প্রেমের সম্পর্কের কথা বাড়িতে ফাঁস করে দিয়েছিল দুই বান্ধবী। জুটেছিল বকুনি। সেই ঘটনার পর থেকেই দুই বান্ধবীর উপরে শোধ নিতে খেপে উঠেছিলেন কলেজ-ছাত্রী। কলেজের পরীক্ষাগার থেকে সালফিউরিক অ্যাসিড চুরি করে বান্ধবীদের গায়ে ঢেলে দেওয়ার মতলব ছিল। কিন্তু রবিবার অ্যাসিড ঢালতে গিয়ে বিভ্রাট। বান্ধবীদের এক জনের গায়ে অ্যাসিড লাগেনি। আর এক জনের গায়ে যতটা না অ্যাসিড পড়ে, তার চেয়ে বেশি পড়ে তাঁর নিজের হাতে।
বিষ্ণুপুরে কলেজ ছাত্রীদের গায়ে রাসায়নিক ছেটানোর তদন্তে নেমে সোমবার এমনই দাবি করল পুলিশ। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করেনি। বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার সুখেন্দু হীরা বলেন, ‘‘তদন্ত শেষ হয়নি। সব দিক খতিয়ে দেখে পদক্ষেপ করব।’’
রবিবার বিকেলে কোতুলপুরে টিউশন নিয়ে জয়পুরের গেলিয়া গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন বছর আঠারোর তিন বান্ধবী। তিন জনেই হুগলির একটি কলেজে প্রথম বর্ষের ছাত্রী। বাস থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের মধ্যে দু’জনের গায়ে কোনও রাসায়নিক ছিটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। চিৎকারে লোকজন জড়ো হয়ে যায়। বাসটি আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তল্লাশিতে বাসের ভিতরে কসমেটিক্স-এর একটি ফাঁকা শিশি পায় পুলিশ। পুলিশের অনুমান, তাতেই অ্যাসিড ছিল।
এ দিন সকালে সন্দেহভাজন ছাত্রীটির পরিবারই থানায় তাঁদের মেয়ের উপরে অ্যাসিড-হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করে। জেলার এক পুলিশ কর্তা জানান, তার পরেই জেরার মাত্রা বাড়ানো হয়। পুলিশ দুই প্রত্যক্ষদর্শীকেও খুঁজে বার করে। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়, ঠিক কী ঘটেছে। তার পরেই তিন ছাত্রীকে পাশাপাশি বসিয়ে দফায় দফায় জেরা করা হয়। তখনই এক ছাত্রী ভেঙে পড়ে তাদের কাছে স্বীকারোক্তি দেন।