Advertisement
E-Paper

ধরা পড়েনি কেউ, আতঙ্কে অধ্যক্ষের পরিবার

দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর কলেজের অধ্যক্ষ জিতেশচন্দ্র চাকির বাড়িতে হামলার পরে কেটে গিয়েছে ২৪ ঘন্টা। দুষ্কৃতীরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন অধ্যক্ষের পরিবার। বুধবার বাড়িতে হামলার সময়ে জিতেশবাবুর স্ত্রী চন্দনাদেবী বাড়িতে একাই ছিলেন। ঘটনার পরেও অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি।

গৌর আচার্য

শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০১৫ ০৩:৩৬
জিতেশবাবু।

জিতেশবাবু।

দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুর কলেজের অধ্যক্ষ জিতেশচন্দ্র চাকির বাড়িতে হামলার পরে কেটে গিয়েছে ২৪ ঘন্টা। দুষ্কৃতীরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন অধ্যক্ষের পরিবার।

বুধবার বাড়িতে হামলার সময়ে জিতেশবাবুর স্ত্রী চন্দনাদেবী বাড়িতে একাই ছিলেন। ঘটনার পরেও অভিযুক্তরা গ্রেফতার না হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই দম্পতি।

বুধবার বুনিয়াদপুর কলেজে টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পরীক্ষার্থীদের একাংশ অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। অধ্যক্ষের বাড়িও কালিয়াগঞ্জে। চন্দনাদেবীকেও গালিগালাজ করে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রাতেই জিতেশবাবু থানায় নাম না করে কালিয়াগঞ্জ কলেজের কিছু ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। হামলার পর থেকে দুপুর থেকে জেলা পুলিশের তরফে জিতেশবাবুর বাড়ির সামনে পাহারা বসানো হয়েছে।

তাতেও স্বস্তি পাচ্ছেন না চন্দনাদেবী তিনি বলেন, ‘‘স্বামী সারা দিন বাড়িতে থাকেন না। একা বাড়িতে থাকি। দুষ্কৃতীদের পুলিশ এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার না করায় খুব আতঙ্কে রয়েছি।’’ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ ওয়াকার রেজার অবশ্য দাবি, ‘‘অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তরা আপাতত ফেরার।’’

বৃহস্পতিবার দুপুরে জিতেশবাবুকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। প্রতিদিনের মতো এদিনও সকালে তিনি বুনিয়াদপুর কলেজে চলে যান। গত বুধবার বাড়িতে পড়া পাথর জড়ো করে রেখেছেন চন্দনাদেবী। জিতেশবাবু বলেন, ‘‘হামলার পরে অনেকটা সময় কেটে গিয়েছে। পুলিশ দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করতে পারল না। ফলে আতঙ্ক তো রয়েইছে।’’

তাঁর অভিযোগ, হামলার পরে কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়া সন্দেহভাজন কয়েক জনকে আটক করেও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরে জেরা করলেই অভিযুক্তদের নাগাল পাওয়া যেত বলে তাঁর দাবি।

বুধবার প্রথমার্ধে বুনিয়াদপুর কলেজে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ট ওয়ানের পাস কোর্সের দর্শনের তৃতীয় পত্রের পরীক্ষা ছিল। কালিয়াগঞ্জ কলেজের পড়ুয়াদের আসন ওই কলেজে পড়েছিল। অভিযোগ, ওই দিন বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত প্রথমার্ধের পরীক্ষা চলাকালীন পরীক্ষার্থীদের একাংশ টোকাটুকির চেষ্টা করে। কিন্তু অধ্যক্ষ জিতেশবাবু সহ কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের তৎপ়রতায় সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয়ার্ধের পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধ ঘন্টা আগে সাড়ে তিনটে নাগাদ কালিয়াগঞ্জ কলেজের একদল পড়ুয়া তথা বুনিয়াদপুর কলেজের পরীক্ষার্থী মুখে রুমাল বেঁধে জিতেশবাবুর বাড়িতে যথেচ্ছ পাথর ছুড়ে চারটি জানালার কাচ ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার অবশ্য কলেজে সুষ্ঠুভাবেই পরীক্ষা হয়েছে বলে অধ্যক্ষ জিতেশবাবু জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমাকে যতই ভয় দেখানোর চেষ্টা হোক, কোনওমতেই আমি পরীক্ষাতে টোকাটুকি হতে দেব না।’’

কালিয়াগঞ্জের পড়শিরাও পাশে দাঁড়িয়েছেন জিতেশবাবুর। হাইস্কুল শিক্ষক বিজন সাহা ও স্থানীয় কংগ্রেস কাউন্সিলর মায়া দে সরকার বলেন, ‘‘ভবিষ্যতে এরকম ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে পুলিশের উচিত নিরপেক্ষ তদন্ত করে অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার করা।’’

হামলার ঘটনাতে জড়িয়েছে ছাত্র রাজনীতিও। কালিয়াগঞ্জ ও বুনিয়াদপুর কলেজ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের(টিএমসিপি) দখলে রয়েছে। টিএমসিপির জেলা সভাপতি অজয় সরকারের অবশ্য দাবি, ‘‘অধ্যক্ষের বাড়িতে হামলার পিছনে টিএমসিপির কোনও সমর্থক যুক্ত নন। টোকাটুকিতে বাধা পেয়ে সাধারণ পড়ুয়ারাই জিতেশবাবুর বাড়িতে হামলা চালিয়ে থাকতে পারে।’’ তবে ছাত্র পরিষদের জেলা সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষ ও এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদক প্রাণেশ সরকার এদিন পৃথকভাবে হামলার জন্য টিএমসিপির বিরুদ্ধেই পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন।

—নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy