Advertisement
E-Paper

দলে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব রুখতে সতর্ক বার্তা শুভেন্দুর

দীর্ঘ দিন ধরে রায়গঞ্জ ও করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য, দলের প্রাক্তন কার্যকরী জেলা সভাপতি তিলক চৌধুরী ও ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান সুভাষ গোস্বামীর অনুগামীদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০১৫ ০২:১৬

দীর্ঘ দিন ধরে রায়গঞ্জ ও করণদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী বাছাই নিয়ে জেলা তৃণমূল সভাপতি অমল আচার্য, দলের প্রাক্তন কার্যকরী জেলা সভাপতি তিলক চৌধুরী ও ডালখোলা পুরসভার চেয়ারম্যান সুভাষ গোস্বামীর অনুগামীদের মধ্যে টানাপড়েন চলছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলের বিবাদমান দুই গোষ্ঠীর নেতাদেরই সতর্ক করে দিলেন দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জেলার প্রথম সারির সব নেতাদের চেনেন। তাঁদের কার্যকলাপের উপর তিনি নিয়মিত নজর রেখে চলেছেন।’’

এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট হলেও রায়গঞ্জ কেন্দ্রটি কংগ্রেসকে ছাড়া হবে না বলে জানিয়ে দিলেন শুভেন্দুবাবু। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানান তিনি। সোমবার দুপুরে মালদহে যাওয়ার আগে রায়গঞ্জের সার্কিট হাউসে দলের জেলা কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বামফ্রন্টের দখলে থাকা হেমতাবাদ ও চাকুলিয়া বিধানসভা কেন্দ্র দখলে আনতে দলের হেমতাবাদ ব্লক সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় দত্ত ও চাকুলিয়ার পর্যবেক্ষক মোশারফ হোসেনকেও কড়া ভাষায় সতর্ক করেছেন শুভেন্দুবাবু।

এখান থেকেই শুভেন্দুবাবু যান মালদহে। কালিয়াচকের ২ নম্বর ব্লকের পঞ্চানন্দপুরে প্রকাশ্য কর্মীসভায় তিনি বলেন, ‘‘২০১৬ নয়,বাংলার মানুষ প্রস্তুতি নিচ্ছেন ২০১৯ এর। সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে আটকাতে পারবে না কংগ্রেস। পারবেন নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তাঁর সঙ্গী হবেন নীতিশ কুমার ও অরবিন্দ কেজরিয়াল।’’ আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলায় ২৫০টির মতো আসন পাবে বলেও জানান তিনি। এদিন মালদহ জেলায় চারটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার সারেন তিনি। কর্মিসভায় বিজেপির পাশাপাশি এদিন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিকেও একহাত নিয়েছেন শুভেন্দুবাবু! তিনি বলেন,‘‘অধীর চৌধুরী এখানে আমাদের গালমন্দ করছেন। আর রাহুল গাঁধী মুখ্যমন্ত্রীকে বলছেন যে আমার মা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।’’ রতুয়ার সভায় তেমন ভিড় না হলেও নির্দিষ্ট সময়ের প্রায় দু’ঘন্টা বাদে সভা শুরু হলেও মালতিপুরের সভায় ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই মালদহের বেশ কিছু বাম নেতা তৃণমূলে দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তৃণমূল সাংসদ তথা মালদহের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার চাঁচলের মালতিপুরেও কর্মিসভায় যোগ দেন সাংসদ। সেখানেই প্রকাশ্য জনসভায় সাংসদ বলেন,‘‘জেলার একাধিক বাম নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। অনেকের সঙ্গে কথাবার্তা অনেকটাই এগিয়েছে।’’ সভায় অবশ্য ওই বাম নেতাদের নাম করেননি সাংসদ।

কর্মিসভা থেকে ফিরে যাওয়ার সময়েও ওই বাম নেতাদের নাম বলতে চাননি সাংসদ। জেলার বেশ কয়েজন বাম নেতার নাম করে সাংসদকে প্রশ্ন করা হলে সাংসদ বলেন,‘‘ওদের নাম কেন বলব? শুধু খেলা দেখাব আমি।’’

মোথাবাড়ির সভায় সাংসদ উন্নয়নকে হাতিয়ার করেন। তাঁর অভিযোগ, পঞ্চানন্দপুর ভাঙন কবলিত এলাকা। এই পঞ্চায়েতের পুরোটাই গঙ্গার গর্ভে চলে গিয়েছে। বছরের পর বছর ধরে মানুষের ভোটে জয়ী হয়েছেন কংগ্রেস বিধায়ক। কিন্তু ভাঙন রুখতে কিছু করেননি। শুভেন্দুবাবু বলেন, ‘‘এলাকায় কলেজের দাবি রয়েছে। সেই কথাও উনি বলেননি একবারও। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে ব্যর্থ বিধায়ক। তাই এলাকার উন্নয়ন করতে হলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই বিধানসভাটি দিতে হবে। তবেই এলাকার উন্নয়ন হবে।’’

এদিন পঞ্চানন্দপুরে দলের কর্মীসভায় যোগ দেননি রাজ্যের মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র। মানিকচকে মন্ত্রী সাবিত্রী দেবীর বিধানসভা এলাকায় দলের কর্মীসভায় এদিন বিকেলে হাজির ছিলেন না রাজ্যের মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু বাবু। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,সম্প্রতি ফের দুই মন্ত্রী মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যার জন্য একে অপরকে এড়িয়ে চলছেন। যদিও তা মানতে নারাজ দলের জেলা পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারি। তাঁর যুক্তি, একাধিক জায়গায় কর্মসূচী থাকায় সকলে ভাগ হয়ে গিয়েছেন।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy