Advertisement
E-Paper

অপরাধীরা অধরা, তদন্তে আস্থা কমছে পরিবারের

সিআইডি তদন্তের উপরে আর কোনও ভরসা রাখতে পারছেন না মেনকা ভাণ্ডারী। তাঁর ভরসা নেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির উপরেও। ছেলে অরূপ খুন হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে দশ-দশটা দিন। সেই থেকে রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি মা। কিন্তু এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজীব-হত্যার খুনিদের বিচারের খবর শুনে একটু হলেও আশার আলো দেখছেন তিনি। দুপুরে সালকিয়ায় বাড়িতে বসে মেনকাদেবী বললেন, “রাজীবের খুনিদের যেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ভাবে যাঁরা মায়ের কোল খালি করে দেয়, তাদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।”

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ ০৪:১২

সিআইডি তদন্তের উপরে আর কোনও ভরসা রাখতে পারছেন না মেনকা ভাণ্ডারী। তাঁর ভরসা নেই খোদ মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির উপরেও।

ছেলে অরূপ খুন হওয়ার পরে কেটে গিয়েছে দশ-দশটা দিন। সেই থেকে রাতে দু’চোখের পাতা এক করতে পারেননি মা। কিন্তু এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাজীব-হত্যার খুনিদের বিচারের খবর শুনে একটু হলেও আশার আলো দেখছেন তিনি। দুপুরে সালকিয়ায় বাড়িতে বসে মেনকাদেবী বললেন, “রাজীবের খুনিদের যেন মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ভাবে যাঁরা মায়ের কোল খালি করে দেয়, তাদের বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।”

গত ২৮ জানুয়ারি সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের সময়ে কয়েক জন তরুণীকে কটূক্তি করেছিল এলাকার দুষ্কৃতীদের একটি দল। এর প্রতিবাদ করার ‘অপরাধে’ রাস্তায় ফেলে বেধড়ক মারা হয় বছর চব্বিশের অরূপ ভাণ্ডারীকে। পাঁচ দিন পরে, ২ ফেব্রুয়ারি একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান অরূপ। ঘটনাটি নিয়ে রাজ্য জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাওয়ার পরে সালকিয়ার বাড়িতে এসেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। অরূপের বাড়ির লোককে তিনি আশ্বস্ত করেছিলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হবে। পরে মামলার দায়িত্ব পায় রাজ্য গোয়েন্দা দফতর (সিআইডি)। এর মধ্যে এই খুনের ঘটনার ছয় অভিযুক্তের মধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করে হাওড়া সিটি পুলিশ। আর এক অভিযুক্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে গত বুধবার। বাকিরা এখনও অধরা।

Advertisement

পুলিশের এই ‘গা-ছাড়া’ মনোভাবই ভাবাচ্ছে অরূপের মা-বাবা-ভাইকে। অরূপের মা এ দিন বলেন, “রাজীব হত্যার পরে তো সবাইকে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এখানে তো ধরাই গেল না সবাইকে। সাজা তো অনেক দূরের কথা।” অরূপের বাবা প্রতাপবাবুও বলেন, “আমরা আর কিছু চাই না। শুধু চাই দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করা হোক এবং তাদের শাস্তি হোক।”

পরিবার সূত্রে খবর, ছেলের মৃত্যুর পরে কার্যত শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিলেন মেনকাদেবী। খাওয়া-দাওয়াও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছিলেন। চিকিৎসার পরে কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। এ দিন বাড়ির অন্যদের থেকে তিনি জানতে পারেন, বারাসতের আর এক প্রতিবাদী যুবক রাজীবের খুনিদের সাজা দেবে আদালত। নিজে টিভি না দেখলেও বাকিদের বলে রেখেছিলেন দোষীদের কী সাজা হয় তাঁকে জানাতে। এ জন্য সকাল থেকেই অশক্ত শরীর নিয়েও উন্মুখ হয়ে ঠায় উঠোনে বসেছিলেন তিনি। আদালত অভিযুক্তদের দোষী সাব্যস্ত করেছে বলে টিভিতে ঘোষণা করার পরেই বাড়ির লোকজন খবরটা তাঁকে জানান।

অরূপের ভাই অমর বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করার পরের দিনই এক জন গ্রেফতার হল। তার পর আর কোনও অভিযুক্তেরও টিকি ছুঁতে পারল না পুলিশ। উল্টে এক জন আদালতে আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে আত্মসমর্পণ করল। এ সব দেখে আমরা হতাশ।”

শুধু অরূপের পরিবারের লোকজন নয়, সালকিয়ায় বিবিবাগান এলাকায় অরূপ হত্যার তদন্ত নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের মধ্যেও সংশয় তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন আদালতে সকলের চোখের সামনে দিয়ে এসে আত্মসমর্পণ করায় সেই সন্দেহ আরও বেড়েছে। বাসিন্দাদের প্রশ্ন, যারা প্রথম থেকে টাকা দিয়ে ঘটনাটা ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিল, তারাই কি এখন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার এক প্রবীণ বাসিন্দা বনলেন, “অভিযুক্তেরা কেউ তো পেশাদার অপরাধী নয়। তা হলে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না কেন? তদন্ত রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত হচ্ছে তো?”

arup bhandari murder salkia investigation
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy