Advertisement
E-Paper

চা বলয়ে প্রভাব বাড়াতে মরিয়া অধীর

বাগানের সমস্যাকে সামনে রেখেই ডুয়ার্সের চা বলয়ে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে যেন মরিয়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালবাজার, মেটেলি, সামসিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুগামীদের নিয়ে তাঁর চরকি-পাক খাওয়া থেকে এমনই মনে করছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৩৪
বাগরাকোট চা বাগানে অধীর চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

বাগরাকোট চা বাগানে অধীর চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

বাগানের সমস্যাকে সামনে রেখেই ডুয়ার্সের চা বলয়ে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে যেন মরিয়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত মালবাজার, মেটেলি, সামসিংয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুগামীদের নিয়ে তাঁর চরকি-পাক খাওয়া থেকে এমনই মনে করছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা। কোথাও অধীরবাবু মালিকপক্ষের বাড়ির সামনে বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন। আবার কখনও কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাহুল গাঁধী চা বাগানের সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলে দাবিও করেন।

তবে এই দিন অধীরের এই ছোটাছুটিতে সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছেন। কিন্তু, ইনটাকের চা বলয়ের নেতাদের অনেকের সংশয় এখনও দূর হয়নি। ইতিমধ্যেই এই এলাকায় কংগ্রেস ছেড়ে অনেকেই শাসক দলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের কী করে আবার কংগ্রেসে ফিরিয়ে আনা যায়, তার কোনও উত্তর এখনও মেলেনি। অধীরবাবুর এই সফরে যেটুকু গা-ঝাড়া দিয়ে উঠলেন কর্মীরা, প্রদেশ সভাপতি ফিরে গেলেই পরিস্থিতি আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে যাবে কিনা, সে প্রশ্ন উঠছে।

আজ, বুধবারও অধীরবাবু ডুয়ার্সের চা বলয়ে থাকার কথা। যাবেন আলিপুরদুয়ার জেলার কয়েকটি অচল হয়ে পড়া বাগানে। অধীরবাবু বলেন, ‘‘অচল বাগান খোলানোই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। আমরা শ্রমিকদের সুখ-দুঃখ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলায় বিশ্বাসী নই। মাঠে নেমে ঘাম ঝরিয়ে আন্দোলন করে শ্রমিকদের অধিকার আদায় করে দেব।’’

এই দিন দুপুরে অচল বাগরাকোট চা বাগানে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী বিলি করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। বিকেলে যান নাগেশ্বরী চা বাগানে। দু-জায়গাতেই অধীরবাবু মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে কলকাতায় গিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়ে শ্রমিকদের কাছে টানার চেষ্টা করেন। তাতে তেমন সাড়া না মেলায় অধীরবাবু সেখানে বসে দলের সর্বভারতীয় নেতা রাহুল গাঁধীকে এসএমএস করে বন্ধ বাগানের পরিস্থিতি জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন। সঙ্গে সঙ্গেই রাহুল পাল্টা এসএমএস পাঠিয়ে বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের পর্যবেক্ষক সিপি জোশির কাছে সব জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন প্রদেশ সভাপতি।

বাগরাকোট চা বাগানে কংগ্রেসের তরফ থেকে ৬০ কুইন্টাল আটা ও চাল ত্রাণ হিসেবে নিয়ে আসা হয়। শ্রমিকদের বিলি করার জন্য ১৬০০ কম্বলও আনা হয়। মৃত ২৭ শ্রমিক পরিবারকে এককালীন ৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্যও দেওয়া হয়। অধীর মেটেলি ব্লকের ডানকানের নাগেশ্বরী বাগানেও যান। সেখানে ছিলেন এলাকার কংগ্রেস বিধায়ক জোশেফ মুন্ডা।

তবে কংগ্রেস যখন কেন্দ্রে ক্ষমতায় ছিল, তখন চা বাগানের জন্যে সুষ্ঠু পদক্ষেপ কেন গৃহীত হয়নি, সেই প্রশ্নের উত্তরে অধীর বলেন, ‘‘জয়রাম রমেশ যে টি প্যাকেজ করেছিলেন তার রূপায়ণ হতে দেয়নি এই সরকার।’’ রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্র সরকারের মধ্যে ভাল বন্ধুত্ব রয়েছে, তবুও আজ অবধি মমতা মোদির সঙ্গে বৈঠক করে চা সমস্যার কথা তোলেন নি কেন পাল্টা প্রশ্ন অধীরের।

এ দিন অধীরের সঙ্গে ছিলেন একাধিক জেলা ও প্রদেশ নেতা। মঙ্গলবার লাটাগুড়ির একটি বেসরকারি রিসর্টে রাত কাটাবেন অধীর। তবে অধীরের সফরে ব্যাপক আশ্বাস এবং ত্রাণ মিললেও খুশি হতে পারছেন না বাগরাকোটের শ্রমিকেরা। বাগরাকোটের বাসিন্দা সংযোগ ছেত্রী, শবর এক্কারা বলেন, ‘‘বাগান খুলে যাক এটাই চাইছি। নেতা মন্ত্রীদের আসা যাওয়ার থেকেও এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy