Advertisement
E-Paper

বিধায়ক হবেন, শুভেন্দুকে খোঁচা অধীরের

তাঁর গড়ে কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দুর খাসতালুকে এসে তৃণমূল সাংসদকেই নিশানা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

আনন্দ মণ্ডল

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০৪:০২
নন্দীগ্রামে মিছিলের পুরভাগে অধীর চৌধুরী। বুধবার। —নিজস্ব চিত্র

নন্দীগ্রামে মিছিলের পুরভাগে অধীর চৌধুরী। বুধবার। —নিজস্ব চিত্র

তাঁর গড়ে কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই শুভেন্দুর খাসতালুকে এসে তৃণমূল সাংসদকেই নিশানা করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

দীর্ঘ সাড়ে আট বছর পরে বুধবার নন্দীগ্রামের মাটিতে মিছিল ও সভা করেন অধীর। সেখানেই শুভেন্দুর নাম না করে বহরমপুরের সাংসদের কটাক্ষ, ‘‘আগে দেখেছি পুলিশ অফিসারেরা মুর্শিদাবাদে গেলে পরে তাঁদের পদোন্নতি হত। কিন্তু এখন তৃণমূল নতুন নিয়ম চালু করেছে। দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের কোনও নেতা মুর্শিদাবাদে গেলে তাঁদের ‘ডিমোশন’ (পদাবনতি) হচ্ছে। ছিলেন সাংসদ। এখন তাঁকে এখান (নন্দীগ্রাম) থেকে বিধায়ক করা হবে।’’

ক’দিন আগেই নন্দীগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, বিধানসভা ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দুকে জিতিয়ে মন্ত্রী করা হবে। সেই প্রসঙ্গ টেনেই অধীর বিঁধেছেন তমলুকের সাংসদকে। নন্দীগ্রামের আন্দোলন থেকে প্রভাবশালী হয়ে উঠে আসা সাংসদ শুভেন্দুই এখন মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক। অধীরের জেলায় কংগ্রেসে ভাঙন ধরিয়ে তৃণমূলের শক্তি বাড়ানোর মূল দায়িত্বই তাঁর। গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিতে জয়ের পরে সম্প্রতি কান্দি পুরসভায় ভাঙন ধরিয়ে সফলও হয়েছেন শুভেন্দু। ফলে, শুভেন্দুর ডেরায় গিয়ে অধীর তাঁকেই নিশানা করেছেন বলে জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের ধারণা।

অধীরকে পাল্টা কটাক্ষে শুভেন্দুর বক্তব্য, ‘‘এটা দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তৃণমূলের কে, কোন পদ পাবে তা নিয়ে অধীরবাবুর মাথা ঘামানোর দরকার নেই। ওঁকে পরামর্শ দেব, কংগ্রেসের সাইনবোর্ডটা রক্ষা করুন।’’

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি মনে করিয়ে দিয়েছেন, নন্দীগ্রাম-পর্বে একসঙ্গে আন্দোলন করলেও তৃণমূল জমানায় আন্দোলনের এই মাটিতে সভা করারই অনুমতি পায়নি তাঁর দল। অধীরবাবুর কথায়, ‘‘আগেই এখানে সভা করব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। কিন্তু এখানে প্রশাসন অনুমতি দেয়নি। জমি রক্ষা আন্দোলনের সময় আগেও নন্দীগ্রামে এসেছি। তাই প্রশাসনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই এ বারও নন্দীগ্রামে এসেছি।’’ এ দিনের সভা ও মিছিলের অনুমতি অবশ্য আগেই মিলেছিল।

এ দিন দুপুরে নন্দীগ্রামের টেঙ্গুয়া মোড় থেকে মিছিল শুরু করেন অধীর। প্রায় দু’কিলোমিটার পাকা সড়ক ধরে হেঁটে নন্দীগ্রাম বাজারের কাছে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বাইপাস মোড়ে মিছিল শেষে সভায় প্রায় আড়াই হাজার মানুষ ছিলেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে অধীর বলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী নন্দীগ্রামের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন। যে সব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা রক্ষা করেননি।’’ অধীর মনে করিয়ে দেন, নন্দীগ্রামে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হয়নি, বাজকুল থেকে নন্দীগ্রাম ট্রেনও চলেনি। উল্টে নন্দীগ্রামে জমিরক্ষা আন্দোলনের সময় নিরীহ গ্রামবাসীর উপর যে সব পুলিশ অফিসার গুলি চালিয়েছিলেন, তাঁদের পদোন্নতি হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy