আনন্দপুরের নাজিরাবাদে জোড়া গুদামে আগুন লাগার ঘটনায় বাড়ল মৃতের সংখ্যা। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১। আরও তিন টি দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলিকও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। তবে এখনও নিখোঁজ অনেকে। অন্য দিকে, নাজিরাবাদে ভস্মীভূত ডেকরেটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গাফিলতির জেরে মৃত্যুর অভিযোগে গ্রেফতার হলেন তিনি। ডেকরেটর্সের গুদাম লাগোয়া মোমো কোম্পানির গুদাম ছিল। সেটিও আগুনে পুড়ে খাক। ওই মোমো কোম্পানির মালিকদের বিরুদ্ধেও একই ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মোমো কোম্পানির কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
রবিবার রাত ৩টে নাগাদ পূর্ব কলকাতার জোড়া গুদামে আগুন লাগে। সোমবার পেরিয়ে মঙ্গলবারও বিকেল পর্যন্ত সেখানে ধিকিধিকি করে আগুন জ্বলেছে। পুড়ে যাওয়া গুদামের ইতিউতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল দেহাংশ। ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ঠিক কত জন ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। দগ্ধ দেহাংশ দেখে পরিচয় জানার উপায় নেই। ডিএনএ পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত করা হবে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। তবে তাঁরা কারা, কোথাকার বাসিন্দা— তা এখনও জানা যায়নি। এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জন।
কী ভাবে আগুন লাগল, কোন গুদাম থেকে আগুন ছড়াল— তা এখনও স্পষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যেই আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। বুধবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর পর তাঁকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আদালতে আবেদনও করবেন তদন্তকারীরা।
যদিও গঙ্গাধরের দাবি, গাফিলতি তাঁর নয়। পুলিশের কাছে তিনি দাবি করেছেন, মোমো কারখানার গাফিলতির কারণেই আগুন লাগে। এটা তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যবসা। তিনি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেন। তবে আগুন কোথা থেকে ছড়াল, তা এখনও নিশ্চিত করে কেউই বলতে পারছেন না।
আরও পড়ুন:
আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে। রণবীর জানান, বিভাগের তরফে কোনও ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কলকাতা পুরসভা এ ব্যাপারে কেন কোনও পদক্ষেপ করেনি, সেই প্রশ্নও তোলেন অনেকে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম এ ব্যাপারে বলেন, ‘‘কারও রুটিরুজি বন্ধ করা ঠিক নয়। তা হলে তো আপনারাই আবার প্রশ্ন করবেন।’’ জলাভূমি ভরাট করে ওই গুদামগুলি তৈরি হয়েছে বলে নানা মহল থেকে দাবি ওঠে। যদিও ফিরহাদ দাবি করেন, ওই গুদাম জলাভূমির উপর ছিল কি না, তাঁর জানা নেই। তবে নতুন করে আর কোনও জলাভূমি ভরাট হচ্ছে না।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- আনন্দপুরের ভস্মীভূত জোড়া গুদামে আদৌ কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল কি না, প্রশ্ন উঠছে। মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দমকল বিভাগের ডিজি রণবীর কুমার। তিনি জানান, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিয়ে দমকলের তরফে ওই গুদামের কোনও ছাড়পত্র ছিল না। অনুমোদন ছাড়াই কী ভাবে দিনের পর দিন ওই গুদাম চলছিল, সেই প্রশ্ন ওঠে।
- দমকলের অভিযোগের ভিত্তিতে নরেন্দ্রপুর থানায় গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, পুলিশও একই ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে। জোড়া মামলার তদন্তে নেমে মঙ্গলবার রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
- রবিবার রাত প্রায় ৩টে নাগাদ আনন্দপুরের নাজিরাবাদের একটি মোমো কোম্পানির গুদামে আগুন লেগে যায়। পাশাপাশি অবস্থিত দু’টি গুদামে মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে আগুন।
-
‘ছেলেকে পেলাম, ভাইকে পাব?’ প্রশ্ন আত্মীয়ের, আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শনাক্ত ১৮টি দেহাংশ
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ড: ২৬ দিন পর চিহ্নিত ১৬টি দেহাংশ তুলে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের হাতে, শনাক্তের অপেক্ষায় ৯ পরিবার!
-
হাতে হাতে ১০ লাখের চেক! এখনও প্রিয়জনের দেহাংশটুকু পেল না আনন্দপুরের আগুনে মৃতদের পরিবার
-
আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই জলাভূমিতে গুদামঘর? নাজিরাবাদ বিপর্যয়ের দায় কার
-
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শোকস্তব্ধ প্রধানমন্ত্রী, মৃতদের পরিবার পিছু ২ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা, আহতদের ৫০ হাজার