Advertisement
E-Paper

পুরভোটের মুখে ট্যাক্সিচালকদের তোয়াজ মদনের

কম বয়সি, তরতাজা যুবকদের নিয়ে শাসক দলের ট্যাক্সি ইউনিয়ন ঢেলে সাজার কথা ঘোষণা করলেন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র। প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই, সিটু-সহ বিরোধী ট্যাক্সিচালকদের আন্দোলন মোকাবিলা করা। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা ভোটের ঠিক আগে ট্যাক্সি ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার চেষ্টা বলেও মনে করছেন তৃণমূলের একাংশ। রবিবার তৃণমূলের প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সিমেনস ইউনিয়নের সভায় বক্তৃতা দিতে এসে মদনবাবু ট্যাক্সি ইউনিয়নের কমিটি ভেঙে দেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৪ ০২:৪৯
তৃণমূলের প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সিমেনস ইউনিয়নের সভায় মদন মিত্র। রবিবার।  নিজস্ব চিত্র

তৃণমূলের প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সিমেনস ইউনিয়নের সভায় মদন মিত্র। রবিবার। নিজস্ব চিত্র

কম বয়সি, তরতাজা যুবকদের নিয়ে শাসক দলের ট্যাক্সি ইউনিয়ন ঢেলে সাজার কথা ঘোষণা করলেন পরিবহণমন্ত্রী মদন মিত্র। প্রথম লক্ষ্য অবশ্যই, সিটু-সহ বিরোধী ট্যাক্সিচালকদের আন্দোলন মোকাবিলা করা। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভা ভোটের ঠিক আগে ট্যাক্সি ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার চেষ্টা বলেও মনে করছেন তৃণমূলের একাংশ।

রবিবার তৃণমূলের প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সিমেনস ইউনিয়নের সভায় বক্তৃতা দিতে এসে মদনবাবু ট্যাক্সি ইউনিয়নের কমিটি ভেঙে দেন। একই সঙ্গে তাঁর নেতৃত্বে নতুন কমিটি ঘোষণা করেন তিনি। তাতে তিনি ছাড়াও রয়েছেন, শুভাশিস চক্রবর্তী, শম্ভুনাথ দে, শক্তি মণ্ডল, সুধা সাহা এবং খগেন দাস। এখানেই শেষ নয়, শাসক দলের ট্যাক্সি ইউনিয়নকে জনপ্রিয় করে তুলতে একগুচ্ছ আর্থিক পুরস্কারের কথাও ঘোষণা করেন পরিবহণমন্ত্রী। যেমন, ১০ হাজার ট্যাক্সিচালককে ইউনিফর্ম বিলি করাবে প্রোগ্রেসিভ ইউনিয়ন। পাশাপাশি, ধর্মঘটে যে সব গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে, তাদের সরকারের তরফে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করারও এ দিন আশ্বাস দেন মদনবাবু। এরই সঙ্গে তাঁর ঘোষণা, বিরোধী ট্যাক্সিচালকদের ডাকা লাগাতার ধর্মঘটে যাঁরা গাড়ি বের করতে পারেননি, প্রোগেসিভের তরফে তাঁদের পাঁচশো টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

গত ৯ অগস্ট থেকে পুলিশি জুলুম বন্ধ করা ও ভাড়া বাড়ানো-সহ নানা দাবিতে সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলন শুরু করেছে সিটু, আইএনটিইউসি, এআইটিইউসি, বিএমএস-সহ রাজ্যের বিরোধী দলগুলির শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ট্যাক্সিচালকরা। এই আন্দোলনের জেরে শহরে বেশ কয়েক দিন ট্যাক্সি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। শাসক দলের ইউনিয়নের নেতৃত্বে থাকা পরিবহণমন্ত্রী একাধিক বার ঘোষণা করেছিলেন, তাঁদের ইউনিয়নের ট্যাক্সি রাস্তায় নেমে ধর্মঘটের মোকাবিলা করবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। উল্টে, শাসক দলের সমর্থক ট্যাক্সিচালকদের অনেকেও বিরোধীদের ডাকা ধর্মঘট ও অন্যান্য কর্মসূচি যোগ দিয়েছেন।

প্রোগ্রেসিভ ইউনিয়নের নেতৃত্বের একাংশের বক্তব্য, সম্প্রতি পরিবহণমন্ত্রীর সঙ্গে ট্যাক্সিমালিক সংগঠন বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ)-র সম্পর্কেরও অবনতি হয়েছে। বিরোধী বিটিএ-র সঙ্গে হাত মিলিয়ে ট্যাক্সিচালকরা নবান্ন অভিযানের তোড়জোড় শুরু করেছেন। এই অবস্থায় বিরোধীদের আন্দোলনের মোকাবিলায় নিজেদের ঘর গোছানোর কাজ শুরু করলেন পরিবহণমন্ত্রী। এ দিন তিনি বলেন, “কমবয়েসি, তরতাজা যুবকদের নিয়ে তৃণমূলের নতুন কমিটি তৈরি করা হবে। শহরের প্রতিটি বুথ পর্যন্ত কমিটি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

তৃণমূলের একাংশের বক্তব্য, আজ, সোমবার কলকাতা পুরসভার আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দলের নীতি ঠিক করতে বৈঠকে বসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার ঠিক আগেই বুথ-পিছু ট্যাক্সিচালক ইউনিয়নের কমিটি তৈরির ঘোষণা ওই নির্বাচনের দিক দিয়েও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এ নিয়ে মদনবাবু নিজে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে সিটুর দাবির মোকাবিলায় এ দিন ভাড়া বাড়ানো নিয়েও পরোক্ষে ট্যাক্সিচালকদের আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, আগামী ৩ ডিসেম্বর ট্যাক্সিচালকদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনায় বসবে সরকার।

পরিবহণমন্ত্রীর এ দিনের সভায় যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও আসেননি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। সম্প্রতি পরিহণমন্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়িয়ে পড়ার পরে বিটিএ দ্বারস্থ হয়েছিল মুকুল রায়ের। মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা না করেই তিনি আলাদা ভাবে বৈঠক করে ট্যাক্সিমালিকদের দাবিদাওয়ার ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করার আশ্বাস দেন। মুকুলবাবু না আসায় এ দিনও ফের সেই বিতর্ক উঠে আসে। পরিবহণমন্ত্রীর অবশ্য বক্তব্য, “মুকুল বা আমি আলাদা নই। আমাদের দু’জনেরই এক জনই নেত্রী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।”

progressive taximens union madan mitra kolkata corporation vote
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy