Advertisement
E-Paper

ধানের সঙ্গেই মৃগেল, কাতলা

বর্ষায় ধান জমিতে জল জমলে স্বাভাবিক ভাবে পুঁটি, ট্যাংরা, ল্যাটা, কই, মাগুর, শিঙি, কুচো চিংড়ি জাতীয় মাছ জন্মায়। আবার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ধানের সঙ্গে মাছ চাষ করা যেতে পারে।

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০১৫ ০০:২২

বর্ষায় ধান জমিতে জল জমলে স্বাভাবিক ভাবে পুঁটি, ট্যাংরা, ল্যাটা, কই, মাগুর, শিঙি, কুচো চিংড়ি জাতীয় মাছ জন্মায়। আবার বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে ধানের সঙ্গে মাছ চাষ করা যেতে পারে। সুবিধা হল, ধানখেতে সাধারণত মাছের জন্য আলাদা করে কৃত্রিম খাবারের দরকার হয় না। শুধু জিওল মাছ চাষের জন্য প্রোটিন জাতীয় পরিপূরক খাদ্য দেওয়া যেতে পারে। ঘুনি বসিয়ে এবং শীতকালে টানা জালের সাহায্যে মাছ ধরতে হয়।

কী মাছ

এমন ধরনের মাছ নির্বাচন করতে হবে যারা কম গভীরতায় এবং অল্প জলে বাঁচতে পারে, বেশি তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে ও অল্প সময়ে তাড়াতাড়ি বাড়ে। যেমন, কাতলা, রুই, মৃগেল, েতলাপিয়া, পুঁটি, শিঙি, মাগুর, কই, চিংড়ি, সিলভার কার্প প্রভৃতি। তবে ধান খেতে কোনও ভাবেই ঘেসো রুই, আমেরিকান রুই, শাল, শোল, বোয়াল, ল্যাটা, চিতল প্রভৃতি চাষ করা উচিত নয়।

কী জাতের ধান

গভীর জলে উৎপাদনশীল ধানের জাত বাছতে হবে। যেমন, জলধি ১, জলধি ২, স্বর্ণ সাব ১।

কত পরিমাণ

ধান রোয়ার পর প্রতি হেক্টরে ২০০০-৩০০০ চারাপোনা ছাড়া হয়।

জমির প্রস্তুতি

জমিটি কমপক্ষে ৫-৬ বিঘা হলে ভাল। মোটামুটি এক হেক্টর জমির চারদিকে ৪-৫ ফুট চওড়া এবং ২-৩ ফুট গভীর খাল কেটে ওই মাটি দিয়ে চারদিকে উঁচু আল দিতে হবে। ধান খেতের সঙ্গে পুকুরের বা অন্য বড় জলাশয়ের যোগ থাকলে ভাল। না হলেও জল ঢোকা এবং বেরনোর ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই পথে জালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ধানখেত প্রয়োজনে জলে ডুবিয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা যায় যেন।

মাছ চাষের পদ্ধতি

দু’ভাবে করা যায়—১)আহরণ পদ্ধতি, ২) পালন পদ্ধতি।

আহরণ পদ্ধতিতে সংলগ্ন নালা থেকে মাছ জমিতে ঢুকে পড়ে। নালার জলের উচ্চতা ধান খেত থেকে ৩০ সেমি নীচে রাখা হয়। জ্যৈষ্ঠ-আষাঢ় মাসে খেতে সার দিয়ে ধানের চারা রোপণ করা হয়। শ্রাবণ মাসে বর্ষার জলে নালার জলের উচ্চতা বাড়ে। ওই সময় ধানখেতের চারপাশের বাঁধের কিছু জায়গা কেটে দিলে নালার মাছ খেতে ঢুকে পড়ে। এরপর একই সঙ্গে ধানগাছ ও মাছের বৃদ্ধি হয়। ধান কাটার আগেই মাছ তুলে ফেলতে হবে। পালন পদ্ধতিতে সরাসরি জমিতেই মাছের চারা ছাড়া হয়।

এ ক্ষেত্রে ধান ও মাছ চাষ একসঙ্গে করা যায়। আবার আগে ধান ও পরে মাছ চাষ করা যেতে পারে। পরে মাছ চাষ করতে চাইলে জমি থেকে ধান কাটার পর চারপাশে বাঁধ দিয়ে ধানখেতটিকে একটি অস্থায়ী পুকুরে পরিণত করা হয়।

সূত্র: ‘সহজ কথায় মাছ চাষ’—বিশ্বজিৎ গোস্বামী।

জলদি জবাব

আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন বিধানচন্দ্র কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৌশিক ব্রহ্মচারী।

• দু’টো টবে গোলাপ গাছ আছে। কিন্তু গাছগুলো লতানে হয়ে যাচ্ছে। ফুল ফুটছে না। কী করব?

সায়ন্তিকা হালদার, দুর্গাপুর

গোলাপে ‘রুট স্টকে’র উপর কলম করা হয়। আপনার লাগানোর ভুলেই হোক বা অন্য কোনও কারণে, এক্ষেত্রে কলমের ডাল মরে গিয়েছে মনে হয়। বুনো জাতের ‘রুট স্টক’ বাড়ছে। লক্ষ্য করে দেখবেন, নিশ্চয়ই সাত পাতার ডাল। কলমের গাছ হলে পাঁচ পাতার ডাল হত। ‘রুট স্টক’ বাড়লে হাজার সার দিলেও ফুল আসবে না। সব বৃথা। কিন্তু গোলাপ গাছটি যদি লতানে জাতের হয়, তাহলে অপেক্ষা করুন। ফুল আসতে দেরি হবে।

• পাতিলেবু পাকার আগে ছোট অবস্থাতেই হলুদ হয়ে যাচ্ছে। কী করব?

কামরুল মণ্ডল, দক্ষিণ দিনাজপুর

প্রশ্নে পুরোটা পরিষ্কার নয়। তবে মনে হচ্ছে ‘গামোসিস’ হয়েছে। লক্ষ্য করে দেখুন মাটির সংলগ্ন কাণ্ডে কালো দাগ দেখতে পাচ্ছেন কিনা। দেখতে পেলে জানবেন, ওখানে ছাল মরে শুকিয়ে যাবে। তারপর ফেটে গিয়ে আঠা বেরোবে। এক্ষেত্রে গাছের ছালটাকে চেঁছে জায়গাটি লঘু কার্বোলিক অ্যাসিড দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। তারপর ওখানে কপার অক্সিক্লোরাইডের পেস্ট (ব্লাইটক্স) লাগিয়ে দিতে হবে।

• পেয়ারা ও পাতিলেবুর (কলম করা) চারা বসানো হয়েছে। বেঁচে থাকলেও নতুন পাতা গজানো বা বৃদ্ধির কোনও লক্ষ্মণ দেখতে পাচ্ছি না। কী করব?

শেখ আলাউদ্দিন, মহম্মদপুর

চারাটা কোথায় বসিয়েছেন? এমন জায়গায় নয় তো, যেখানে আগে ইট-পাথরের আবর্জনা ফেলতেন? সেক্ষেত্রে শিকড়ের তলায় অভেদ্য স্তর থাকলে বৃদ্ধি থমকে যাবে। সূর্যের আলো আসাও জরুরি। সার দিয়েও দেখতে পারেন। লেবু গাছে আষাঢ়, আশ্বিন, ফাল্গুন—এই তিন মাসে সার দিতে হয়। পেয়ারার ক্ষেত্রে বর্ষার আগে ও পরে। গাছের বয়স কম হলে ১০ কেজি জৈব সার, ৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ১৫০ গ্রাম সুপার ফসফেট ও ৪০ গ্রাম মিউরিয়েট অফ পটাশ দিতে হবে।

• বাড়িতে ২০টি বৈতাল গাছ এবং কুড়িটি ঝিঙে গাছ লাগিয়েছি। খুব ভাল গাছ হয়েছে। প্রচুর পুরুষ ফুল হচ্ছে। কিন্তু বৈতাল এবং ঝিঙে ধরছে না। কী করব?

চন্দন প্রামাণিক, হলদিয়া

এক্ষেত্রে বেশ কিছু সম্ভাবনা রয়েছে। ‘অফ সিজন ভ্যারাইটি’ অর্থাৎ শীতের চারা গরমে লাগালে কিন্তু কোনও ভাবেই পরাগমিলন হবে না, ফল মিলবে না। ঠিক প্রজাতির চারা লাগালে অপেক্ষা করতে পারেন। প্রথমে পুরুষ ফুল আসে। পরে স্ত্রী ফুল। সাধারণত ৯টা স্ত্রী গাছ পিছু একটা পুরুষ গাছ থাকা উচিত। এ ছাড়াও অনেক সময় পোকামাকড় না থাকা সত্ত্বেও কীটনাশক বেশি প্রয়োগ করলে পরাগমিলনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। সেক্ষেত্রে ভোরের বেলা, সূর্য ওঠার আগে পুরুষ ফুল নিয়ে স্ত্রী ফুলের কাছে উপুড় করে টোকা মেরে (ফুল ছুঁইয়ে) পরাগমিলনের অনুঘটকের কাজটি আপনি নিজেই করে নিতে পারেন।

‘জলদি জবাব’ আনন্দবাজার পত্রিকা,
৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০০০১।
অথবা ই-মেল করুন: district@abp.in

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy