E-Paper

মেধাবীদের মঞ্চে সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়নে জোর মুখ্যমন্ত্রীর

মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, সিবিএসই ও সিআইএসসিই বোর্ডের মোট ২২১ জন পড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার-সহ শিক্ষা দফতরের অন্য আধিকারিকেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৭:৩৭
শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

যে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উপরে ৯০ শতাংশ ছাত্রছাত্রী নির্ভরশীল, সেই সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে জাতীয় শিক্ষানীতির আওতায় আনা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গকে। এই জাতীয় শিক্ষানীতির ভিত্তিতে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন হবে বলেই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে রাজ্যের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে তিনি এ কথা বলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক, মাদ্রাসা, সিবিএসই ও সিআইএসসিই বোর্ডের মোট ২২১ জন পড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, শিক্ষা সচিব বিনোদ কুমার-সহ শিক্ষা দফতরের অন্য আধিকারিকেরা। অনুষ্ঠানের শেষে পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হয় একটি ল্যাপটপ, স্বামী বিবেকানন্দের ছবি, তাঁর লেখা বই, একটি চটের ব্যাগ এবং উত্তরীয়। শেষে কিছু মেধাবী পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘‘সমস্ত ধর্মীয় ভাতা বন্ধ করে আবার চালু করা হয়েছে বিবেকানন্দ মেরিট স্কলারশিপ। জাতীয় শিক্ষানীতি এই রাজ্যে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্মার্ট বিদ্যালয়, স্মার্ট ক্লাসরুম এবং আধুনিক লাইব্রেরি গড়ে তোলা হবে। কেন্দ্রীয় সরকার পিএমশ্রী স্কুলগুলির জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ করতে চায়। আমাদের রাজ্যের স্কুলগুলিও পিএমশ্রী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার সুফলও পাওয়া যাবে। পাশাপাশি, কারিগরি শিক্ষার প্রশিক্ষণে জোর দেওয়া হবে।’’

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক পরিবেশের প্রসঙ্গও উঠে আসে। তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষাঙ্গনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা প্রয়োজন। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক মনোনয়ন প্রথা বাতিল করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে স্বশাসন দেওয়ায় অগ্রাধিকার দেব।’’

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে তাঁর আবেদন, ফি-তে যেন একটা নিয়ন্ত্রণ থাকে। সরকার বিব্রত হয় বা সাধারণ বাড়ির ছেলেরা অসুবিধার মধ্যে পড়ে, এমন কিছু না করার আবেদন করেন তিনি। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যত্নবান হওয়ার পরামর্শও দেন। না হলে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পড়ুয়াদের তুলনায় বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পড়ুয়ারা পিছিয়ে পড়বে বলেও জানান শুভেন্দু।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নারী শিক্ষার যে উদ্যোগ, সেই প্রয়াসকে সরকার অগ্রাধিকার দেবে। বালিকা বিদ্যালয়, মহিলা কলেজ এবং মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উপরে জোর দেওয়া হবে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলার বহু মেধাবী পড়ুয়া বিদেশে চলে যাচ্ছেন। আমরা চাই, মেধা বাংলাতেই থাকুক। তাকে কাজে লাগিয়ে উন্নত বাংলা, প্রকৃত সোনার বাংলা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনার বাংলা গড়ে তুলতে হবে।’’ পড়ুয়াদের জন্য তাঁর পরামর্শ, মাঝেমধ্যে এ পি জে আব্দুল কালামের বক্তৃতা শুনতে হবে, যা চরিত্র গঠনে সাহায্য করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শমীক ভট্টাচার্যও জাতীয় শিক্ষানীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পড়ুয়াদের তিনি বলেন, ‘‘জাতীয় শিক্ষানীতির ফলে আর ভারী ব্যাগের চাপে মেধা আটকে থাকবে না। নিজের পছন্দ অনুযায়ী পড়াশোনার সুযোগ মিলবে। ফিজ়িক্স পড়ার পাশাপাশি ইতিহাসও পড়া যাবে।’’

রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে শমীক বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দল আসবে, যাবে। কিন্তু ভারতের বহুত্ববাদী সমাজ এগিয়ে চলবে। বাংলায় কথা বললেই কেউ শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গবাসী হয়ে যান না। যাঁরা হিন্দি, গুজরাতি বা অন্য ভাষায় কথা বলেন, অথচ দীর্ঘদিন বাংলায় থেকে রাজ্যের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে চলেছেন, তাঁরাও বাঙালি।’’ পড়ুয়াদের উদ্দেশ্যে শমীক আরও বলেন, ‘‘আমাদের দেশে এমন বহু বিষয় রয়েছে, যা বিশ্বের উপরে প্রভাব ফেলেছে। সেগুলি সম্পর্কে তোমাদের জানতে হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suvendu Adhikari National Education Policy West Bengal government Education system

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy