Advertisement
E-Paper

উপাচার্য নিয়োগে টালবাহানা ঘিরে রহস্য

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপুষ্ট কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে বলে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ বার রাজ্যের একমাত্র প্রাণী ও মত্স্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠল সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে শাসক দলের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলছে বিরোধী শিবির।

মেহবুব কাদের চৌধুরী ও মধুরিমা দত্ত

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৫ ০৩:৫৭

রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও সরকারি সাহায্যপুষ্ট কলেজে স্থায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগে সরকার অনীহা দেখাচ্ছে বলে বিরোধী শিক্ষক সংগঠনগুলোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এ বার রাজ্যের একমাত্র প্রাণী ও মত্স্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও প্রশ্ন উঠল সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে। এ ক্ষেত্রে শাসক দলের ভূমিকাকেও কাঠগড়ায় তুলছে বিরোধী শিবির।

বেলগাছিয়ার পশ্চিমবঙ্গ প্রাণী ও মত্স্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় স্থায়ী উপাচার্য ছাড়াই চলছে প্রায় দেড় বছর। ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসেবে এখন কাজ সামলাচ্ছেন পূর্ণেন্দু বিশ্বাস। আগামী বছরের শুরুতেই তাঁর অবসর। বিরোধীদের বক্তব্য, এমন একটা সময়ে নতুন স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের জন্য সার্চ বা সন্ধান কমিটি গড়া প্রয়োজন। যথাসময়ে ওই কমিটি তৈরি না-হলে উপাচার্য খোঁজার জন্য তারা যথেষ্ট সময় পাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং উত্তরবঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের জন্য সম্প্রতি সার্চ কমিটি গঠিত হলেও প্রাণী ও মত্স্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে ওই পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য সরকার কোনও পদক্ষেপই করছে না।

প্রাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসমিতির এক সদস্য জানান, নিয়ম অনুযায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়ে একমাত্র আচার্যই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী। সেপ্টেম্বরে কর্মসমিতির বৈঠকে উপাচার্য-পদে পূর্ণেন্দুবাবুর মেয়াদ বাড়ানোর কথা উঠেছিল। ওই সদস্য বলেন, ‘‘মিটিংয়ে পূর্ণেন্দুবাবুর অধ্যাপনার মেয়াদ বাড়ানোর কথা হয়। সে-ক্ষেত্রে অবসরের পরেও তিনি পড়িয়ে যাবেন। আবার অস্থায়ী উপাচার্য হিসেবেও থেকে যাবেন তিনিই। স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টির মীমাংসা তাতে হচ্ছে না।’’

ওখানে নতুন স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগে সমস্যাটা ঠিক কোথায়?

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, পূর্ণেন্দুবাবু পুরনো নিয়মে অস্থায়ী উপাচার্য হয়েছিলেন। এখন উপাচার্য নিয়োগ করতে হলে বিধি পরিবর্তন করা প্রয়োজন। আর সেই পরিবর্তনের জেরেই উপাচার্য হিসেবে মনোনয়ন আটকে যেতে পারে বর্তমান অস্থায়ী উপাচার্যের। সেই পরিবর্তন ঠিক কেমন? বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, পূর্ণেন্দুবাবুকে যখন অস্থায়ী উপাচার্যের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন ওই পদে বসার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অভিজ্ঞতার মাপকাঠিতে তিনি উত্তীর্ণ ছিলেন না। অভিযোগ, শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রায় সব ক’টিতেই প্রয়োজনীয় নম্বরের তুলনায় অনেক পিছিয়ে ছিলেন তিনি। তাই নতুন করে নিয়ম মেনে উপাচার্য নিয়োগ হলে সেই দৌড়ে কোথাও নামই থাকবে না পূর্ণেন্দুবাবুর।

উপাচার্য নিয়োগের যাবতীয় নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কী ভাবে থমকে থাকতে পারে নতুন নিয়োগ? প্রশ্ন তুলেছেন কর্মসমিতির এক সদস্য। তাঁর আরও প্রশ্ন, বর্তমান উপাচার্য শাসক দলের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপা-র যুগ্ম সম্পাদক। সেই জন্যই কি তাঁকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে? শাসক দলের পছন্দের কাউকে ক্ষমতায় এনে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধিকারে শাসকের নিয়ন্ত্রণ কায়েমের ইচ্ছেটাই এ ক্ষেত্রে ফের প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ অধ্যাপকদের একাংশের। ওয়েবকুপা-র রাজ্য সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসু অবশ্য এই অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি জানান, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরর বিধির সঙ্গে প্রাণী ও মত্স্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধির ফারাক রয়েছে। ‘‘উপাচার্য যে সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না, এমন নিয়ম নেই। তা হলে সংগঠন চালাব কী ভাবে,’’ পাল্টা প্রশ্ন কৃষ্ণকলির।

কী বলছেন অস্থায়ী উপাচার্য?

‘‘সার্চ কমিটি তৈরির কথা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্ট্যাটিউট’ বা বিধিতে নেই। আর বিধি বদল করা হবে কি না, সেটা বিবেচনা করার দায়িত্ব তো সরকারের,’’ বলছেন পূর্ণেন্দুবাবু।

কী বলছে সরকার?

রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্যই করতে চাননি।

অস্থায়ী উপাচার্য প্রসঙ্গেই ফের সামনে এসেছে দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নটি। বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, শাসক দলের ইচ্ছা-অনিচ্ছার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের একমাত্র প্রাণী ও মত্স্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিকাঠামোর দিক থেকে অনেকটাই পিছিয়ে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন অধ্যাপকেরাই। এমন অবস্থায় স্থায়ী উপাচার্যের হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন যতটা নির্ভর করে, এক জন অস্থায়ী উপাচার্য কি সমান দায়বদ্ধ হতে পারেন? প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy