Advertisement
E-Paper

দক্ষিণের কড়চা

‘বাংলোর সামনে তিন-চারটে ছোট ছোট নোংরা ছেলেমেয়ে খেলা করে বেড়াচ্ছে, হিন্দুস্থানী কীপারটার বেওয়ারিশ সম্পত্তি... মাতৃহীন ছেলেমেয়েগুলো সারাদিন হুটোপুটি করে ডাকবাংলোর সামনে। রাজাবাহাদুর বেশ অনুগ্রহের চোখে দেখেন ওদের।’

শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০১৫ ০০:১৭

রাজবাড়িতে টোপ

‘বাংলোর সামনে তিন-চারটে ছোট ছোট নোংরা ছেলেমেয়ে খেলা করে বেড়াচ্ছে, হিন্দুস্থানী কীপারটার বেওয়ারিশ সম্পত্তি... মাতৃহীন ছেলেমেয়েগুলো সারাদিন হুটোপুটি করে ডাকবাংলোর সামনে। রাজাবাহাদুর বেশ অনুগ্রহের চোখে দেখেন ওদের।’

খুব সাদামাটা ভাবে অথচ প্রায় সাপের ক্ষিপ্র মসৃণতায় ভয়ঙ্কর অন্তিমের দিকে এগিয়ে গিয়েছিল লাইনগুলো। ৬৯ বছর আগে। সাতটি দশকেও সেই ছোটগল্পের অভিঘাত বাঙালি ভুলতে পারেনি।

যে গল্প শুরু থেকেই পাক দিতে থাকে তরাইয়ের শ্বাপদে ভরা অরণ্যে। বন্দুকের নল খুঁজে বেড়াতে থাকে শিকার। অন্ধকার চিরে ফেলা টর্চের আলোয় ঘুরতে থাকে রক্তের তৃষ্ণা। তিন রাত্তির পার করে শেষে কপিকলের দড়িতে বেঁধে খাদের অরণ্যে নামিয়ে দেওয়া হয় জ্যান্ত টোপ। শিকার হয় বাঘ।

‘আমি রাজাবাহাদুরকে অভিনন্দিত করতে যাব, এমন সময়— এমন সময়— পরিষ্কার শুনতে পেলাম শিশুর গোঙানি। ক্ষীণ অথচ নির্ভুল। ও কিসের শব্দ। চারশো দুট নিচে থেকে ওই শব্দটা আসছে। হ্যাঁ— কোনো ভুল নেই। মুখের বাঁধন খুলে গেছে, কিন্তু বড় দেরিতে।... কীপারের একটা বেওয়ারিশ ছেলে যদি জঙ্গলে হারিয়ে গিয়ে থাকে, তা অস্বাভাবিক নয়, তাতে কারো ক্ষতি নেই।’

১৩৫৩ সনের আশ্বিনে প্রকাশিত হয়েছিল নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘টোপ’। পরের বছর তাঁর ‘কালাবদর’ গল্প সংকলনে সেটি ঠাঁই পায়। প্রকাশমাত্র সাড়া ফেলে দেওয়া সেই গল্প পরে পাঠ্যসূচিতেও স্থান পেয়েছে। সেই গল্পের খাঁচা ঘিরেই এ বার বাস্তব-জাদুবাস্তবের নতুন আখ্যান বুনছেন চলচ্চিত্রকার বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।

কিন্তু হিমালয়ের পায়ের কাছে বিছিয়ে থাকা তরাইয়ের জঙ্গল নয়। ছবির লোকেশন বাছতে গিয়ে বুদ্ধদেববাবু ফিরে গিয়েছেন তাঁর প্রিয় বন-পাহাড়ে— পুরুলিয়ায়। ইতিমধ্যে পঞ্চকোট রাজবাড়ি, অযোধ্যা পাহাড়, কানহা পাহাড়, নারায়ণপুর ডুংরিতে কয়েক প্রস্ত শুটিংও হয়ে গিয়েছে।

