Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

০৯ অগস্ট ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

সরাসরি ডিজি-কে চিঠি লিখে জানিয়ে দিল দিল্লি

বিধি ভেঙেই পুলিশ এটিসিতে

পুলিশ যে-ভাবে কলকাতা বিমানবন্দরের টাওয়ারে ঢুকে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানের উপরে নজরদারির চেষ্টা করেছিল, তা আইনবিরুদ্ধ বলে রাজ্য সরকারকে চিঠি

সুনন্দ ঘোষ
কলকাতা ১৪ এপ্রিল ২০১৮ ০৪:২০
Save
Something isn't right! Please refresh.
Popup Close

প্রবল বিতর্কের পরে পুলিশ হুটহাট বিমানবন্দরের এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল বা এটিসি-তে ঢুকে পড়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করলেও সমস্যা যে মেটেনি, সেটা স্পষ্ট করে দিল দিল্লির একটি চিঠি। পুলিশ যে-ভাবে কলকাতা বিমানবন্দরের টাওয়ারে ঢুকে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানের উপরে নজরদারির চেষ্টা করেছিল, তা আইনবিরুদ্ধ বলে রাজ্য সরকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তা দেখভাল করে বিমান মন্ত্রকের অধীন ব্যুরো অব সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিওরিটি (বিসিএএস)। কারা বিমানবন্দরে ঢোকার পরিচয়পত্র পাবেন, তারাই সেটা ঠিক করে। সেই বিসিএএস-এর ডিরেক্টর জেনারেল কুমার রাজেশ চন্দ্রই চিঠি লিখেছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি সুরজিৎ কর পুরকায়স্থকে। ‘‘চিঠি পেয়েছি। বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেটকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে,’’ বলেন নবান্নের এক শীর্ষ পুলিশকর্তা।

২০১৬-র ৩০ নভেম্বর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পটনা থেকে এসে কলকাতায় নামার আগে চক্কর কাটে ইন্ডিগোর বিমান। সেই বিমানের জ্বালানি ফুরিয়ে আসছিল বলে বিস্তর হইচই হয়। মামলা করে পুলিশ। সংসদে আলোচনা হয় এবং তদন্তের পরে বসিয়ে দেওয়া হয় তিন পাইলটকে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বাগডোগরা থেকে কলকাতায় নামার আগে আবার চক্কর কাটতে হয় ইন্ডিগোর বিমানকে। ক্ষুব্ধ হন মুখ্যমন্ত্রী। ২৩ ফেব্রুয়ারি বাগডোগরা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যখন কলকাতায় ফিরছিলেন, তখন চার পুলিশ অফিসার পৌঁছে যান এটিসি-র টাওয়ারে। পুলিশের বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর বিমানকে যাতে চক্কর কাটতে না-হয়, মূলত তা দেখাই ছিল ওই অফিসারদের উদ্দেশ্য।

Advertisement

সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই দিল্লির চিঠি। এটিসি অফিসারেরা যে-টাওয়ার থেকে বিমান নিয়ন্ত্রণ করেন, পুলিশ সেখানে পৌঁছে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিমানবন্দর-কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান গুরুপ্রসাদ মহাপাত্র বিসিএএস-কে চিঠি দেন। তদন্ত হচ্ছে বলে কলকাতায় এসে জানান তখনকার বিমানমন্ত্রী জয়ন্ত সিংহ।

দিল্লির চিঠিতে বলা হয়েছে, কিছু পুলিশ অফিসারের কাছে বিমানবন্দরে ঢোকার অনুমতিপত্র থাকলেও তাঁরা কোনও ভাবেই টাওয়ারে যেতে পারেন না। ঘটনার দিন টাওয়ারের দায়িত্বে থাকা ওয়াচ সুপারভাইজারি অফিসার (ডব্লিউএসও) বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানালে এক পুলিশ অফিসার তাঁকে হুমকি দেন। বিমানবন্দর সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে ঢোকার অনুমতি সংবলিত কার্ডে ইংরেজি ‘এফ’ লেখা থাকলে তবে এটিসি-তে যাওয়া যায়, টাওয়ারে নয়। যাঁদের কার্ডে ‘এফটি’ লেখা থাকে, শুধু তাঁরাই টাওয়ারে যেতে পারেন। সব পুলিশ অফিসারের কার্ডে সেই ‘এফটি’ লেখা থাকে না বলে জানান এটিসি অফিসারেরা।

পুলিশ অফিসারদের টাওয়ারে প্রবেশ নিয়ে হইচই শুরু হওয়ায় বিধাননগর কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, এটিসি-র সঙ্গে সমন্বয় করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। ২৩ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনার পরে অবশ্য পুলিশ কিছুটা সংযত হয়ে গিয়েছে বলে বিমানবন্দর সূত্রের খবর। ১৬ মার্চ বাগডোগরা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ফেরার সময়ে এটিসি বিল্ডিংয়ে পৌঁছলেও টাওয়ারে যায়নি পুলিশ। ২৯ মার্চ দিল্লি থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ফেরার সময়ে পুলিশের কেউ এটিসি-তেও যাননি। ফোনে কথা বলে নেন এটিসি-কর্তাদের সঙ্গে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, Twitter এবং Instagram পেজ)


Tags:
ATC Kolkata Airport West Bengal Police Air Traffic Controlএয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল
Something isn't right! Please refresh.

Advertisement