৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ডেকরেটিংয়ের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ধীরে ধীরে তাঁর ব্যবসা ফুলেফেঁপে ওঠে। রবিবার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে তাঁর ডেকরেটিংয়ের গুদাম ভস্মীভূত হয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই ‘পলাতক’ ছিলেন তিনি। তবে মঙ্গলবার রাতে গ্রেফতার হলেন ওই ডেকরেটিং গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাস।
গঙ্গাধরের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। ৪০ বছর আগে নিজের এলাকায় ডেকরেশনের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। প্রথম প্রথম জেলার মধ্যে নানা অনুষ্ঠানে সাজানোর বরাত পেতেন। সেইমতো প্লাস্টিক ফুল নিয়ে এসে কারিগরদের দিয়ে সাজাতেন অনুষ্ঠানস্থল। পরে বিদেশ থেকে বিভিন্ন সাজানোর দ্রব্য আমদানি করতেন গঙ্গাধর। প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা এবং গুদাম চালু করেন তিনি। সেই গুদামই আগুনে পুড়ে যায়। গাফিলতির কারণে দুর্ঘটনা— এই ধারায় মামলা রুজু করেছে পুলিশ। তবে গঙ্গাধরের দাবি, গাফিলতি তাঁর নয়। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন লাগে। এই ঘটনায় তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা শেষ হয়ে গিয়েছে।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ পূর্ব কলকাতার জোড়া গুদামে আগুন লাগে। ওই ডেকরেটিংয়ের গুদামের পাশেই ছিল এক মোমো কোম্পানির গুদাম। আগুনের গ্রাসে দুই গুদামই পুড়ে খাক হয়ে যায়। এখনও পর্যন্ত এই অগ্নিকাণ্ডে ১১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। তবে আরও কয়েকটি দেহাংশ মিলেছে। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কত জন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দগ্ধ দেহাংশ দেখে পরিচয় জানার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন:
কী ভাবে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে গাফিলতির অভিযোগ উঠছে। দমকল বিভাগের মতে, ওই গুদামে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। তারা অভিযোগ দায়ের করে। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। ঘটনার পর থেকেই নজরে ছিলেন গঙ্গাধর। মোবাইল ফোন দীর্ঘ ক্ষণ বন্ধ ছিল। কেউই যোগাযোগ করতে পারেননি তাঁর সঙ্গে। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। দায়ের হয় এফআইআরও। মঙ্গলবার বিকেলের পর তাঁর খোঁজ মেলে। তাঁকে নিয়ে আসা হয় থানায়। পরে গ্রেফতার হন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে।
- দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
- রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন।
-
‘ছেলেকে পেলাম, ভাইকে পাব?’ প্রশ্ন আত্মীয়ের, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত ১৮টি দেহাংশ
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিন পর চিহ্নিত ১৬টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে, শনাক্তের অপেক্ষায় ৯ পরিবার!
-
হাতে হাতে ১০ লাখের চেক! এখনও প্রিয়জনের দেহাংশটুকু পেল না আনন্দপুরের আগুনে মৃতদের পরিবার
-
আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই জলাভূমিতে গুদামঘর? নাজিরাবাদ বিপর্যয়ের দায় কার
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের ৫০ হাজার