Advertisement
E-Paper

আদালতের সিসিটিভি ফুটেজও দেখার আর্জি

সবং মামলায় সজনীকান্ত কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর হয়েছে। এ বার মামলার শুনানিতে উঠে এল মেদিনীপুর আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গ। মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন ধৃত ছাত্র পরিষদ (সিপি) কর্মীদের আইনজীবী অলোক মণ্ডল বলেন, ‘‘বলা হচ্ছে, জোর করে কারও গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। জবানবন্দি নেওয়ার দিনে আদালত চত্বরে কারা ঘোরাফেরা করেছেন দেখা হোক। আদালতে সিসিটিভি রয়েছে।’’

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ০১:৪৭

সবং মামলায় সজনীকান্ত কলেজের সিসিটিভির ফুটেজ নিয়ে বিস্তর চাপানউতোর হয়েছে। এ বার মামলার শুনানিতে উঠে এল মেদিনীপুর আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ প্রসঙ্গ।

মঙ্গলবার শুনানি চলাকালীন ধৃত ছাত্র পরিষদ (সিপি) কর্মীদের আইনজীবী অলোক মণ্ডল বলেন, ‘‘বলা হচ্ছে, জোর করে কারও গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়নি। জবানবন্দি নেওয়ার দিনে আদালত চত্বরে কারা ঘোরাফেরা করেছেন দেখা হোক। আদালতে সিসিটিভি রয়েছে। বারান্দায় কারা ঘোরাফেরা করেছেন, কারা দাঁড়িয়ে থেকেছেন, ওই ফুটেজ থেকে দেখা হোক।’’

সবং মামলার শুনানির একাধিক দিনে আদালত চত্বরে এসেছেন জেলা পুলিশ সুপার ভারতী ঘোষ, খড়্গপুরের এসডিপিও সন্তোষ মণ্ডল, মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার আইসি সুশান্ত রাজবংশী। অলোকবাবু এঁদের প্রতিই ইঙ্গিত করেছেন বলে আইনজীবী-মহলের ধারণা। আসলে অলোকবাবু বোঝাতে চেয়েছেন, পুলিশের চাপে পড়েই কয়েকজন গোপন জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছেন। সিপি কর্মীদের আর এক হরিসাধন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই বলছি, রাজনৈতিক উদ্দেশে মামলা সাজিয়েছে পুলিশ। পুলিশের এই তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। মামলার দিনে পুলিশের বড় বড় কর্তা আদালত চত্বরে এসেছেন। ফুটেজ দেখলেই সব জানা যাবে। বোঝা যাবে।’’

আদালতের ফুটেজ দেখার আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন সরকারি কৌঁসুলি (পাবলিক প্রসিকিউটর, সংক্ষেপে পিপি) রাজকুমার দাস। তিনি বলেন, “এ ভাবে আদালতের সিসিটিভির ফুটেজ দেখা যায় না। এটা শিশুসুলভ বক্তব্য হয়ে গেল। আইনে এমন বিধান নেই। আদালতের দরজা সবার জন্য খোলা। এখানে যে কেউ আসতে পারেন।’’

মঙ্গলবার মেদিনীপুরের জেলা ও দায়রা বিচারক আশুতোষ করের এজলাসে সবং মামলায় ধৃত চারজনের জামিনের আবেদনের শুনানি ছিল। ধৃত টিএমসিপি কর্মী শেখ মুন্না এবং সানোয়ার আলির। ধৃত সিপি কর্মী পল্টু ওঝা এবং অনুপম আদকের। শুনানি চলাকালীন সরকারি কৌঁসুলি বলেন, “এই মামলায় যাঁরা গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই কংগ্রেসের সমর্থক। কেউ শিক্ষক, কেউ শিক্ষাকর্মী, কেউ ছাত্র পরিষদ কর্মী।’’ রাজকুমারবাবুর এই সওয়ালের পরই মেদিনীপুর আদালতের সিসিটিভির ফুটেজের প্রসঙ্গ সামনে আনেন ধৃত সিপি কর্মীদের আইনজীবী অলোকবাবু। বোঝানোর চেষ্টা করেন, পুলিশের চাপে পড়েই কয়েকজন গোপন জবানবন্দি দিতে বাধ্য হয়েছেন।

গত ৭ অগস্ট সবং সজনীকান্ত কলেজ চত্বরে সিপি কর্মী কৃষ্ণপ্রসাদ জানাকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগে এখনও পর্যন্ত ৭ জন গ্রেফতার হয়েছেন। ৪ জন সিপি-র। ৩ জন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি)। চার্জশিটে যে ২১ জনের নাম রয়েছে, তার মধ্যে ১৯ জনই সিপি-র। দু’জন টিএমসিপি-র। টিএমসিপি-র অসীম মাইতির নাম চার্জশিট থেকে বাদ পড়েছে। সিপি-র অভিযুক্তদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই রয়েছে জামিন অযোগ্য ধারা। আর টিএমসিপি-র দু’জনের বিরুদ্ধে আছে জামিন অযোগ্য ধারা। ধৃত সিপি কর্মী অনুপম আদক গোপন জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁকেওকে খুনের মামলায় যুক্ত করেনি পুলিশ। মারধর-সহ জামিনযোগ্য ধারা দেওয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত কেউই জামিন পাননি।

এ দিন সিপি কর্মী অনুপমের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেননি সরকারি কৌঁসুলি। তিনি বলেন, “আমি কারও নাম নিচ্ছি না। তবে বলছি, যাদের বিরুদ্ধে ৩২৩ ধারা রয়েছে, তাদের আটকে রাখা ঠিক হবে না।’’ জেলা আদালত অবশ্য ধৃত চারজনেরই জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। পরে সিপি কর্মীদের আইনজীবী হরিসাধনবাবু বলেন, “বেকায়দায় পড়েই সরকারপক্ষের আইনজীবী এদিন অনুপমের জামিনের আবেদনের বিরোধিতা করেননি। কারণ, টিএমসিপির মুন্নারা যে ধারায় অভিযুক্ত, সিপির অনুপমও সেই একই ধারায় অভিযুক্ত।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy