Advertisement
E-Paper

প্রেমে বাঁধনহারা

এক সঙ্গে থাকতে চাওয়া মানেই কি বিয়ে? কানাকড়ির হিসেব ছাড়তে রাজি থাকলে কিন্তু অন্য ভাবেও থাকা যায়। জানাচ্ছেন আইনজীবী দেবাশিস মল্লিক চৌধুরী।এক সঙ্গে থাকতে চাওয়া মানেই কি বিয়ে? কানাকড়ির হিসেব ছাড়তে রাজি থাকলে কিন্তু অন্য ভাবেও থাকা যায়। জানাচ্ছেন আইনজীবী দেবাশিস মল্লিক চৌধুরী।

শেষ আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৩৯

সংসার কথাটার পরে যে শব্দটা সবচেয়ে লাগসই, সেটা ‘বন্ধন’। সেই বাঁধনে ধরা না দিয়েও যাঁরা প্রেমের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন, ছকে বাঁধা সংসার না করে বেছেছেন ‘লিভ টুগেদার’, তাঁরা কতটা সুরক্ষিত? কতটা বঞ্চিত বিবাহিত দম্পতিদের তুলনায়? খানিক অন্য সুবিধেও কি নেই?

পরিষ্কার করে নেওয়া ভাল, এ দেশে পুরুষ-নারীর বিয়েই যুগলের সম্পর্কের এক মাত্র বৈধ স্বীকৃতি। তার বাইরে যাওয়া মানে, আইন যে রক্ষাকবচ দেয় তার অনেকটা ছাড়তে রাজি হওয়া।

দাও ছেড়ে দাও ছেড়ে

স্বামী বা স্ত্রীর মর্যাদা না থাকা মানে ছাড়তে হবে—

• বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খোরপোষ (বিশেষ ক্ষেত্র বাদে)

• কর্মরত সঙ্গীর মৃত্যুর ক্ষেত্রে চাকরির দাবি

• মৃত সঙ্গীর সম্পত্তিতে আইনি উত্তরাধিকার

• বধূ নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮ (এ) ধারায় বিশেষ রক্ষাকবচ পাবেন না মহিলা

সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে

বিয়ের বাইরে এই সম্পর্ক আইনে ‘অবৈধ’ হলেও তার জেরে ভূমিষ্ঠ সন্তানটি ফেলনা নয়। বিবাহিত দম্পতির সন্তানের সঙ্গে তার অধিকারে ফারাক নেই।

• স্কুলে-কলেজে ভর্তি হতে তার কোনও বাধা নেই। শিক্ষার অধিকার আইনে সে সুরক্ষিত। জৈবিক বাবা-মা দু’জনেরই, চাইলে যে কোনও এক জনকে অভিভাবক হিসেবে দেখিয়ে তাকে ভর্তি করানো যেতে পারে।

• জৈবিক বাবা-মায়ের মৃত্যুর ক্ষেত্রে সে স্বাভাবিক ভাবেই সম্পত্তির ভাগ পাবে। যদি সেই বাবা-মায়ের অন্য কোনও বিবাহিত সম্পর্কে ‘বৈধ’ সন্তান থাকেও, তার অধিকার হবে একেবারে সমান।

• বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে সন্তানের দেখভাল এবং মেয়ের বিয়ের খরচ বহন করতে হবে জৈবিক বাবাকে (যদি সে বাবার সঙ্গে থাকে এবং মা রোজগেরে হন, তবে মাকেও)। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও বিবাহ বিচ্ছেদের সাধারণ নিয়মই বলবৎ হবে।

পড়ে পাওয়া চোদ্দো আনা

আইনের সিলমোহর নেই মানে সবই যে গেল, তা কিন্তু নয়। বরং কিছু বাড়তি সুবিধা আছে—

• না পোষালে বিবাহ বিচ্ছেদের হ্যাপা নেই। বিশেষ করে, এক সঙ্গে আর থাকতে ভাল না লাগা বা সম্পর্ক মরে যাওয়া যে দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের ষথেষ্ট কারণ বলে গ্রাহ্য হয় না (নির্যাতন বা কলহ-জাতীয় কোনও কারণ দেখাতে হয়), সেখানে আইনি ঘোরপ্যাঁচ কাটিয়ে যেতে পারা স্বস্তির, সন্দেহ নেই।

• বধূ নির্যাতনের রক্ষাকবচ নেই ঠিকই, কিন্তু ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস করা হলে ধর্ষণের মামলা রুজু করার রাস্তা খোলা আছে। যে দেশে স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীকে ধর্ষণের নালিশ আজও গ্রাহ্য নয়, সেখানে এটা কম নিরাপত্তা নয়।

• বিবাহিতারা শ্বশুরবাড়িতে যে আইনে বিশেষ রক্ষাকবচ পান, সেই ‘ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স অ্যাক্ট’-এর সুবিধা পাবেন ‘লিভ টুগেদার’ করা মহিলারাও। পারিবারিক হিংসার ক্ষেত্রে বিয়ে হওয়া বা না হওয়াটা শর্ত নয়।

• প্রায় স্বামী-স্ত্রীর মতো দীর্ঘদিন ‘লিভ টুগেদার’ করছেন যে যুগলেরা, তাঁদের দম্পতির সমান আইনি মর্যাদা দেওয়ার কথাই সম্প্রতি বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সে ক্ষেত্রে, সঙ্গীর মৃত্যুতে তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকার যেমন পাওয়া সম্ভব, বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে খোরপোষ পাওয়াও ন্যায়সঙ্গত।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy