একা রামে রক্ষা নেই! হনুমান দোসর!
বিজেপি-সঙ্ঘের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে সদ্য রামনবমী পালন করেছে তৃণমূল। তার পরে অশান্তির রেশ এখনও কাটেনি। অশান্তির ধাক্কায় বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো গেরুয়া সংগঠন পর্যন্ত এ বার হনুমান জয়ন্তীতে মাঠে-ময়দানে নামার কর্মসূচি বাতিল করেছে। কিন্তু রামে পাওয়া তৃণমূলকে এখন ঠেকায় কে! বজরংবলীর কৃপা পেতে কাল, শনিবার কোথাও শোভাযাত্রা, কোথাও হনুমান চালিসার স্তোত্র পাঠে সামিল হতে চলেছেন রাজ্যের শাসক দলের নেতা-কর্মীরা!
তাঁদের পুরনো তাস এখন তৃণমূলের হাতে শোভা পাচ্ছে শুনে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পূর্বাঞ্চলের নেতা শচীন্দ্রনাথ সিংহ বলছেন, ‘‘রাজ্যের পরিস্থিতি অশান্ত। এখন আর কোনও মিছিল-সভা করার প্রয়োজন দেখছি না। তাই আমাদের নানা কর্মসূচি থাকলেও হনুমান জয়ন্তীর সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল এই পরিস্থিতিতেও মিছিল করে অশান্তির পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।’’ তা হলে তাঁরা কী করবেন? শচীন্দ্রবাবুর কথায়, ‘‘ঘরে আর মন্দিরে বসে রাম-নাম জপ করব!’’
গত বছর রামনবমীর পর থেকেই হনুমান ভক্তি নিয়ে গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে লড়াইয়ে নেমেছিল তৃণমূল। বিধাননগর স্টেশনের কাছে গত বার মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের প্রতিষ্ঠা করা ২৫ ফুটের হনুমান মূর্তি ঘিরে এ বারও দিনভর সাড়ম্বর পুজো হবে। সাধনবাবুর ব্যাখ্যা, ‘‘আমি হনুমান ভক্ত। ওই এলাকার মানুষও হনুমানকে ভালবাসেন। বজরংবলী শক্তি দেয়। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাজনীতি দেখা হবে কেন?’’
বিধায়ক সুজিত বসুর উদ্যোগে বিধাননগরের জিসি ব্লকে হনুমান জয়ন্তীর ধুমধাম আয়োজন হচ্ছে। সুজিতবাবুর দুর্গাপুজোর জন্য খ্যাত শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মাঠেও দিনসাতেক পরে হনুমান জয়ন্তী হবে। বিধায়কের দাবি, ‘‘এই পুজোটা করছে সৎসঙ্ঘ সমিতি। আমার মাঠটা চেয়েছে, সেটা দিয়েছি।’’
এই হনুমান-ভক্তি যে বিজেপির সঙ্গে রাজনৈতিক রেষারেষিতেই, তা অবশ্য মেনেই নিচ্ছেন ব্যারাকপুরের তৃণমূল বিধায়ক শীলভদ্র দত্ত। ব্যারাকপুর স্টেশন থেকে হনুমান জয়ন্তীর শোভাযাত্রায় তৃণমূলই পুরোভাগে থাকবে। শীলভদ্র বলেন, ‘‘আগে বিজেপি রামনবমী বা হনুমান জয়ন্তীতে জড়াত না। এখন ওরা জড়াচ্ছে। আমাদেরও তাই বেশি করে মিছিলে থাকতে হচ্ছে।’’ ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন সিংহও হনুমান আরাধনার ঘোষণা করে হোর্ডিং দিয়েছেন। হনুমান মন্দিরে পুজো-অর্চনার রাশ হাতে নেওয়ার পাশাপাশি কিছু জায়গায় জল-শরবত বিলির বন্দোবস্তও করছে তৃণমূল।
ভক্তির আড়ালে বিজেপি-ভয় উড়িয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘রাম-রাবণ-হনুমানকে নিয়ে আমাদের শান্তির নীড়। এ নীড় কেউ নষ্ট করতে পারবে না। আর কে কার পুজো করবে, কোন ধর্ম পালন করবে, সে তো যার যার নিজের ব্যাপার!’’ আর পার্থবাবুদের বিঁধে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতি বলছে, মোকাবিলা করার বদলে হিন্দুত্ববাদীদের কর্মসূচিতে নিজেরা ঢুকে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতার জমিই শক্ত করছে তৃণমূল।