Advertisement
E-Paper

তিলককে হুমকি, ইঙ্গিত দলে বিরোধীদের দিকে

হুমকি-চিঠি পেয়ে ঠারেঠোরে দলেরই একাংশের দিকে আঙুল তুললেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের দুই নেতা। রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত তিলক চৌধুরী তাঁদের অন্যতম। বর্তমানে দলের রায়গঞ্জ বিধানসভার পর্যবেক্ষক তিলকবাবু ছাড়াও আইএনটিটিইউসি-র উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি অরিন্দম সরকারও হুমকি-চিঠির প্রাপক।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০১৫ ০৩:৫৩
চিঠি দেখাচ্ছেন অরিন্দম সরকার ও তিলক চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

চিঠি দেখাচ্ছেন অরিন্দম সরকার ও তিলক চৌধুরী। নিজস্ব চিত্র।

হুমকি-চিঠি পেয়ে ঠারেঠোরে দলেরই একাংশের দিকে আঙুল তুললেন উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের দুই নেতা। রায়গঞ্জ ইউনিভার্সিটি কলেজে ঢুকে অধ্যক্ষ নিগ্রহের ঘটনায় অভিযুক্ত তিলক চৌধুরী তাঁদের অন্যতম। বর্তমানে দলের রায়গঞ্জ বিধানসভার পর্যবেক্ষক তিলকবাবু ছাড়াও আইএনটিটিইউসি-র উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি অরিন্দম সরকারও হুমকি-চিঠির প্রাপক।

বুধবার বিকেলে তাঁরা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন, এমনও জানান। জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজা বলেন, ‘‘তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

আইএনটিটিইউসি-র জেলা কার্যালয়ে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক করে এ দিন তিলকবাবুরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে রায়গঞ্জের কুমারডাঙ্গি এলাকায় অরিন্দমবাবুর বাড়িতে ও হাসপাতাল রোডে তিলকবাবুর হোটেলে হুমকি চিঠি দু’টি আসে। প্রেরকদের নাম ও ঠিকানা ভুয়ো। চিঠি দু’টিতে আলাদা লোকের হাতের লেখা থাকলেও বয়ানে ‘চোখে পড়ার মতো’ মিল রয়েছে। ডাকঘরের সিলমোহর ও তারিখ অস্পষ্ট থাকায় সেগুলি কবে ও রায়গঞ্জের কোন এলাকা থেকে পোস্ট করা হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না।

দুই তৃণমূল নেতারই দাবি, চিঠিতে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, গুলি করা হতে পারে। সাবধানে, নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে চলাফেরা করতে বলা হয়েছে। এর পরেই তিলকবাবুর ইঙ্গিত, ‘‘তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় থাকাকালীন এমন চিঠি অন্য অর্থ বহন করছে। দলের মধ্যে আমার সঙ্গে অনেকেরই মতবিরোধ হয়েছে। তাই কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছি না।’’ অরিন্দমও বলেন, ‘‘দলে আমার পরামর্শ বা সিদ্ধান্ত অনেকেরই পছন্দ না হতে পারে। তদন্তে ঘটনায় জড়িত হিসেবে যাদেরই নাম উঠে আসুক না কেন, তাদের যাতে রেয়াত করা না হয়। সে জন্য প্রয়োজনে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারস্থ হতেও আমরা তৈরি রয়েছি।’’

তৃণমূল অন্দরের খবর, দলীয় রাজনীতিতে অরিন্দমবাবু ও তিলকবাবু গোড়া থেকেই জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্যের বিরোধী গোষ্ঠীর নেতা বলে পরিচিত। গত চার বছরে জেলা তৃণমূল ও দলের বিভিন্ন শাখা সংগঠনের কমিটি গঠন, পদাধিকারী নিয়োগ, দল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া ও রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অরিন্দমবাবু ও তিলকবাবুর ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে অমলবাবুর অনুগামীদের বিবাদ প্রকাশ্যে এসেছে।

অমলবাবু অবশ্য দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা মানেননি। তাঁর দাবি, তাঁর কাছেও প্রতিমাসে এ রকম একাধিক হুমকি-চিঠি আসে। তিনি বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটের আগে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে বিরোধীরা অরিন্দমবাবু ও তিলকবাবুকে এ ধরনের চিঠি পাঠিয়ে দলে অন্তর্দ্বন্দ্ব লাগানোর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে। ওই দু’জনকে এ সব হুমকিতে আতঙ্কিত ও দুর্বল না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। পুলিশকে বলেছি, অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করতে।’’

জেলা কংগ্রেস সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত এবং সিপিএমের জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল অবশ্য একই সুরে বলেছেন, ‘‘সবাই জানে, এটা শাসক দলের নিজস্ব গোলমাল।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy