Advertisement
E-Paper

কবে পাব ডিএ? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকারি কর্মীদের লাগাতার ফোনে নাজেহাল কর্মচারী সংগঠনের নেতারা

সুপ্রিম কোর্টের কমিটি গড়ে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও একটি কমিটি গঠন করেছেন। সরকারি কর্মচারী মহলে খবর, সেই কমিটির সদস্যেরা নবান্নে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৭
When will the DA be granted? Employee union leaders are under constant pressure from government staff, inundated with phone calls following the Supreme Court’s directive

কবে মিলবে ডিএ? —প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মামলায় শীর্ষ আদালত রায় ঘোষণা করেছে গত বৃহস্পতিবার। সুপ্রিম কোর্ট বলে দিয়েছে, পুরনো বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ টাকা অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। ফলস্বরূপ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অপেক্ষা শুরু হয়েছে ডিএ পাওয়ার আশায়। এই পর্যায়ে সবচেয়ে করুণ অবস্থা সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের। যাঁরা এত দিন দাঁতে দাঁত চেপে আইনি যুদ্ধ করে ডিএ মামলার নিষ্পত্তিতে বড় ভূমিকা নিয়েছেন, তাঁদেরই এখন প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে।

লাগাতার মোবাইল ফোনে তাঁদের কাছে সরকারি কর্মচারীরা জানতে চাইছেন, কবে মিলবে ডিএ? বিরোধী কর্মচারী সংগঠনের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্ট ডিএ সংক্রান্ত মামলার রায়ে রাজ্য সরকারকে তা প্রদানের জন্য বেশ কিছু শর্ত বেঁধে দিয়েছে। যা অনেকের কাছে স্পষ্ট নয়, তাই নিজেদের মনের ধোঁয়াশা দূর করতে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতৃত্বের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিচ্ছেন তাঁরা। সেই প্রশ্ন একাধিক দিক থেকে আসায় জবাব দিতে গিয়ে নাজেহাল অবস্থা হচ্ছে তাঁদের।

এ প্রসঙ্গে ডিএ মামলার মূল মামলাকারী কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ়ের নেতা মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ডিএ পাওয়া নিয়ে প্রতিদিন এত ফোন আসছে, যে জবাব দিতে দিতে আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে আমাদের একই প্রশ্নের উত্তর একাধিক বার দিতে হচ্ছে। কখনও আবার এমন সব প্রশ্ন আসছে, যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। এমন প্রশ্ন আসাটাও অবশ্য স্বাভাবিক, কারণ, আদালতের নির্দেশ আসা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার এখনও কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটায়নি। এই অভিজ্ঞতা থেকে কর্মচারীরা নিজেদের মনের প্রশ্ন দূর করতে আমাদের দ্বারস্থ হতেই পারেন।’’

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) কোনও অনুদান বা সরকারের ইচ্ছাধীন ভাতা নয়, বরং এটি কর্মচারীদের আইনসম্মত অধিকার। ফলে ডিএ পাওয়ার জন্য আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। যাঁরা যোগ্য, তাঁরা স্বয়ংক্রিয় ভাবেই এই সুবিধা পাওয়ার অধিকারী।

ঘন ঘন ফোন আসা নিয়ে একই অভিজ্ঞতা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতৃত্বের। সেই সংগঠনের নেতা সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘‘৬ মার্চের মধ্যে ডিএর প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়ার কথা। অনেক সরকারি কর্মচারী ভয় পাচ্ছেন যে, রাজ্য সরকার আবার পাল্টা আবেদনে যেতে পারে। কারণ, তাঁদের পূর্ব অভিজ্ঞতা ভাল নয়। যে কারণে সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাদের কাছে হাজার প্রশ্ন নিয়ে ফোন যাচ্ছে। একটু সমস্যা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর সরকারি কর্মচারীরা আশায় বুক বাঁধছেন। সেই আশা থেকেই হয়তো তাঁরা আমাদের কাছে ফোন করে মনের অন্ধকার দূর করতে চাইছেন।"

উল্লেখ্য, ডিএ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ২০০৯ সালের অগস্ট থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ ছিল, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দিতে হবে এখনই। বাকি ৭৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার জন্য নতুন কমিটি গঠনের কথা বলেছে শীর্ষ আদালত। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি তৈরি হবে। বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে, সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। কমিটি মোট বকেয়ার পরিমাণ নিরূপণ করে পরিশোধের সময়সূচি ঠিক করবে।

সুপ্রিম কোর্টের কমিটি গড়ে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে আরও একটি কমিটি গঠন করেছেন। সরকারি কর্মচারী মহলে খবর, সেই কমিটির সদস্যেরা নবান্নে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন। তবে সেই বৈঠকে ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা জানতে পারেননি সরকারি কর্মচারীরা। আর এমন সব ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সরকারি কর্মচারীদের মনে। ফলে কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের ফোন করেই নিজেদের মনের উদ্বেগ দূর করতে চাইছেন সরকারি কর্মচারীরা, এমনটাই মনে করছে ডিএর দাবিতে আইনি লড়াই করা বিরোধী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি।

Dearness allowance DA West Bengal government supreme court verdict
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy