Advertisement
E-Paper

কথা রাখলেন এরশাদ, ঘরের পথে পা রূপার

অবশেষে মিলল ঠিকানা। প্রায় দে়ড় বছর পর তাই কোচবিহারের হোম থেকে ঘরের পথে বাংলাদেশের মেয়ে রূপা। সৌজন্যে সে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০২:৪৫

অবশেষে মিলল ঠিকানা। প্রায় দে়ড় বছর পর তাই কোচবিহারের হোম থেকে ঘরের পথে বাংলাদেশের মেয়ে রূপা। সৌজন্যে সে দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মহম্মদ এরশাদ।

পাচারকারীর খপ্পড়ে পড়ে দেশ ছাড়তে হয়েছিল রূপাকে। তারপর থেকে দিন কাটছিল কোচবিহারের সরকারি হোম শহিদবন্দনায়। গত ডিসেম্বর মাসে ভারত সফরে এসে ওই হোমে গিয়ে রূপার সঙ্গে দেখা হয়েছিল এরশাদের। তখনই রূপার ঠিকানা খুঁজে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।

সোমবার তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যাবতীয় কাগজপত্র হোম কর্তৃপক্ষের হাতে এসে পৌঁছেছে। কী ভাবে কোন পথে রূপাকে ফেরানো হবে তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। কোচবিহার জেলা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির চেয়ারম্যান স্নেহাশিস চৌধুরী বলেন, “অনুমতি হাতে পাওয়ার পর থেকেই ওই কিশোরীকে দেশে ফেরানোর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সমস্ত নিয়ম মেনে তাঁকে শীঘ্রই বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া হবে।” প্রশাসন সূত্রের খবর, ওই কিশোরী রাজ্য সরকারের একটি হোমে রয়েছে। সে কারণে তাঁকে দেশে ফেরাতে রাজ্য সরকারের অনুমতি লাগবে। ওই অনুমতি চেয়ে কোচবিহার জেলা প্রশাসন রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি দিয়েছে।

গত ১১ ডিসেম্বর দিনহাটায় জন্ম ভিটেয় এসে বাবুরহাটের ওই হোমে গিয়েছিলেন এরশাদ। সে সময়ই ওই কিশোরীর কথা জানতে পারেন তিনি। বাড়ি ফিরতে চেয়ে এরশাদের কাছে আবেদনও জানান ওই কিশোরী। এর পরেই ওই কিশোরীর যাবতীয় ফাইল চেয়ে নিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে দেশে ফেরানোরও আশ্বাস দিয়েছিলেন।

হোম সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের দিনাজপুরের মোহনপুর গ্রামে ওই কিশোরীর বাড়ি। এখন তাঁর বয়স ১৫ বছর। দেড় বছর আগের এক ব্যক্তি কাজের টোপ দিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে নিয়ে বিক্রি করে দেয় এক পাচারকারীর হাতে। ওই পাচারকারী জোর করে তাঁকে ভারতের সীমান্ত টপকাতে বাধ্য করে। রূপা ওই সরকারি হোমের অনেককেই জানিয়েছে, তাঁকে ভয় দেখায় ওই পাচারকারী। মারধরও করা হয়। সীমান্ত টপকে অবশ্য সফল হতে পারেনি ওই অভিযুক্ত। বিএসএফের নজরে পড়ে যাওয়ায় ওই কিশোরীকে ছেড়ে পালিয়ে যায় সে। বিএসএফ ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। আদালতের মাধ্যমে তাঁকে তুলে দেওয়া চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির হাতে। সেখান থেকে রূপার ঠাঁই হয় বাবুরহাটের ওই সরকারি হোমে।

চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি সূত্রের খবর, রূপাকে বাড়ি ফেরানোর জন্য মাস ছয়েক আগে বাংলাদেশ হাইকমিশনকে চিঠি দেয় তারা। পরে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ টাস্ক ফোর্সকে জানানো হয়। সাধারণ নিয়মে হাই কমিশন ওই চিঠির প্রেক্ষিতে ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে টাস্ক ফোর্সকে বিষয়টি জানানোর কথা। ওই প্রক্রিয়াতে অনেক দেরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ। ফলে ডিসেম্বর মাসে এরশাদ সাহেবকে কাছে পেয়ে বিষয়টি জানায় হোম কর্তৃপক্ষ। ঠিকানা জানানোর পরেও কেন বিষয়টি নিয়ে এত দেরি হচ্ছে তা নিয়ে ক্ষোভ জানায় অনেকে। এরশাদ সাহেব সেদিন কথা দেন, তিনি বাংলাদেশে ফিরে সরকারি স্তরে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। পাশাপাশি ওই কিশোরী যে ঠিকানা বলছে তা খুঁজে বের করে নিশ্চিত হয়ে তাঁকে দেশে ফেরাবেন। প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, “বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি কথা রেখেছেন। মেয়েটি তাঁর বাবা-মায়ের কাছে ফিরতে পারবে। তা শুনেই ভাল লাগছে।”

(কিশোরীর নাম পরিবর্তিত)

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy