১০০ দিনের প্রকল্পে রাস্তা তৈরির কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছে তৃণমূল। এমনই অভিযোগ তুলল প্রশাসন। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজের সামনে ১০০ দিনের প্রকল্পে কলেজে ঢোকার জন্য ওই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু রবিবার সকাল থেকেই তৃণমূলের নেতৃত্বে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার দাবিতে অবরোধ শুরু করেন কয়েকশো মহিলা। বিডিও এসে গ্রেফতারের হুমকি দিলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া দূরের কথা, আরও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে কাজ স্থগিত করে দেওয়া হয়।
প্রশাসন মাপজোক না করেই এক গরিব বাসিন্দার রায়তি সম্পত্তি দখল করে কাজ করছিল বলে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে। প্রশাসনের পাল্টা দাবি, কলেজের অদূরে একটি টিনের চালাঘরে মদের ঠেক চলছিল। সেখান থেকে মদের বোতলও উদ্ধার করা হয়। সেই নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়াতেই বাসিন্দাদের একাংশ অশান্তি বাধাতে চাইছে। ওই ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসন ও তৃণমূল নেতাদের চাপানউতোরে সকাল ১১টা থেকেই কলেজের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
চাঁচলের মহকুমাশাসক জয়ন্ত মণ্ডল জানান, ওখানে পুরনো একটা নালা রয়েছে। নালা কারও রায়তি সম্পত্তি হতে পারে না। তার পাড় ধরে নালার মাটি কেটে তাই কলেজে ঢোকার রাস্তা তৈরি করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘‘কিন্তু সেই রাস্তার পাশেই একটি ঘরে মদের ঠেকের হদিস মেলে। সেটা কারও জমি হতে পারে। তাই বলে কলেজের সামনে কেউ মদের ঠেক চালানোটা তো অন্যায়! যাই হোক, জেলা প্রশাসনকে সব জানিয়েছি। আপাতত কাজ স্থগিত রাখা হয়েছে।’’
প্রশাসন, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা যায়, এখন রাজ্য সড়ক থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর কলেজে এক বাসিন্দার জমির উপর দিয়ে যাতায়াত করেন বাসিন্দারা। পিছন দিক দিয়ে অন্য একটি রাস্তা অবশ্য রয়েছে, তবে তা অনেকটাই ঘুর পথ। ফলে রাজ্য সড়ক থেকে মাত্র ৮০ মিটার দূরে সোজা কলেজে ঢোকার জন্য বিকল্প রাস্তা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়। দিন কয়েক আগে ১০০ দিনের প্রকল্পে ওই রাস্তা তৈরির কাজ শুরু করে প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাস্তার কাজ শুরু হওয়ার আগে নিজেই বিডিওকে নিয়ে এলাকায় যান মহকুমাশাসক। সেখানে গিয়ে কলেজের অদূরে একটি টিনের চালাঘর দেখতে পান। সেখানে মদের ঠেক বসে বলে জানা গেলে প্রশাসনের নির্দেশে ঘরটি সিল করে দেওয়া হয়। তার পর রাস্তার কাজ শুরু করে প্রশাসন। ওই সময় এক বাসিন্দা বাধা দেওয়ায় প্রশাসনের নির্দেশে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেফতারও করে।
চাঁচলের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘যে ঘরে মদের ঠেক চলে বলে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
তৃণমূলের অভিযোগ, কলেজে যাওয়ার রাস্তা হোক আমরাও চাই। কিন্তু ফুলকুমার দাস নামে এক বাসিন্দার জমি দখল করে ওই কাজ করা হচ্ছে। তিনি মাপজোক করার দাবি জানানোয় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এ দিনও একই দাবি জানানো হলে তাতে গুরুত্ব না দিয়ে প্রশাসনের তরফে উল্টে গ্রেফতারের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তাদের দাবি, টিনের যে চালাঘরে মদের ঠেক চলে বলা হচ্ছে, তা অন্য এক বাসিন্দার। তার সঙ্গে ফুলকুমারের কোনও সম্পর্ক নেই। এর পরেই এলাকার মহিলারা দল বেঁধে শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন।
হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিকাশ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কোথায় কে মদের ঠেক চালাচ্ছে তা নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। কিন্তু গরিব মানুষের জমি প্রশাসন দখল করবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই মাপজোক করা না পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়।’’