বুদ্ধদেববাবুর ছবি যাঁরা দেখেছেন, তাঁরাই জানেন ‘পাষাণময়’ এই দেশ তাঁর ক্যামেরায় কেমন রূপসী হয়ে ধরা দেয়। উত্তরা, মন্দ মেয়ের উপাখ্যান, জানালা, রবীন্দ্রনাথের গল্প নিয়ে হিন্দিতে এবং মহাশ্বেতা দেবীর তেরোটি গল্প নিয়ে তেরোটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবির শুটিং এখানেই করেছেন তিনি। তবে সম্ভবত এই প্রথম পঞ্চকোট রাজবাড়ির অন্দরে কোনও ছবির চিত্রগ্রহণ হচ্ছে।

রাজবাড়ির সামনে শুটিংয়ের ফাঁকেই বুদ্ধদেববাবু বলেন, ‘‘গোটা পুরুলিয়া জুড়ে একটা ম্যাজিক রিয়্যালিটি আছে। আমার কবিতাতেও তা আছে। পুরুলিয়া আমার কাছে শুধু একটা লোকেশন নয়। আমার ছবিতে পুরুলিয়াও একটা চরিত্র।’’ যদিও এই ছবির জন্য আরও দু’তিনটি জায়গার কথা ভেবেছিলেন তিনি। ‘‘শিমুলতলা, সরাইকেলার কথা মাথায় ছিল। কিন্তু শেষমেশ পুরুলিয়াকেই বাছলাম। প্রায় গোটা আউটডোর শুটিংই এখানে করছি’’— বলেন পরিচালক।

কিন্তু সমসাময়িক বিষয় থাকতে এত পুরনো একটা গল্প নিয়ে ছবি করা কেন?

প্রবীণ পরিচালক মনে করছেন না, সময়ের পলি পড়েছে গল্পটির গায়ে। তা ছাড়া, গল্পটাকে হুবহু অনুসরণও করছেন না তিনি। বরং যে ভাবে খানিক গড়ে-পিটে নিচ্ছেন, তাতে মূল কাহিনির কাঠামোর উপরে অন্য পরত তৈরি হচ্ছে।

যেমন ‘হিন্দুস্থানী কীপার’-এর ‘মাতৃহীন’ ছেলের (গল্পের শেষে যা ইঙ্গিত, তাতে এক বালককেই টোপ হিসেবে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল) বদলে তিনি এনেছেন মুন্নি বলে একটি মেয়েকে, যে তার মায়ের সঙ্গে মাদারির খেল দেখিয়ে বেড়ায়। গল্পে যেখানে অরণ্যের নিস্তব্ধতায় চাপা পড়ে যায় গোটা ঘটনা, ছবিতে কিন্তু জানাজানি হয়ে যায় সব। মুন্নির মা অ্যালুমিনিয়ামের থালা বাজিয়ে রাজবাড়ির সামনে লোকজনকে জড়ো করেন।

এই মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করছেন পাওলি দাম। শট দেওয়ার এক ফাঁকে পাওলি বলেন, ‘‘পুরুলিয়ার একটা রুক্ষতা রয়েছে। আমার চরিত্রটির রুক্ষতার সঙ্গে তার অসম্ভব মিল!’’

বুদ্ধদেববাবু বলেন, ‘‘মানুষ টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় কখনও নিজের অজান্তে, কখনও জেনেই। এই ছবিতে সেই বিষয়টিকেই ধরতে চেয়েছি।’’

সঙ্গের ছবিতে পঞ্চকোট রাজবাড়ির সামনে পরিচালক। ‘টোপ’ গল্পের ব্যবহৃত অংশে ভুল বানান অপরিবর্তিত।

‘প্রগতি’র উৎসব

আঠারোতে পা দিল সাঁইথিয়া থেকে প্রকাশিত ‘প্রগতি’। পুরনো লেটারপ্রেস, নিউজ প্রিন্ট আর হলদেটে আর্ট পেপারে একরঙা প্রচ্ছদ। সাইজ ১/৮ ডাবল ক্রাউন। শুরু দিনের গল্প অবশ্য আর পাঁচটা লিটিল ম্যাগের মতোই ছিল এমন সাদামাটা। ১৪০৪ সালের ১ বৈশাখ, প্রথম সংখ্যার পর সেবার প্রকাশিত হল পুজো সংখ্যা। লেখক তালিকায় আজকের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। লিখেছিলেন ‘ভারতের পরিবর্তনশীল রাজনৈতিক কাঠামো’ শীর্ষক একটি প্রবন্ধ। ক্রমশ ডাবল ক্রাউন থেকে সাইজ বদলে ডাবল ডিমাই হয়েছে। সেই যাত্রাপথেই দুই বাংলার লেখকদের নিয়ে এ বারের পুজো সংখ্যা। ১৮টি গল্প, ৩৬টি কবিতা আর ৯টি প্রবন্ধ নিয়ে প্রকাশিত শারদ পত্রিকার সম্পাদক দেবাশিস সাহার কথায়, ‘ভৌগলিক সীমারেখা কখনও ভাষা বা সংস্কৃতির সীমারেখা হতে পারে না।’ এ বার লিখেছেন, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব গুহ, ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়, তিলোত্তমা মজুমদার, ওপার বাংলার মজিদ মামুদ, বুলবুল সারওয়রা, ধীরেন মুখোপাধ্যায়রা।

আমাদের শান্তিনিকেতন

‘উত্তরপ্রদেশের ছাত্রীদের যত আড্ডা, যত আবদার, সব বড় পণ্ডিতজীর কাছে৷ খিদে পেলেই তাঁর বাড়ি চড়াও হতাম৷ বইয়ে ডুবে থাকা পণ্ডিতজীর ছোট্ট কামরাটি পেরিয়ে পাথরের উঠোন, সেখানেই ভাবীজীর একটুখানি রান্নাঘর৷ যখন-তখন সেই রান্নাঘরটিতে আমাদের হামলা হত৷’' এমনই সহজ আনন্দে নিজের শান্তিনিকেতন-স্মৃতি লিখেছিলেন বিখ্যাত হিন্দি সাহিত্যিক শিবানী৷ এই ছদ্মনামেই ভারতীয় সাহিত্যে বিখ্যাত তিনি৷ আসল নাম গৌরাদেবী পন্থ৷ কুমায়ুনী ব্রাহ্মণ, রাজকোটে জন্ম, ১৯৩৪ সাল থেকে ১৯৪৩, শান্তিনিকেতনে থেকে পড়াশোনা করেছেন শিবানী৷ রবীন্দ্রনাথকে তো বটেই, সেই সঙ্গে তাঁর আশ্রমের পরিকর ও অধ্যাপকদের কাছ থেকে দেখেছেন৷ সেই অভিজ্ঞতা সহজ হিন্দি গদ্যে লিখে গিয়েছিলেন৷ তারই বাংলা অনুবাদ করেছেন মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কী করে অনুবাদের কাজ শুরু করলেন? ‘‘কুড়ি বছরেরও বেশি আগে লখনৌ যাই আমার মা অধ্যাপক মুকুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে৷ মা তখন একটি পত্রিকার জন্য সাক্ষাৎকার নিতে শিবানীর বাড়ি যান৷ আমিও গিয়েছিলাম৷ তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন তাঁর বইগুলি পড়তে, একটু পরিণত বয়সে বাংলায় অনুবাদ করতে৷ সে কাজটাই করলাম এ বার’’— জানালেন অনুবাদক৷ ‘আমাদের শান্তিনিকেতন’ নামে সেই বই প্রকাশিত হয়েছে মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স থেকে৷

স্মৃতি সংখ্যা

‘আমি ছায়ার সঙ্গে বাস করেছি’— কথাটা থমাস হার্ডির। সিগফ্রেড সাস্যুন, ইয়েটস, রবীন্দ্রনাথ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়— সাহিত্যের দিকপালরা বারবার আশ্রয় চেয়েছেন এই ছায়া বা স্মৃতির কাছেই। ‘জলদর্চি’ পত্রিকার সাম্প্রতিক সংখ্যাটির কারবার এই স্মৃতি নিয়েই। দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিনোদিনী দাসী, হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়দের স্মৃতিকথার পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে। সবিতেন্দ্রনাথ রায় ও নীরদচন্দ্র চৌধুরীর সম্পর্ক, বিভাস চক্রবর্তীর স্মৃতিতে থিয়েটারের কথা, প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি কী ভাবে গান হয়ে ওঠে— এমনই বিভিন্ন প্রসঙ্গ উঠে এসেছে পত্রিকাটিতে। মেদিনীপুর থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটিতে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, নবনীতা দেবসেন, পবিত্র সরকার, তসলিমা নাসরিন, প্রচেত গুপ্তের মতো মোট ছত্রিশ জন লেখকের গদ্যে ধরা পড়ে স্মৃতি ও সৃষ্টির আন্তঃসম্পর্কের কথা। ঋত্বিক ত্রিপাঠী সম্পাদিত পত্রিকাটিতে পাঠকের উপরি পাওনা, অনুপ রায়ের আঁকা প্রচ্ছদ ও ছ’জন শিল্পীর করা অলঙ্করণ।

সংবর্ধনা

তিনি বীরভূমের সন্তান, এখন থাকেন রাইসিনা হিলে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য জেলার মানুষের তরফ থেকে একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল অনেক দিন। এ বার পুজোয় সিউড়িতে সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন করল ‘নয়াপ্রজন্ম।’ এ রাজ্যের জেলা থেকে যে কয়েকটি সংবাদপত্র দীর্ঘদিন নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে, তার মধ্যে রয়েছে কাঞ্চন সরকারের সম্পাদনায় বীরভূমের এই কাগজটি। আগামী বছর কাগজের রৌপ্যজয়ন্তী। সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘সবুজের অভিযান’-এর সঙ্গে যৌথভাবে ‘নয়াপ্রজন্ম’ আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে সাংসদ-শিল্পী যোগেন চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে শিল্প-সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় প্রণববাবুর ভূমিকা নিয়ে বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভেদের অসুর বধ করতে ভারতের সহনশীলতার দীর্ঘ সংস্কৃতিকে যত্নের সঙ্গে লালন করতে হবে। জেলার শিল্পী মিহির চৌধুরীর আঁকা রাষ্ট্রপতির একটি প্রতিকৃতি তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে।

দেড়শো

ছুটতে ছুটতে অদূরে চল্লিশের চৌকাঠ। অক্লান্ত যাত্রাপথে বীরভূমের সাঁইথিয়া থেকে ‘রানার’ পত্রিকা প্রকাশ করল তাদের ১৫০ সংখ্যা। দৌড় শুরু হয়েছিল ছিয়াত্তরে। তখন অন্য জেলা-শহরগুলোর সঙ্গে বীরভূমের সাঁইথিয়াতেও শুরু হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন। ‘প্রাণ তপস্যা, কালীতলা রোড, সাঁইথিয়া, বীরভূম’ – এই ঠিকানা থেকেই ‘রানার’ ছুটছে সাঁইথিয়া থেকে সারা রাজ্যে। ত্রৈমাসিক এই পত্রিকার এ বারের শারদ সংখ্যা সেজেছে এখনও পর্যন্ত পত্রিকা দফতরে পাঠানো বিশিষ্ট জনদের চিঠি দিয়ে। কে নেই সেই তালিকায়? সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শঙ্খ ঘোষ, কৌশিক সেন, বিভাস চক্রবর্তী, শাঁওলি মিত্র। দীর্ঘ চলার পথে ‘রানার’ প্রকাশ করেছে ‘বীরভূম সংখ্যা’, ‘সাঁইথিয়া সংখ্যা’, ‘লোক সংস্কৃতি সংখ্যা’, ‘থিয়েটার সংখ্যা’র মতো বিশেষ সংখ্যা। বিভিন্ন সময়ে পেয়েছে নানা পুরস্কার ও সম্মান। পত্রিকার জন্মলগ্ন থেকেই সম্পাদনা ও প্রকাশনার কাজ করছেন বিজয়কুমার দাস। এখন তাঁকে সহযোগিতা করছেন ছেলে অর্পণ।

যোগাযোগ

প্রকাশিত হল ‘যোগাযোগ’ পত্রিকার দ্বিতীয় সংখ্যা। বাঁকুড়ার রাইপুর ব্লক থেকে প্রকাশিত পত্রিকার বর্তমান সংখ্যায় প্রবন্ধ লিখেছেন দীপঙ্কর দাস, জয়ন্ত মণ্ডল। ‘রাইপুরের রাজসভ্যতা’ শীর্ষক রাজকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখাটি তথ্যবহুল। পাঠকের ভালো লাগবে আবীর করের ‘কবির শেষ লেখা’। সব কবিতাই কবিতা নয়, তবে কয়েক জনের লেখায় কাব্যের মায়া রঙ ভিড় করে আসে। ‘জলে চরে জলপিপি বালিহাঁস গাঙচিল’ অথবা ‘কালো মেঘে উঠোন আঁধার’-এর মতো লাইনে মেঠো জীবনের ছবি আঁকেন কবিরা। ‘স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা’ বিভাগটি দরকারি। পাঠক প্রয়োজনে দেখে নেবেন ‘চাষবাস’। সম্পাদক গৌতম বিশ্বাস।

২৫-এ পা

রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন ‘পূজা’ পর্যায়ের গানগুলি ধরে ধরে দার্শনিক তত্ত্বের সন্ধানের পাশপাশি বিভিন্ন নদীর পৌরাণিক উৎস সন্ধান, মনোজ মিত্রের নাটক, বীরভূমের ভাষাতাত্ত্বিক প্রসঙ্গ-সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রবন্ধের হদিস মেলে ২৫-এ পা দেওয়া ‘অবকাশ সাহিত্যপত্র’-র সাম্প্রতিক সংখ্যায়। অপর্ণা ভট্টাচার্য, বিকাশ পাল, মধুসূদন সরকারদের গল্পগুলিতে নাগরিক ও আত্মগত জীবনের অলিগলির সন্ধান করা হয়েছে। হিন্দি সাহিত্যিক বরিশঙ্কর পরসাইয়ের একটি গল্পের সু-অনুবাদ পাঠকের ভাল লাগে। সিউড়ি থেকে প্রকাশিত এই পত্রিকার শেষে রয়েছে তপন গোস্বামীর সদ্য প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘প্যাস্টেলে জাগে ভোর’-এর পরিচয়। তবে মুদ্রণ প্রমাদের বিষয়ে সম্পাদক রামকৃষ্ণ মণ্ডল ও বাদল ঘোষের আরও সচেতন হওয়া দরকার ছিল।

হাতের নকশা

ডোকরা বলতেই মনে আসে বিকনার নাম। বাঁকুড়ার এই অজ গাঁয়ের নাম ডোকরা শিল্পের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে। আর তার পিছনে যে কয়েকজনের অনুপম শিল্পকর্ম জড়িত তাঁদের অন্যতম রামেশ্বর কর্মকার। প্রায় চার দশক ধরে ধরে ডোকরার শিল্পকর্ম তৈরি করে চলেছেন এই প্রৌঢ়। বাবার কাছ থেকেই শেখা কীভাবে আগুনের ছোঁয়ায় অসাধারণ রূপ নেয় ধাতু। বিকনার আদি বাসিন্দা রামেশ্বরবাবু এখন কর্মসূত্রে থাকেন হাওড়ার সাঁতরাগাছিতে। তবে বিকনার সঙ্গে যোগাযোগ আজও অটুট। দীর্ঘ শিল্পীজীবনে পেয়েছেন বহু সম্মান। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছেন নিজের শিল্পকর্ম নিয়ে। কাজ করেছেন কিংবদন্তী ভাস্কর মীরা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও। বিভিন্ন প্রদর্শনীতে তাঁর হাতে তৈরি শিল্পকর্ম দেখে মোহিত হয়েছেন দর্শকেরা। তা গিয়েছে বিদেশেও। কেন্দ্রীয় সরকারের ললিতকলা অ্যাকাডেমি-সহ রাজ্যের নানা আর্ট কলেজে গিয়েছেন কাজ করতে। সম্প্রতি তাঁর কাজ দেখে ডাক এসেছে মধ্যপ্রদেশ থেকে। ভোপালের সংগ্রহশালায় রাখার জন্য তাঁকে ডোকরার দুর্গা গড়তে আহ্বান জানানো হয়েছে। কবে তিনি যাবেন, এখনও সেই দিনক্ষণ ঠিক না হলেও প্রস্তুত রামেশ্বর ও তাঁর সঙ্গীরা। তবে ডোকরার শিল্পকর্মের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলেই মনে করেন রামেশ্বরবাবু। তাই যথাযথ বিপণন ও শিল্পীদের সাহায্য করা হলে এই শিল্পের মাধ্যমেই সমৃদ্ধি আসবে গ্রামের শিল্পীদের ঘরে, বাংলাতেও।

সাহিত্যিকা

১৩৪৭ এক শ্রাবণ সন্ধ্যা। শান্তিনিকেতনের কবির উদীচী আর পুনশ্চ বাড়ির সামনের খোলা মাঠের কাঁকরের উপর শতরঞ্চি বিছিয়ে সাহিত্য সভা হবে। আয়োজক স্থানীয় পত্রিকা গোষ্ঠী ‘সাহিত্যিকা’। ‘‘তারায় তারায় আলোমুখর উন্মুক্ত আকাশ। নানা বর্ণের ফুলে পল্লবে সাজানো সভাপ্রাঙ্গণ।... শিমুল গাছের নিচে সভাপতির আসন, সামনে ফুল দিয়ে আঁকা বিচিত্র আলপনা।... সুধাকান্তদার সঙ্গে গেলাম গুরুদেবকে আনতে। খদ্দরের কাপড় লুঙ্গীর মতো করে বেড় দিয়ে পরা, গায়ে খদ্দরের ধবধবে ঢোলা আলখাল্লা, পায়ে গাঢ় হলুদ রঙের গোড়ালী-ভাঙা পাম্পসুর চটি। নুয়ে পড়া দেহ নিয়ে ছোট শিশুর মতো টলে টলে দ্রুত এগিয়ে চললেন অপূর্ব ভঙ্গীতে। এসেই বসে পড়লেন সভাপতির আসন কৌচে।’’ রবীন্দ্রজীবনের শেষ সাহিত্যসভার এমনতরো স্মৃতিচারণ সূচনাযুগের সাহিত্যিকার অন্যতম সম্পাদক রথীন্দ্রকান্ত ঘটকচৌধুরী। সে যুগের এমন নানা ব্যক্তির স্মৃতি আর স্মরণ নিয়ে সম্প্রতি সাহিত্যিকা প্রকাশ করল ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ সংকলন’। সংকলনের সূচনায় রবীন্দ্র-চিত্রকলা বিশেষজ্ঞ এবং সাহিত্যিকার সভাপতি শ্রদ্ধেয় সোমেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘শান্তিনিকেতনে তাঁর প্রতিষ্ঠিত শিক্ষায়তন বিশ্বভারতীতে ছাত্রছাত্রী অধ্যাপক কর্মি সকলের মধ্যে নান্দনিক বোধ বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠাতা রবীন্দ্রনাথের অভিপ্রায়েই একে একে অনেকগুলি সংস্থা গড়ে উঠেছিল। তারই অন্যতম ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত গুরুদেব নামাঙ্কিত – সাহিত্যিকা। …আনন্দ ও গৌরবের কথা সাহিত্যিকার প্রতীকটি রচনা করেন শিল্পাচার্য নন্দলাল স্বয়ং।’’ সংকলনে স্থান পেয়েছে ‘সাহিত্যিকা’য় প্রকাশিত সাঁইত্রিশটি প্রবন্ধ ও পাঁচটি সাক্ষাৎকার। লেখক তালিকায় রবীন্দ্রনাথ, সুরেন্দ্রনাথ মৈত্র, নন্দলাল বসু, কানাই সামন্ত, নির্মলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রথীন্দ্রকান্ত ঘটকচৌধুরী, শান্তিদেব ঘোষ, প্রভাস সেন, সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, সোমনাথ হোর, অশোক রুদ্র, অশীন দাশগুপ্ত, সৌরীন্দ্র মিত্র, শঙ্খ ঘোষ কে নেই! সংকলন ও সম্পাদনায় কুন্তল রুদ্র ও অসীম চট্টরাজ।

এই সপ্তাহে

অনুষ্ঠান, যা হয়ে গেল:

কুড়কুড়ি, হুগলি: দুর্গা পূজা উপলক্ষে ষষ্ঠী থেকে দশমী চারদিনব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়ে গেল গ্রামের বনেদী কায়স্থ বাড়ির ৬৮ বছরের দুর্গা পুজোয়। আনন্দময়ীর আরাধনার সাথে সাথে এলাকার কচিকাঁচাদের নিয়ে মজাদার প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়। আয়োজক: কুড়কুড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি।

