির সিন্ডিকেট, অর্থনৈতিক অপরাধ, মানবপাচার এবং সংগঠিত সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে ওই ধারা প্রয়োগ করা যাবে। পুলিশের বক্তব্য, কোনও অপরাধ বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হলে সেই চক্রের সব সদস্যের বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও দায়ের করা যাবে।

এসওপি অনুযায়ী, সংগঠিত অপরাধ বিরোধী ধারায় মামলা হলে তার তদন্ত ন্যূনতম এসআই পদের অফিসারকে দিয়ে করাতে হবে। জেলায় এসডিপিও এবং কমিশনারেটে এসিপি মামলার তত্ত্বাবধান করবেন। প্রয়োজনে এসপি বা ডিসি-র নির্দেশে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা যেতে পারে। এক পুলিশকর্তা বলেন, “কী ভাবে তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে হবে, সাক্ষীকে নিরাপত্তা দিতে হবে এবং বিচার প্রক্রিয়া কী ভাবে এগোবে, তা এসওপি-তে বলা হয়েছে। এডিজি (সিআইডি) প্রতি বছর এসওপি-র কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে তাঁর রিপোর্ট রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে জমা দেবেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

West Bengal Police police investigation Crimes

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy