ব্যান্ডেল আইটিআই থেকে ধৃত তিন নিরাপত্তারক্ষী প্রশ্ন ফাঁস চক্রে জড়িত, সন্দেহ করছে রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের একজন ওই কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সম্পাদক রোশন সিংহ। তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের নাম জড়ানোয় আইটিআই প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকার অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, স্বীকার করছেন সিআইডি কর্তাদের একাংশ। টিএমসিপি অবশ্য দাবি করেছে, গত তিন বছর রোশনের সঙ্গে দলের সম্পর্ক ছিল না।
রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের এক কর্তা বলেন, ‘‘আইটিআইয়ের প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে ওই তিনজন যুক্ত কিনা, পুলিশ তদন্ত করছে।’’ তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। গত ২৮ জুন আইটিআইয়ের প্রবেশিকা প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাওয়ার জেরে ওই পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায়। কারিগরি শিক্ষা দফতরের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা হয় রাজ্যে জুড়ে। তদন্তের ভার পায় সিআইডি। সেই তদন্তের সূত্রে সম্প্রতি ব্যান্ডেলের নেতাজি পার্ক এলাকা থেকে পুলিশ রোশনকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। ওই অস্ত্র কীভাবে তার হাতে এল, খোঁজ করে পুলিশ জানতে পারে, অন্য দুই নিরাপত্তারক্ষী এতে যুক্ত। সেই সূত্রে পুলিশ দীপক প্রসাদ এবং সোমনাথ দাসকে গ্রেফতার করে।
রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশের কর্তারা জানাচ্ছেন, ছাত্র সংগঠনের নেতা হিসেবে ব্যান্ডেল আইটিআই-তে কার্যত মৌরসিপাট্টা ছিল রোশনের। কাজের সূত্রে সেখানেই বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তারক্ষী হিসেবে সে জাঁকিয়ে বসে। রাজনৈতিক প্রভাব, ও নিরাপত্তারক্ষী হওয়ার সুবিধের জন্য প্রশ্নপত্র ফাঁসের সুযোগ সে ধীরে ধীরে প্রস্তুত করেছিল কিনা, খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। শাসকদল অবশ্য রোশনের সংস্রব এড়াতে চাইছে। টিএমসিপি-র এক শীর্ষ নেতা বলেন, ‘‘ধৃত ছেলেটি তিন বছর আগে আমাদের ব্যান্ডেল ইউনিটের দায়িত্বে ছিল। তবে ও এখন দলের কেউ নয়।’’ সিপিএমের হুগলি-চুঁচুড়া জোনাল কমিটির সম্পাদক মনোদীপ ঘোষ বলেন, ‘‘রাজ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে নৈরাজ্য ঘটে চলেছেই। চক্রীরা সাজা পাক।’’