Advertisement
E-Paper

ইন্দিরা আবাসের চেক দিলেন বিডিও

হতদরিদ্র দিনমজুরের জীর্ণ কুটিরে উজিয়ে গিয়ে ইন্দিরা আবাস যোজনার চেক দিয়ে এলেন খোদ বিডিও! এক বছর ধরে দরজায় দরজায় কপাল ঠুকেও ফল মেলেনি। ইন্দিরা আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কিছুতেই পাচ্ছিলেন না সুবোধ সহিস। উল্টে সেই ন্যায্য পাওনা চাইলে শাসক দলের স্থানীয় কিছু নেতা ‘কমিশন’ চেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৪ ০৩:৫৭
তখনও চেক হাতে পাননি সুবোধ সহিস। ছবি: সুজিত মাহাতো

তখনও চেক হাতে পাননি সুবোধ সহিস। ছবি: সুজিত মাহাতো

হতদরিদ্র দিনমজুরের জীর্ণ কুটিরে উজিয়ে গিয়ে ইন্দিরা আবাস যোজনার চেক দিয়ে এলেন খোদ বিডিও!

এক বছর ধরে দরজায় দরজায় কপাল ঠুকেও ফল মেলেনি। ইন্দিরা আবাস যোজনার দ্বিতীয় কিস্তির টাকা কিছুতেই পাচ্ছিলেন না সুবোধ সহিস। উল্টে সেই ন্যায্য পাওনা চাইলে শাসক দলের স্থানীয় কিছু নেতা ‘কমিশন’ চেয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। পুরুলিয়ার আড়শা ব্লকের চাটুহাঁসা গ্রাম পঞ্চায়েতের মুদালি গ্রামের হতদরিদ্র দিনমজুরকে প্রায় ভেঙে পড়া কুটিরেই দিন গুজরান করতে হচ্ছিল।

তবে আনন্দবাজার পত্রিকায় ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে দ্বিতীয় কিস্তির ৪৫ হাজার টাকা পেলেন বছর চল্লিশের সুবোধ। দিনকয়েক আগে আড়শার বিডিও নিজে গিয়ে সুবোধকে চেক দিয়েছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ইন্দিরা আবাস যোজনায় তিন দফায় মোট ৭৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা। বছরখানেক আগে প্রথম দফার ১৮,৭৫০ টাকা পান সুবোধ। অভিযোগ, তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীরা আট হাজার টাকা ‘কমিশন’ দাবি করেন। কিন্তু তাঁর পক্ষে ওই টাকা দেওয়ার সম্ভব নয় বলে সুবোধ জানিয়ে দেন। তার পরে এক বছর ধরে দ্বিতীয় দফার টাকা আর পাচ্ছিলেন না ওই ব্যক্তি।

Advertisement

দুর্নীতির ওই খবর প্রকাশিত হওয়ার পরে রাজ্য সরকারের শীর্ষ স্তরের টনক নড়ে। পুরুলিয়া জেলার ওই তল্লাট মাওবাদী প্রভাবিত বলে সরকারি ভাবে চিহ্নিত। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের মুখ্যসচিব সঞ্জয় মিত্র শীঘ্র বিষয়টির খোঁজখবর নিয়ে রিপোর্ট দিতে নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্র দফতরকে। ইতিমধ্যেই মুখ্যসচিবের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে বলা হয়েছে, সুবোধ সহিস হতদরিদ্র দিনমজুর, চাষের জন্য নিজের জমি নেই। জরাজীর্ণ তাঁর ঘর। বিপিএল কার্ডে নাম থাকা ওই ব্যক্তির জন্য ইন্দিরা আবাস যোজনায় ঘর বানানোর টাকা মঞ্জুর করা হয়। প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে চারটি দেওয়াল তোলার পর দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাননি সুবোধ। অথচ, তিনি ওইটুকু কাজ শেষ হওয়ার শংসাপত্র ছবি-সহ বিডিও অফিসে যথা সময়ে জমা দেন বলেও সরেজমিনে খোঁজ নিতে যাওয়া সরকারি অফিসারেরা জেনেছেন। তবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পেতে সুবোধকে হয়রান হতে হল কেন, তার ওই রিপোর্টে স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়নি। নবান্নের একটি সূত্রের খবর, রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ধরনের ভুক্তভোগীদের অবস্থার সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির দালালদের সঙ্গে তাঁদের গোপন আর্থিক বোঝাপড়ার চেষ্টা করে। পুরুলিয়ার জেলা সভাধিপতি তথা জেলা তৃণমূল নেতা সৃষ্টিধর মাহাতো বলেন, “এই ভাবে যদি কমিশন চাওয়া হয়, সেটা দুর্ভাগ্যজনক। খবর পেয়েই প্রশাসনের কর্তাদের ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম।”

আড়শার বিডিও মাধব বিসাই বলেন, “আমি নিজে মুদালি গ্রামে গিয়ে সুবোধ সহিসের হাতে ৪৫ হাজার টাকার চেক দিয়ে এসেছি। ওই টাকা দিয়ে হওয়া কাজের শংসাপত্র জমা দেওয়ার পরেই বাকি টাকা তিনি পাবেন।” কিন্তু ওই ব্যক্তিকে এত দিন ধরে ঘোরানো হল কেন? বিডিও কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জেলা প্রশাসনের এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, “কিছু জটিলতা ছিল।”

indira abash yojona indira housing scheme chatuhasa subodh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy