গত জুলাই মাসেই রাজ্য স্বরাষ্ট্র দফতরের নিয়ন্ত্রণ থেকে ‘মুক্ত’ হতে চেয়েছিল বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতর। তা নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েনও কম হয়নি। এ বার সেই রাজ্য সরকারের উপরেই নির্ভর করে তৈরি হল সিইও দফতরের নতুন ওয়েবসাইট।
এত দিন রাজ্যের সিইও দফতরের পুরনো ওয়েবসাইট https://ceowestbengal.nic.in/ দেখভালের দায়িত্বে ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ সংস্থা ‘ন্যাশনাল ইনফর্মেটিক্স সেন্টার’ (এনআইসি)। ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের হাতেই ছিল। কিন্তু শুক্রবার সিইও দফতর যে নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে, তা তৈরি করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। নতুন ওয়েবসাইটের নাম https://ceowestbengal.wb.gov.in/ অর্থাৎ, ওয়েবসাইটেই পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের উল্লেখ রয়েছে।
এ রাজ্যের সিইও দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘আগের ওয়েবসাইটটি পরিচালনার ক্ষেত্রে একটু জটিল ছিল। কিন্তু নতুন ওয়েবসাইট ভাল, দ্রুত কাজ করছে।’’
যদিও বিষয়টি মোটেই নজিরবিহীন নয়। এটা ঠিক যে, দেশের অধিকাংশ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সিইও দফতরের ওয়েবসাইটটি কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘এনআইসি’র অধীনস্থ। সেই সব রাজ্যগুলির মধ্যে রয়েছে অসম, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, তেলঙ্গানা, জম্মু-কাশ্মীর, ওড়িশা, সিকিম এবং মণিপুর। তবে পঞ্জাব, রাজস্থান এবং বিহারের মতো কিছু রাজ্য রয়েছে, যেখানে সিইও দফতরের ওয়েবসাইট রাজ্য সরকারের সাহায্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। সেই তালিকায় এ বার পশ্চিমবঙ্গের নামও জুড়ল।
গত ২৭ অক্টোবর, সোমবার রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর ঘোষণা হয়। ঘটনাচক্রে, তার পরদিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার থেকেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল রাজ্যের সিইও দফতরের ওয়েবসাইটটি। তা নিয়ে ক্ষোভও তৈরি হয়েছিল জনমানসে। কারণ, বহু মানুষই ২০০২ সালের ভোটার তালিকা দেখতে চাইছিলেন, যা ওই ওয়েবসাইট থেকে পাওয়ার কথা। কিন্তু ওয়েবসাইটটি অকেজো হয়ে পড়ায় তা সম্ভব হচ্ছিল না। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার নতুন ওয়েবসাইট চালু করে সিইও দফতর। সূত্রের খবর, এই ওয়েবসাইট থেকেই ২০০২ সালের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, এসআইআর সংক্রান্ত কাজকর্মও হবে এই ওয়েবসাইটে।
ঘটনাচক্রে, এসআইআর নিয়ে জল্পনার আবহে বার বার সঙ্ঘাতে জড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার এবং কমিশন। সে সবের মাঝেই রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থকে গত জুলাই মাসে চিঠি দিয়েছিল দিল্লির নির্বাচন সদন। রাজ্যকে কমিশন প্রস্তাব দিয়েছিল, স্বতন্ত্র নির্বাচনী বিভাগ হিসাবেই স্বীকৃতি দিতে হবে সিইও দফতরকে। সেই সময়ে কমিশনের কর্তাদের একাংশের যুক্তি ছিল, যে কোনও ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের উপরেই নির্ভর করে থাকতে হয় সিইও কার্যালয়কে। এমনকি, খরচের প্রশ্নেও নির্ভর করে থাকতে হয় অর্থ দফতরের উপরে। ছোটখাটো কোনও খরচের প্রশ্নেও বিপুল সময় নষ্ট হয় ফাইল চালাচালিতে। তা সিইও দফতরকে স্বতন্ত্র রাখতে হবে। তা ছাড়া দেশের অন্যান্য রাজ্যে এমন দফতর স্বতন্ত্র ভাবেই কাজ করে বলে জানানো হয়েছিল।
কিন্তু বাংলায় এসআইআর পর্ব শুরু হতেই কার্যত রাজ্য সরকারের উপরেই খানিক নির্ভরশীল হয়ে পড়ল সিইও দফতর, যাকে ‘উলটপুরাণ’ হিসাবেই দেখতে চাইছেন অনেকে।
নির্বাচন কমিশন রাজ্যের সিইও দফতরকে ‘স্বাধীন দফতর’ হিসাবে ঘোষণা করার কথা বলার পর পরেই খবর মিলেছিল, সিইও দফতরের ঠিকানাও নাকি বদলে ফেলা হতে পারে। এখন কলকাতার স্ট্র্যান্ড রোডে বামার লরি ভবনে রয়েছে রাজ্যের সিইও-র দফতর। একটি সূত্রের দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের দফতর রয়েছে, এমন কোনও ভবনে স্থানান্তরিত করা হতে পারে সেই দফতর। মূলত কর্মীদের সংখ্যাবৃদ্ধি এবং গাড়ি পার্কিংয়ের সংস্যার বিষয়টি নজরে রেখেই ওই সিদ্ধান্ত। যদিও ঠিকানা বদল বাস্তবে রূপায়িত হয়নি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) শুরু হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। গ্রাম থেকে শহর, বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছোতে শুরু করেছেন কমিশনের বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। শুরু হয়ে গিয়েছে এনুমারেশন ফর্ম বিলিও।
- শুধু পশ্চিমবঙ্গেই নয়, দেশের আরও ১১টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলেও একই সঙ্গে শুরু হয়েছে এসআইআরের কাজ। যাঁরা কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন, তাঁদের জন্য অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার ব্যবস্থা করেছে কমিশন।
-
ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তি হওয়া বুথভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করে দিল নির্বাচন কমিশন, নাম দেখা যাবে কমিশনেরই ওয়েবসাইটে
-
অন্ধকারে ঢিল ছুড়বে না সুপ্রিম কোর্ট! এসআইআর মামলায় ফর্ম-৬ নিয়ে তৃণমূলের দাবি ওড়ালেন প্রধান বিচারপতি
-
ট্রাইবুনালে কাজই শুরু হয়নি, প্রবেশেও বাধা! নতুন মামলা সুপ্রিম কোর্টে, কী হচ্ছে জানতে চাইবেন প্রধান বিচারপতি কান্ত
-
ভোটার ট্রাইবুনালের কাজ শুরু! মোথাবাড়ি মাথায় রেখে কঠোর নিরাপত্তা, দফতর দর্শনে গিয়ে কী দেখল আনন্দবাজার ডট কম
-
পরিকাঠামো তৈরি, সোমবারেই ট্রাইবুনালে শুরু হয়ে যাবে শুনানি! রবিতে জোকার অফিস ঘুরে দেখে সিদ্ধান্ত নিলেন প্রাক্তন বিচারপতিরা