পদুমবসান হারাধন প্রাথমিক বিদ্যালয়, তমলুক: ১৪ অক্টোবর। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সম্পাদিত ‘কচিপাতা’ পত্রিকার শারদীয়া সংখ্যা প্রকাশ। উদ্বোধন করবেন চলতি বছরে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত তমলুক হ্যামিল্টন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সোমনাথ মিশ্র।

অবোধ ইনস্টিটিউশন, খাতড়া, বাঁকুড়া: ১৮ অক্টোবর, বিকেল ৪টে। সমাজ, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক ষাণ্মাসিক পত্রিকা ‘দক্ষিণাবর্ত’র শারদ সংখ্যা প্রকাশ। উদ্বোধক রজতকান্তি সিংহচৌধুরী। সঙ্গে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোচনা চক্র ও সাহিত্য সভা।

রবীন্দ্রভবন, শ্রীরামপুর: ১০ অক্টোবর। ‘নৃত্যকাঞ্চন’-এর বাৎসরিক উৎসবে কথকের পাশাপাশি ছিল সৃজনশীল নৃত্যেরও আয়োজন। শিল্পী প্রতিভা দাসের একক নৃত্যের পাশাপাশি কথকের আঙ্গিকে ‘কৃষ্ণকথা’ পরিবেশন করে শিশু শিল্পীরা। উদয়শঙ্করের শিষ্য নৃত্যশিল্পী শান্তি বসুকেও সম্মাননা দেওয়া হয় অনুষ্ঠানে।

বিধান ভবন, দুর্গাপুর: ১০ অক্টোবর। প্রাক মহালয়ায় উদযাপিত হল নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন, দুর্গাপুর শাখার পত্রিকা ‘অদ্বিতীয়া’শারদ সংখ্যার প্রকাশ।

হিজলপুকুর উদ্বাস্তু প্রাথমিক শিক্ষা নিকেতন, হাবরা: ১২ অক্টোবর। বাংলা মাসিক ‘অফলাইন’ পত্রিকার উৎসব সংখ্যা প্রকাশ। বেহালা ও অন্য যন্ত্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠানের পরে আগমনি গানে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

নেতাজি আদর্শ বিদ্যাপীঠ (হিন্দি স্কুল), ঝাড়গ্রাম: ১৭-১৮ অক্টোবর। দুই মেদিনীপুরের কিশোর শিবিরের আয়োজন। অালোচ্য বিষয় স্বামীজির ভাবাদর্শে জীবন গড়া। আয়োজক: ঝাড়গ্রাম বিবেকানন্দ যুব পাঠচক্র।

সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর: ৮ অক্টোবর। শারদীয়া উপলক্ষে দুই মেদিনীপুরের জীবন্ত সংগ্রামী মহিলাদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা ‘দুই মেদিনীপুরের দুর্গারা’র প্রকাশ অনুষ্ঠান। প্রকাশ করেন বিশিষ্ট মসলন্দ শিল্পী শ্রীমতী পুষ্পরানি জানা। আয়োজনে কথা-মেঘ ।

অনুষ্ঠান, যা হবে:

মুটুলি দঙ্গল প্রাথমিক বিদ্যালয়, মল্লারপুর: ৬ নভেম্বর, দুপুর ২টো। ২০১৪ সালে বীরভূম জেলার মাধ্যমিকে কৃতী ছাত্রছাত্রীদের ২০,০০০ হাজার টাকা দিয়ে পুরস্কৃত করা হবে। পড়াশোনার তাদের আগ্রহ বাড়ানোর জন্যই এই আয়োজন। আয়োজক: আমোদিনী বৃন্দাবন মণ্ডল এডুকেশন ট্রাস্ট।

রূপায়ণ, গ্রিন লেক, রূপনারায়ণপুর: ২ নভেম্বর, সন্ধ্যা ৬টা। বিজয়া সম্মিলনী ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে নৃত্য পরিবেশন করবেন ‘মমতা শঙ্কর ব্যালে কোম্পানি’র শিক্ষিকা, নৃত্যশিল্পী সারিকা মণ্ডল। উদয়শঙ্করের নৃত্য শৈলিতে তাঁর উপস্থাপনা। আহ্বায়ক: বিনয়ভূষণ রায় ও সহযোগীবৃন্দ।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy